নেপালে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বিধ্বংসী বন্যায় একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা পড়া প্রায় ১০০ মানুষকে উদ্ধারে শুক্রবার (আগস্ট ২৮) অভিযান শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার টিম।
Manual4 Ad Code
ভয়াবহ এই ঘটনার দুই দিন পর উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।
Manual5 Ad Code
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজারাম বাসনেত এএফপিকে বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে আটকে পড়া মানুষদের খুঁজে বের করা ও উদ্ধার করা। ত্রিশূলি ৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে কিছু মানুষ আটকা পড়েছেন।
তিনি আরও বলেন, দুটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে। কিন্তু সুড়ঙ্গের প্রবেশপথগুলো খুঁজে পাওয়াও অত্যন্ত কঠিন হওয়ায় এটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া মানুষের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে ত্রাণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।
নেপালে ফের বন্যার আতঙ্ক: রুদ্ধ হ্রদ কী এবং এটি ভাঙলে কতটা ভয়াবহ হতে পারেনেপালে ফের বন্যার আতঙ্ক: রুদ্ধ হ্রদ কী এবং এটি ভাঙলে কতটা ভয়াবহ হতে পারে
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয় যে, অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে কাজ করছে সেনাবাহিনী। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিকূল আবহাওয়া ও তীব্র গতিসম্পন্ন বানের পানির মধ্যেও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি মোকাবিলা করে সেনাসদস্যদের একটি দল সুড়ঙ্গে আটকে পড়া ৩৫০ জন শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে। এতে আরও জানানো হয়, একই সুড়ঙ্গে আটকে থাকা আরও শতাধিক মানুষকে নিরাপদে বের করে আনতে সেনাবাহিনী এখনও কাজ করে যাচ্ছে। তবে উদ্ধার হওয়া বা আটকে থাকা ব্যক্তিদের জাতীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
Manual1 Ad Code
এদিকে ত্রিশূলি উপত্যকার অন্যান্য বাঁধ প্রকল্প থেকে উদ্ধার হওয়া শ্রমিকেরা জানান, দুর্যোগটি দ্রুত গতিতে আঘাত হানে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে আকাশপথে উদ্ধার হওয়া দেব শ্রেষ্ঠ নামের এক শ্রমিক এএফপিকে বলেন, প্রকল্প এলাকায় অন্তত ৪০০ শ্রমিক ছিলেন। যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
তিব্বতে বাঁধে ফাটল, নতুন প্লাবনের সতর্কতা নেপালেরতিব্বতে বাঁধে ফাটল, নতুন প্লাবনের সতর্কতা নেপালের
অর্জুন কুমার তামাং নামে অপর এক শ্রমিক যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ছিলেন, সেখানকার ‘ব্যাপক ক্ষতির’ কথা উল্লেখ করে বলেন, কতজন মানুষ মারা গেছেন তা আমি জানি না, তবে পানির স্রোত সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে প্রচুর পরিমাণে বরফাচ্ছন্ন ধ্বংসাবশেষের তীব্র প্রবাহ তৈরি হওয়ার কারণে গত বুধবার এই বিপর্যয় ঘটে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হিমবাহ গলে যাচ্ছে, যা হিমবাহের হ্রদ ভাঙা বন্যা এবং হিমবাহ ধসের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।