আজ বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীন-ভারত সীমান্ত ইস্যুতে বেইজিংয়ে ওয়াং ই-দোভাল বৈঠক

editor
প্রকাশিত আগস্ট ২৬, ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ণ
চীন-ভারত সীমান্ত ইস্যুতে বেইজিংয়ে ওয়াং ই-দোভাল বৈঠক

Manual1 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

Manual2 Ad Code

চীন ও ভারত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং বিশ্বের প্রধান উন্নয়নশীল দেশ ও উদীয়মান অর্থনীতির প্রতিনিধি। দুই দেশের সম্পর্কের সুস্থ ও স্থিতিশীল উন্নয়ন উভয় দেশের জনগণের মৌলিক স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি গ্লোবাল সাউথের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষাও পূরণ করে। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বেইজিংয়ে চীন-ভারত সীমান্ত বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৫তম বৈঠকে এসব কথা বলেন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনের কার্যালয়ের পরিচালক ওয়াং ই।

বৈঠকে চীন-ভারত সীমান্ত ইস্যু ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ব্যাপক, গভীর, বন্ধুত্বপূর্ণ ও খোলামেলা আলোচনা করেন ভারতের বিশেষ প্রতিনিধি ও দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত কুমার দোভাল।

Manual8 Ad Code

ওয়াং ই বলেন, চীন-ভারত সম্পর্কের গুরুত্ব দ্বিপক্ষীয় পরিসর ছাড়িয়ে বৈশ্বিক ও কৌশলগত তাৎপর্য বহন করে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কাজান ও থিয়েনচিনে দুইবার সাক্ষাৎ করেছেন এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।

ওয়াং ই বলেন, চীন কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করতে, পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে, মতপার্থক্য দূর করতে এবং বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করতে ইচ্ছুক। দুই দেশকে সুপ্রতিবেশী, বন্ধুত্বপূর্ণ ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদার হিসেবে গড়ে তুলে সম্প্রীতিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

ওয়াং ই আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতা পুনরায় শুরু হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, দুই পক্ষের উচিত অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সম্পর্কের সামগ্রিক কাঠামোর মধ্যে সীমান্ত ইস্যুকে যথাযথ অবস্থানে রাখা।

ওয়াং ই বলেন, চীন-ভারত সীমান্ত ইস্যুতে ধীরে ধীরে একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে সংলাপ, শান্তি, আলোচনা ও সহযোগিতা প্রধান ধারা হয়ে উঠবে।

দোভাল বলেন, ভারত ও চীন দুই দেশই প্রাচীন সভ্যতা, বিপুল জনসংখ্যা এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তির অধিকারী। তাই দুই দেশকে অংশীদার হিসেবে দেখা উচিত, প্রতিযোগী হিসেবে নয়। দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল, পূর্বানুমানযোগ্য ও দূরদর্শী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা জনগণের অভিন্ন স্বার্থের পাশপাশি এশিয়া ও বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় ভারত-চীন সম্পর্ক সঠিক পথে ফিরেছে। সীমান্ত এলাকায় সামগ্রিক শান্তি বজায় রয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও সহযোগিতা ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে।

দোভাল জানান, সীমান্ত এলাকা কার্যকরভাবে পরিচালনা এবং সীমান্ত ইস্যুর সমাধানের পথ অনুসন্ধানে চীনের সঙ্গে কাজ করতে ইচ্ছুক ভারত।

বৈঠকে দুই পক্ষ সীমান্ত নির্ধারণ সংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে নেওয়া, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা বাড়ানো নিয়ে গভীর মতবিনিময় করে।

Manual4 Ad Code

২০০৫ সালে গৃহীত রাজনৈতিক নির্দেশিকা অনুসরণ করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করে দুই পক্ষ। এ ছাড়া, ২০২৭ সালে ভারতে চীন-ভারত সীমান্ত বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিদের ২৬তম বৈঠক আয়োজনের বিষয়ে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।

সূত্র: সিএমজি

Manual7 Ad Code