আজ বৃহস্পতিবার, ৮ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই

editor
প্রকাশিত অক্টোবর ৮, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

বহর আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক আকাশপথ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের বোয়িংনির্ভরতা কাটিয়ে প্রথমবারের মতো বিমানের বহরে প্রবেশ করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় এই ব্র্যান্ডটি। গতকাল বুধবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

Manual8 Ad Code

অনুষ্ঠানে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কাইজার সোহেল আহমেদ। তবে ১০টি উড়োজাহাজ ক্রয়ের মোট আর্থিক মূল্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তির আওতায় চারটি দীর্ঘ পাল্লার ওয়াইড-বডি ‘এ৩৫০-৯০০’ এবং ছয়টি মাঝারি ও আঞ্চলিক রুটের ন্যারো-বডি ‘এ৩২১নিও’ মডেলের উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে বিমান। নতুন এসব উড়োজাহাজের সরবরাহ ২০৩৩ সাল থেকে শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

Manual2 Ad Code

বর্তমানে বিমানের বহরে থাকা ১৯টি সক্রিয় উড়োজাহাজের মধ্যে ১৪টিই মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের তৈরি এবং বাকি পাঁচটি ড্যাশ-৮ মডেলের। এয়ারবাসের সঙ্গে চুক্তির আগে চলতি বছরেই দুই দফায় বোয়িংয়ের সঙ্গে আরও ২৫টি নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তি করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে ১৪টি এবং গত ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আরও ১১টি বোয়িং কেনার সমঝোতা হয়। সব মিলিয়ে বোয়িংয়ের ২৫টি এবং এয়ারবাসের ১০টি উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হলে বিমানের নতুন উড়োজাহাজের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৫টিতে (১৯টি ওয়াইড-বডি ও ১৬টি ন্যারো-বডি)। পুরোনো উড়োজাহাজগুলো পর্যায়ক্রমে অবসরে গেলেও ভবিষ্যতে বিমানের বহর অর্ধশত ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ২০৩৩ সালে সরবরাহ শুরুর মধ্যবর্তী সময়ে পরিচালন সক্ষমতার ঘাটতি মেটাতে আরও ১০টি উড়োজাহাজ ভাড়ায় (লিজ) সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে নতুন বহর সামলাতে বৈমানিক ও প্রকৌশলীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।

Manual7 Ad Code

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক এভিয়েশন হাবে রূপান্তর করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করতে এয়ারবাসের সঙ্গে এই চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’ এয়ারবাসের প্রতিনিধি জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার জানান, দ্রুত বিকাশমান বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের অংশীদার হতে পেরে তাঁরা আনন্দিত এবং নতুন মডেলের এ উড়োজাহাজগুলো বিমানের যাত্রীসেবার মান ও পরিচালন দক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

চুক্তিটিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি মন্তব্য করেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির কাতারে পৌঁছানো এবং ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের এমন আধুনিকায়ন কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারাহ কুক আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব গড়ে তোলার কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান। এ ছাড়া ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উল্লেখ করেন, এই চুক্তির ফলে উড়োজাহাজ ক্রয়ের বাইরেও দেশে বিশ্বমানের রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সুএঃ ইত্তেফাক

Manual8 Ad Code