রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ম্যুরালে কালো রঙের কালি, মুছে দিল প্রশাসন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ম্যুরালে কালো রঙের কালি, মুছে দিল প্রশাসন
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ৫, ২০২৫, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
Manual7 Ad Code
টাইমস নিউজ
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ম্যুরালে কালো রঙের কালি লাগিয়ে ঢেকে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ওই ম্যুরালের নিচে লেখা নামও বিকৃত করেছে দুর্বৃত্তরা। এমন একটি ছবি দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
Manual5 Ad Code
বিষয়টি নজরে আসার পর গতকাল শুক্রবার দুপুরে সেই কালি মুছে দিয়েছে কুমারখালী উপজেলা প্রশাসন। কালি মুছে ম্যুরাল আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ঈদের ছুটির ভেতর দুই দিন আগে হয়তো এই ঘটনা ঘটেছে। আজ দুপুরে কালি রিমুভ (মুছে) করা হয়েছে।’
উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী আঞ্চলিক মহাসড়কে কুমারখালী উপজেলা সীমানা শুরুর স্থান সদকী ইউনিয়নের হিজলাকর এলাকায় ২০১৫ সালের দিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ম্যুরাল স্থাপন করে উপজেলা পরিষদ। দুই দিন আগে ম্যুরালে থাকা কবির ছবির মুখমণ্ডল কালো রঙে ঢাকা দেখা যায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নামের বানান দুটিও বিকৃতি করা হয়। সেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা থাকলেও তা অকেজো। ম্যুরালে কালি লাগানো একটি ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে এ ব্যাপারে প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করেন কুমারখালীর বাসিন্দা কয়েকজন কবি-সাহিত্যিক।
Manual6 Ad Code
সদকী ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মসলেম উদ্দীনের দাবি, ‘মাসখানেক আগেও এই সড়কে যাতায়াত করতে গিয়ে কালি লাগানো চোখে পড়েছিল।’ কুমারখালীর বাসিন্দা ও শান্তিনিকেতনের সাবেক শিক্ষার্থী রেফুল করিম ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কুমারখালীতে ঢাকা-কুষ্টিয়া হাইওয়ের পাশে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলির স্মারক ফলকে রবীন্দ্রনাথের মুখমণ্ডল কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। যে স্থানে বসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের সিংহভাগ রচনা করেছিলেন, যেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লালন সাঁইজির চারণভূমি নিয়ে আমরা গর্ববোধ করি, সেখানকার মানুষের বিকৃত মস্তিষ্ক উদ্ভাসিত হলো কীভাবে?’
Manual8 Ad Code
কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বিজয় কুমার জোয়ার্দার বলেন, কালি লাগানোর বিষয়টি জানার পরপরই শুক্রবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। দুপুরে সেটি পরিষ্কার করা হয়েছে।
ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ভিআইপি প্রটোকলে প্রায়ই কুমারখালীর এই স্থানে যাওয়া হয়। আগে কালিমা লেপনের বিষয়টি ঘটেনি। যা তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে মনে হয়েছে ঈদের ছুটিতে দুর্বৃত্তরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বিষয়টি জানার পরপরই কালি মুছে দেওয়া হয়েছে।