গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘প্রথম পর্যায়ে’ ইসরাইল এবং হামাস একমত
গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘প্রথম পর্যায়ে’ ইসরাইল এবং হামাস একমত
editor
প্রকাশিত অক্টোবর ৯, ২০২৫, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
Manual4 Ad Code
বাসসঃ
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে বলেছেন, ইসরাইল এবং হামাস ‘আমাদের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে সই করেছে।’
ট্রাম্প বলেছেন, ‘এর অর্থ হল, খুব শীঘ্রই সকল জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং ইসরাইল তাদের সৈন্যদের প্রত্যাহার করবে। এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি একটি শক্তিশালী, টেকসই এবং চিরস্থায়ী শান্তির প্রথম পদক্ষেপ। সকল পক্ষের সাথে ন্যায্য আচরণ করা হবে! এটি আরব ও মুসলিম বিশ্ব, ইসরাইল, আশেপাশের সমস্ত দেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি মহান দিন।
কায়রো থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প আরো বলেছেন, আমরা কাতার, মিশর এবং তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের ধন্যবাদ জানাই, যারা এই ঐতিহাসিক এবং অভূতপূর্ব ঘটনাটি ঘটাতে আমাদের সাথে কাজ করেছেন। শান্তি প্রতিষ্ঠাকারীরা ধন্য!’
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প সাংবাদিকদের এই সপ্তাহান্তে মধ্যপ্রাচ্য ভ্রমণের জন্য প্রস্তুত থাকার কথা বলার মাত্র কয়েক ঘন্টা পরেই এই ঘোষণা আসে।
ইসরাইল এবং হামাস একে অপরের সাথে সরাসরি কথা বলে না, যার জন্য পরোক্ষ আলোচনার প্রয়োজন হয় যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য দূত স্টিভ উইটকফ, প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মিশরের শার্ম-এল-শেখে মিশর, কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যস্থতায় হয়েছিল।
Manual4 Ad Code
তবে যুদ্ধবিরতি কবে থেকে কার্যকর হবে তা স্পষ্ট নয়।
ধারণা করা হচ্ছে, চুক্তিতে হামাসকে জীবিত ও মৃত প্রায় ৫০ জন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার এবং ইসরাইলকে প্রায় ২০০০ ফিলিস্তিনি বন্দী ও আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ট্রাম্প গত সপ্তাহে যেমন উল্লেখ করেছিলেন, চুক্তির অন্যান্য মূল উপাদানগুলোতে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ এবং দুই বছরের যুদ্ধে বিধ্বস্ত সমুদ্র তীরবর্তী অঞ্চল গাজা শাসনে ভবিষ্যতের ভূমিকা ত্যাগ করার কথা বলা হয়েছে।
Manual2 Ad Code
ইসরাইল আপাতত গাজায় কিছু সৈন্য রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে যুদ্ধবিরতি দৃঢ় হওয়ার সাথে সাথে শান্তি প্রতিষ্ঠার সাথে সাথে শেষ পর্যন্ত তাদের সরিয়ে নেবে।
এই মূল বিধানগুলোর সুনির্দিষ্ট বিবরণ তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট ছিল না।
Manual1 Ad Code
একাধিক ব্যর্থ প্রচেষ্টা এবং পূর্ববর্তী দু’টি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর চুক্তিটিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসাবে দেখা হচ্ছে। এই বছরের জানুয়ারিতে সম্পাদিত একটি যুদ্ধবিরতি মার্চ মাসে ভেঙে যায় যখন ইসরাইল গাজায় আক্রমণ পুনর্নবীকরণ করে। যুদ্ধের প্রথম দিনগুলোতে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ স্থায়ী হয়েছিল।
বিস্তৃত আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা সর্বশেষ যুদ্ধবিরতির প্রতি ব্যাপক সমর্থন তৈরি করেছে এবং আশা জাগিয়েছে যে, এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী হবে। ইসরাইলি এবং ফিলিস্তিনি উভয় সমাজেই শক্তিশালী সংখ্যাগরিষ্ঠরা যুদ্ধের অবসানের পক্ষে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ভোরে দক্ষিণ ইসরাইলে ফিলিস্তিনের স্বাথীনতাকামী হামাসের আকস্মিক আক্রমণের মাধ্যমে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। হামলায় প্রায় ১,২১৯ জন নিহত হয়েছিল, যাদের বেশিরভাগই ইসরাইলি বেসামরিক নাগরিক। তাদের অনেকেই সপ্তাহান্তে একটি সঙ্গীত উৎসবে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৪৮ সালে দেশটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি ছিল ইসরাইলের ওপর একদিনের সবচেয়ে ভয়াবহ আক্রমণ।
ইসরাইল একটি ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে, যার ফলে ৬৭ হাজারেরও বেশি বেসামরিক ফিলিস্তিনি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। ইসরাইলের ক্রমাগত বোমা হামলা এবং অবিরাম স্থল বাহিনীর আক্রমণ গাজার বেশিরভাগ বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে।
সংঘাত জুড়ে ইসরাইল গাজায় সীমিত সাহায্য দিয়েছে। যার ফলে খাদ্য ও ওষুধের চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
যুদ্ধের সময় গাজার ২০ লক্ষেরও বেশি জনসংখ্যা বারবার বাস্তুুচ্যুত হয়েছে। বেশিরভাগ বাসিন্দা এখন মিশরের সীমান্তের কাছে ভূখণ্ডের দক্ষিণ অংশে তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছে।
যুদ্ধের অবসানের ফলে খাদ্য এবং অন্যান্য মৌলিক চাহিদার সরবরাহ দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কিন্তু ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, পানি এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণে বহু বছর সময় লাগবে।
Manual1 Ad Code
যুদ্ধের সমাপ্তি এখন হাতের নাগালে থাকলেও ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্ন সমাধানের জন্য কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ নেই।
এই পরিকল্পনায় প্রায় দুই দশক ধরে গাজা শাসন করার পর হামাসকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছে। এতে ‘যোগ্য ফিলিস্তিনি এবং আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের’ একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিচালনা কমিটি গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়াও, ট্রাম্পের সভাপতিত্বে একটি আন্তর্জাতিক ‘শান্তির বোর্ড’ কমিটি তত্ত্বাবধান করবে এবং গাজার পুনর্গঠন তত্ত্বাবধান করবে।
একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে পরিকল্পনাটি ‘ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রত্বের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য পথ’ তৈরির জন্য একটি অস্পষ্ট আহ্বান জানিয়েছে, তবে কোনো বিবরণ প্রদান করেনি।
ইতোমধ্যে গাজায় হামাসকে ধ্বংস করার পর লেবাননে হিজবুল্লাহকে আক্রমণ এবং ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে বোমা হামলা চালানোর পর ইসরাইল যুদ্ধ থেকে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে উঠে এসেছে।
তবুও গাজা যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ইসরাইল আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। যার ফলে অনেক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।