আজ বুধবার, ১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য চুক্তি; পালন করতে হবে ১৩৫ শর্ত

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্য চুক্তি; পালন করতে হবে ১৩৫ শর্ত

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি প্রকাশ্যে আসার পর এ নিয়ে দেশে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। চুক্তিটিকে দুটি দেশের মধ্যে সাধারণ বাণিজ্য চুক্তি মানতে নারাজ দেশের গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী নেতাদের অনেকে। তাদের মতে, মূলত বাণিজ্য চুক্তির আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র তার রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণের সঙ্গে কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারে বাংলাদেশের আগাম সমর্থন আদায় করে নিয়েছে। চুক্তিটি কেবল অসমই নয়, এতে বাংলাদেশ নিজের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে স্বার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে।

Manual4 Ad Code

অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ আগে গত ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষর হওয়া মূল আট পৃষ্ঠার চুক্তিটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এতে ছয়টি অধ্যায়ে নানা শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। পরিশিষ্ট, সংযোজনী মিলিয়ে চুক্তিটি মোট ৩৭ পৃষ্ঠার। চুক্তিটি বাংলাদেশকে অন্তত ১৩৫টি শর্ত পালনের বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র কেবল সে দেশের তুলা বা কৃত্রিম তন্তু দিয়ে প্রস্তুত করা পোশাকে বাড়তি শুল্ক আরোপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা আরও কিছু শর্তযুক্ত।

আমদানি পণ্যে শুল্ক পরিশোধ করতে হয় সে দেশের ক্রেতা প্রতিষ্ঠানকে, শেষ পর্যন্ত এ খরচের ভার বহন করে সে দেশেরই ক্রেতা। পার্থক্য এই যে, বিক্রেতার দেশের ওপর বেশি শুল্ক চাপালে ক্রেতা অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে পণ্য পেতে বিকল্প দেশে যাবে। ঠিক এ শঙ্কা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক ভার কমাতে দেশটির প্রায় সব শর্ত মেনে নিয়েছে বাংলাদেশ, যা অনেকটা অসহায় আত্মসমর্পণের মতো।
অর্থনীতিবিদদের কেউ কেউ বলছেন, এ চুক্তিতে একচেটিয়াভাবে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ প্রাধান্য দিতে গিয়ে সে দেশের ইচ্ছা অনুযায়ী বৈশ্বিক বাণিজ্যসহ অন্যান্য অভ্যন্তরীণ নীতিতেও বদল করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ।

অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে চুক্তি সম্পাদনকারী সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তি স্বাক্ষরের পর দাবি করা হয়েছিল, চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হওয়া পণ্য তৈরি পোশাক অতিরিক্ত শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাওয়ার অঙ্গীকার আদায় করে নিয়েছে। এমন সুবিধা তৈরি পোশাকে প্রতিযোগী অন্য কোনো দেশ পায়নি–এমন দাবিও ছিল সে সরকারের।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র বাড়তি শুল্ক ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, সুইজারল্যান্ডসহ অন্য যে ২০ দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, তার প্রায় সবকটিতেই নিজের বাণিজ্য স্বার্থ, বিশেষত বাজার প্রবেশ সহজ ও বাধা দূর করার পাশাপাশি প্রতিযোগী দেশের তুলনায় বাড়তি সুবিধা আদায় করে নিয়েছে। এক্ষেত্রে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রতিষ্ঠিত নীতি মানা হয়নি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বাংলাদেশ ছাড়াও মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়েতেমালা, আর্জেন্টিনা, তাইওয়ান ও ইন্দোনেশিয়ার চুক্তি প্রকাশ করা হয়েছে। এসব চুক্তি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিটি চুক্তির ধারা, ভাষা ও শর্ত অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া প্রায় অভিন্ন। তবে এটিও ঠিক যে, অন্য কিছু দেশের ক্ষেত্রে যতটা নমনীয়ভাবে শর্ত আরোপ করা হয়েছে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষে তা কঠোর।

চুক্তিতে কী আছে

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য চুক্তির প্রথম অধ্যায়ে শুল্ক ও কোটা বিষয়ে শর্তারোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের এমএফএন রেটে অর্থাৎ অন্য দেশের পণ্যে যে শুল্ক আরোপ করে, সে হারে আরোপ করা হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা পণ্যের ওপর কোনো কোটা আরোপ করবে না। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশের যে পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে সম্মত হয়েছে, সেগুলো বাদে বাকি সব পণ্যে পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করবে। এই শুল্কহার যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ শুল্কহারের চেয়ে অতিরিক্ত হতে পারবে, তবে তা ১৯ শতাংশের বেশি নয়।

চুক্তির দ্বিতীয় অধ্যায়ে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি প্রতিযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা আমদানি সীমিত হতে পারে–এমনভাবে আমদানি অনুমতিপত্র পদ্ধতি প্রয়োগ করতে পারবে না বাংলাদেশ। বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত এমন পণ্যকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দেবে, যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মান, আন্তর্জাতিক মান অথবা যুক্তরাষ্ট্র বা আন্তর্জাতিক যাচাই পদ্ধতি অনুসরণ করে সনদপ্রাপ্ত।

এতে আরও বলা হয়েছে, কেবল মেধাস্বত্ব আইন থাকলেই হবে না–দেওয়ানি, ফৌজদারি ও সীমান্ত পর্যায়ে কার্যকর প্রয়োগ ব্যবস্থাও রাখতে হবে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রম অধিকার আইনে অন্তর্ভুক্ত রাখতে হবে এবং বাস্তবায়ন করতে হবে কার্যকরভাবে। পরিবেশ আইন গ্রহণ ও বজায় রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্র সীমান্তে নতুন ব্যবস্থা নিলে তা সমন্বয় করে নিজের ব্যবস্থাও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে বাংলাদেশকেও।
তৃতীয় অধ্যায়ে বলা হয়েছে–বাংলাদেশ এমন কোনো ডিজিটাল সেবাকর আরোপ করবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানির প্রতি বৈষম্যমূলক। বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক মাধ্যমে পাঠানো কোনো বিষয়বস্তুর ওপর শুল্ক আরোপ করবে না। এছাড়া বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় এ ধরনের শুল্ক স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার উদ্যোগকে সমর্থন করবে।

চতুর্থ অধ্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র তার নিরাপত্তা ইস্যুতে অন্য যে কোনো দেশ বা অঞ্চলের ওপর কোনো ব্যবস্থা নিলে, তা অনুসরণের শর্তারোপ করেছে। এ অধ্যায়ে আরও শর্ত দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশ তার রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করবে।

এ অধ্যায়ে আরও বলা হয়েছে, বাজারভিত্তিক নয় এমন অর্থনীতির দেশের (চীন, রাশিয়া ইত্যাদি) সঙ্গে নতুন দ্বিপক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা অগ্রাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক চুক্তি করলে যদি তা এই চুক্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা করবে এবং এ আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি বাতিল করতে পারবে এবং ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল জারি করা নির্বাহী আদেশ-১৪২৫৭ অনুযায়ী পাল্টা শুল্ক হার পুনরায় আরোপ করতে পারবে।

যদি কোনো উপাদানের বিকল্প সরবরাহকারী না থাকে অথবা এ চুক্তি কার্যকরে আগে বিদ্যমান চুল্লির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ কেনার চুক্তি হয়, তার বাইরে নতুন করে বাংলাদেশ এমন কোনো দেশ থেকে পারমাণবিক চুল্লি, জ্বালানি রড বা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কিনবে না, যা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা পণ্যের বাণিজ্য আরও সহজ ও কার্যকর করার অঙ্গীকার করেছে।

Manual7 Ad Code

চুক্তির পঞ্চম অধ্যায়ে জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান, উত্তোলন, পরিশোধন, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন, বিতরণ ও রপ্তানি; বিদ্যুৎ উৎপাদন, যোগাযোগ, পরিবহন ও অবকাঠামো খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি বিনিয়োগকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের মতোই সুবিধাসহ বাংলাদেশ অনুমতি দেবে–এমন শর্ত দেওয়া হয়েছে।

এ অধ্যায়ে আরও শর্ত রয়েছে যে, বাংলাদেশের রাষ্ট্র মালিকানাধীন বা তৃতীয় দেশের কোম্পানি থেকে পণ্য কেনার সময় বাণিজ্যিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বা সেবার বিরুদ্ধে বৈষম্য করবে না। বাংলাদেশ যেসব ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেয়, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সে তথ্য দিতে হবে।

পঞ্চম অধ্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, দেশটি এমন একটি ব্যবস্থা চালু করবে, যাতে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু বস্ত্র ও পোশাকপণ্য প্রযোজ্য সাধারণ শুল্ক হারের বাইরে অতিরিক্ত শুল্ক ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এর পরিমাণ নির্দিষ্ট করবে। এই পরিমাণ নির্ধারণ হবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে রপ্তানিকৃত বস্ত্র উপকরণ যেমন তুলা ও কৃত্রিম তন্তু বাংলাদেশ কতটা কিনছে, সে পরিমাণের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে।

চুক্তির ষষ্ঠ অধ্যায়ে মূলত চুক্তির বাস্তবায়ন, প্রয়োগ, সংশোধন ও বাতিলের নিয়ম নির্ধারণ করেছে। এতে আরও বলা হয়েছে, দুই দেশের কেউ চাইলে মূল সুবিধা নষ্ট না হয় এমন যুক্তিসংগত চুক্তির ধারা সংশোধনের প্রস্তাব দিতে পারবে। এক্ষেত্রে অন্য পক্ষকে সদিচ্ছার সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। তবে লিখিত সম্মতি ছাড়া সংশোধন কার্যকর হবে না। চাইলে যে কোনো পক্ষ লিখিত নোটিশ দিয়ে চুক্তি বাতিল করতে পারবে।

তাছাড়া যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে বাংলাদেশ চুক্তির কোনো শর্ত মানেনি এবং এ নিয়ে আলোচনা করে ফল পায়নি, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ২০২৫ সালের ২ এপ্রিলের নির্বাহী আদেশ ১৪২৫৭ অনুযায়ী পারস্পরিক শুল্ক আবার আরোপ করতে পারবে।

Manual3 Ad Code

তৈরি পোশাকে শর্তযুক্ত শুল্ক ছাড়

চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশ যদি মার্কিন তুলা বা কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানি করে তাহলে ক্রেতাকে বাড়তি শুল্ক গুনতে হবে না। এ নিশ্চয়তার কারণে সম্ভাব্য ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক এড়ানোর সুযোগ পাবে। সমস্যা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের তুলার মান ভালো হলেও দাম বেশি। তবে এ অবস্থায় কাঁচামালের দামে ২-৪ শতাংশ বেশি খরচ হলেও মোট ব্যয় কাঠামোতে তা পুষিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাছাড়া মার্কিন তুলা ব্যবহার করলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশ বেশি আকর্ষণীয় হতে পারে।

Manual4 Ad Code

শিল্পে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি দেশের শিল্পখাতের সামনে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে। চুক্তি অনুযায়ী, ধাপে ধাপে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পণ্যের ওপর শুল্ক শূন্যে নামানোর শর্ত আছে। ফলে স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষা কমে যাবে, দেশীয় উৎপাদকদের আরও শক্তিশালী প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হবে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাক খাত ছাড়া অন্য রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সম্ভাব্য শর্ত থাকায় সেসব খাতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে যেতে পারে। এর পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করার বাধ্যবাধকতা থাকলে বাণিজ্য ও শিল্পনীতিতে বাংলাদেশের নীতিগত স্বাধীনতাও কিছুটা সীমিত হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চুক্তির বাস্তবায়ন প্রশ্নবিদ্ধ

বহু আলোচনা-সমালোচনা হলেও চুক্তিটি এখন আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। কারণ এতে একাধিকবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নং ১৪২৫৭-এর উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ শর্ত লঙ্ঘন করলে বা চুক্তি কার্যকর না করলে ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল বাংলাদেশি পণ্যে এমএফএন ‍শুল্কের অতিরিক্ত যে ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল, তা ফের কার্যকর করবে। সমস্যা হলো ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছে। চুক্তি না মানলে বা কার্যকর না করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে গেছে।
তবে এ অবস্থার মধ্যেও ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, যেসব দেশ স্বাক্ষরিত চুক্তি মানবে না, বা কার্যকর করবে না– তাদের ওপর আরও বেশি শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করবেন। এই হুমকি নিছক হুমকি কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চাইলে সে দেশের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ১২২ ধারা প্রয়োগ করে সাময়িক সময়ের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারেন, যে ক্ষমতা তিনি ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ হারে সব দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করে প্রয়োগ করেছেন। তথ্য সুএঃ সমকাল