আজ শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে খালি হাতেই বিদায় নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে খালি হাতেই বিদায় নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

Manual6 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual6 Ad Code

দিনভর নানা নাটকীয়তার পর জামায়াত-এনসিপিসহ গঠিত ১১ দলীয় জোট থেকে চাহিদা অনুযায়ী আসন না পাওয়ায় খালি হাতেই জোট থেকে বিদায় নিয়েছে চরমোনাই মতাদর্শের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানা যায়, ১১ দলের সঙ্গে আসন সমঝোতায় দু’ভাগে বিভক্ত হয়েছে ইসলামী আন্দোলন। দলের বড়ো একটি অংশ ১১ দলীয় জোটে থাকতে চাইলেও, ইসলামী আন্দোলনের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম ও তার অনুসারীদের বিরোধিতায় ১১ দলীয় জোট থেকে চূড়ান্তভাবে বের হয়েছে দলটি।

সূত্র জানায়, দলের ভাঙন ঠেকাতে শেষ মুহূর্তে এসে ১১ দল থেকে বের হওয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, ১১ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। রাতের মধ্যেই এটি ফয়সালা হতে পারে। সূত্র জানায়, চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দিনভর চেষ্টা করা হয়েছে আল্লামা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১১ দল থেকে বের করে আনার। তবে শেষ পর্যন্ত সফলতা পায়নি দলটি।

সূত্র আরও জানায়, গত মঙ্গলবার থেকে দলীয় কোরামে ১১ দলীয় জোট নিয়ে আলোচনা চললেও দলের একটি অংশ বৈঠক করেছে লেবার পার্টির সঙ্গে। আওয়ামী লীগের সঙ্গী জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে। বাদ যায়নি এবি পার্টিও। চরমোনাইয়ের পক্ষ থেকে এবি পার্টির সঙ্গেও আলোচনার চেষ্টা করা হয়েছে। ১১ দলীয় জোটের বাকি ১০টি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে আসন বণ্টনের বিষয়টি চূড়ান্ত করে বুধবার বিকেলেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানাতে চেয়েছিল। তবে হঠাৎ ২ ঘণ্টা আগে চরমোনাইয়ের অনুরোধে সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করে ১১ দলীয় জোট। তবে জামায়াত আমিরকে অনুরোধের বিষয়টি অস্বীকার করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

এ ছাড়া দলীয় সূত্রে ও সরেজমিনে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে অনেক নেতা রামপুরার একটি মাদ্রাসায় যান। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও গাড়ি নিয়ে অনেকে যান সেই মাদ্রাসায়। সন্ধ্যায় মাগরিবের নামাজের পরে সেখানে দলটির শুরা কাউন্সিলের বৈঠক হয়। বৈঠকে কেন্দ্রীয় থেকে তৃণমূলের নেতারা জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানান। ইসলামী আন্দোলন শতাধিক আসনে নির্বাচন করতে চেয়েছিল। তবে ধাপে ধাপে আসনের চাহিদা কমিয়েছে। সর্বশেষ তাদের দাবি ছিল ৫০টির বেশি আসন। তবে জামায়াত দলটিকে ৪০টি আসন ছাড় দিতে চায়।

Manual2 Ad Code

বিষয়টি নিয়ে বুধবার রাতে ইসলামী আন্দোলনের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ৪০ টি আসনে শেষ পর্যন্ত মেনে নিলেও ১০ শতাংশ আসন ওপেন রাখার দাবি করেছিল ইসলামী আন্দোলন। এই শর্তেও ৫ শতাংশ ছাড় দিতে চেয়েছে জামায়াত।

Manual1 Ad Code

১১ দলীয় জোটের একটি শরিক দলের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে জানানো হয়, ইসলামী আন্দোলনের আমির সর্বোচ্চ ছাড় দিয়ে জোটে থাকতে চাইলেও দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির ও তার অনুসাররিা সরাসরি বিরোধিতা করলে ১১ দলীয় জোট থেকে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় নানা সময় আলোচিত ও সমালোচিত দলটি। তবে আমরা এখনও কিছুটা আশাবাদী, তারা বাস্তবতার আলোকে রাতের মধ্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে হয়ত ১১ দলীয় জোটে ফিরে আসতে পারে।

Manual7 Ad Code

 

তথ্য সুএঃ বার্তা বাজার