আজ মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমান্তে ঢুকলেই গ্রেফতার: আইনমন্ত্রী

editor
প্রকাশিত জুলাই ১৪, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দিয়ে লাভ নেই, সীমান্তে ঢুকলেই গ্রেফতার: আইনমন্ত্রী

Manual4 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নিয়ে বিভেদের সুযোগে দিল্লিতে বসে যারা আত্মসমর্পণের হুঙ্কার দিচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তাদের আত্মসমর্পণের কোনও সুযোগ নেই। তারা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। সীমান্তে প্রবেশ করলেই তাদের গ্রেফতার করা হবে। এ দেশে আর কখনও ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হতে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ২৪তম দিনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও গণহত্যার বিচার’ শীর্ষক জনগুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বিভেদের সুর দেখে দিল্লিতে বসে হুঙ্কার দেওয়া হচ্ছে, বলা হচ্ছে আত্মসমর্পণ করবেন। আমি আপনার (স্পিকার) মাধ্যমে গোটা জাতিকে জানাতে চাই, বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে তাদের আত্মসমর্পণের কোনও সুযোগ নেই। কারণ আইনের কাছে তারা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। বাংলাদেশের সীমান্তে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই তারা গ্রেফতার হবেন। প্রতিটি হুঙ্কারে আমরা আরও সংঘবদ্ধ হবো, দেশের জন্য এক কাতারে দাঁড়াবো।’

Manual4 Ad Code

জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারকার্যের অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৬টি তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ১২টির প্রতিবেদন জমা হয়েছে এবং চারটির অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আবু সাঈদ হত্যা ও হাসানুল হক ইনুর মামলাসহ তিনটি মামলার রায় হয়েছে।

Manual6 Ad Code

আইনমন্ত্রী জানান, ট্রাইব্যুনালে জমা পড়া ৫৯০টি অভিযোগের মধ্যে প্রসিকিউশন ১০৯টি মামলা বাছাই করেছে। এর মধ্যে ৪৩টি মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল এবং ছয়টি মামলার বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে। এসব মামলায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনের যাবজ্জীবন এবং ৩৫ জনের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড হয়েছে। একজন রাজসাক্ষীকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ২৬টি মামলা বিচারাধীন এবং চারটি মামলা রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শাপলা চত্বরের হত্যাকাণ্ড, ফ্যাসিবাদের সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড এবং জেলায় জেলায় সংঘটিত জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও তদন্তাধীন রয়েছে।

জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, যারা জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে নেতিবাচক রাজনীতি করছেন, তাদের বক্তব্যে সন্দেহ তৈরি হয়। এটা কি সত্যিই জুলাইয়ের চেতনা ধারণের জন্য, নাকি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে? গণভোটে প্রতারণামূলক প্রশ্ন যুক্ত করে যখন রাজনীতি করা হয়, তখন উদ্বেগ তৈরি হয়।

তিনি জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

Manual3 Ad Code

রাজনৈতিক মিত্রদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হবে। বিএনপির বাইরে গিয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোট করেছিলেন, তার পরিণতি কী হয়েছিল? বিএনপি আপনাদের গাড়িতে পতাকা দিয়েছিল, আর আওয়ামী লীগ আপনাদের নেতাদের ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছে। আমরা পরীক্ষিত রাজনৈতিক সহযোদ্ধা হিসেবে সামনের দিনেও একসঙ্গে এগোতে চাই। সুএ:বাংলা ট্রিবিউন

Manual5 Ad Code