বাংলাদেশ ঘিরে যেন নিরবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত!
বাংলাদেশ ঘিরে যেন নিরবে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত!
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২১, ২০২৬, ০২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
Manual6 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। মাত্র প্রায় ৫৭ হাজার বর্গমাইলের এই দেশটি এখন বিশ্ব রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত মঞ্চে পরিণত হয়েছে।
গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান দৃশ্যমানভাবে বদলে গেছে। দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক মিত্র ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বর্তমানে চরম টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে এবং চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আগের তুলনায় আরও গভীর হয়েছে।
Manual8 Ad Code
একই সঙ্গে বাংলাদেশ নতুন নতুন সামরিক, অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত প্রকল্পে এগিয়ে যাচ্ছে—যার সঙ্গে কোথাও পাকিস্তান, কোথাও চীন এবং কোথাও তুরস্কের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
Manual1 Ad Code
এই পরিবর্তনগুলোই ভারতের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে নয়া দিল্লি। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ঢাকার কূটনৈতিক ও কৌশলগত তৎপরতার ওপর নিবিড় নজর রাখছে ভারত।
বিশেষ করে গত বছর চীন সফরের সময় ড. ইউনূসের একটি মন্তব্য নয়া দিল্লির উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তিনি বলেছিলেন, উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য—যা ‘সেভেন সিস্টার্স’ নামে পরিচিত—সমুদ্রপথে বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশকে তিনি এই অঞ্চলের একমাত্র সমুদ্র অভিভাবক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এটি বাংলাদেশের জন্য নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে—বিশেষ করে ট্রানজিট বাণিজ্য ও উৎপাদন খাতে।
Manual8 Ad Code
যদিও ড. ইউনূসের বক্তব্য অর্থনৈতিক উন্নয়নকে কেন্দ্র করেই ছিল, ভারত এটিকে একটি কৌশলগত হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সামাজিক ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাবও বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা—যার একটি বড় কারণ হিসেবে শেখ হাসিনাকে কেন্দ্র করে তৈরি বিতর্ককে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের বন্দর উন্নয়ন ও অবকাঠামোগত প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ বেড়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত যোগাযোগও দৃঢ় হয়েছে। এসব বিষয় ভারতের নিরাপত্তা মহলে নতুন করে সতর্কতা তৈরি করেছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফস কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জার বাংলাদেশ সফর ঘিরে উদ্বিগ্ন নয়া দিল্লি।
বাংলাদেশের এই পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক অবস্থানের প্রেক্ষাপটে ভারত শিলিগুড়ি করিডর বা ‘চিকেন নেক’ নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে। সম্প্রতি ধুবড়ির বামনি, বিহারের কিশানগঞ্জ এবং পশ্চিমবঙ্গের চোপড়ায় তিনটি নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করেছে ভারত—যার লক্ষ্য করিডরের নিরাপত্তা জোরদার করা।
শুধু সেনা মোতায়েন নয়, উত্তরবঙ্গ ও পূর্বাঞ্চলের পুরনো বিমানঘাঁটিগুলোও পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। জরুরি পরিস্থিতিতে হেলিকপ্টার ও ছোট বিমান ব্যবহারের জন্য পুরনো এয়ার স্ট্রিপগুলো প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকদের মতে, নয়া দিল্লি নীরবে হলেও একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত প্রস্তুতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে।