পরিসংখ্যানের খেরোখাতা স্পষ্ট দেখাচ্ছে যে, বুধবার রাতে সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গোল করার পর ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ফুটবল পুরোপুরি থমকে গিয়েছিল। অ্যান্থনি গর্ডন ইংলিশদের এগিয়ে দেওয়ার আগে থেকেই আর্জেন্টিনা অবশ্য সফল পাসের দিক থেকে এগিয়ে ছিল; ২৮২ বনাম ২৩৫। কিন্তু গোল করার পর থেকে ইংলিশরা আক্রমণ করা একেবারেই বন্ধ করে দেয় এবং বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের নিজেদের অর্ধে খেলার স্বেচ্ছায় আমন্ত্রণ জানায়।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবো’র ডাটা পার্টনার ‘ফুটস্ট্যাটস’র হিসাব অনুযায়ী, দ্বিতীয়ার্ধের নবম মিনিটে (৫৫ মিনিটে) গর্ডনের দেওয়া গোল থেকে শুরু করে ৪৭ মিনিটে (৯২তম মিনিটে) লাউতারো মার্টিনেজের করা আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোল- এই দুই গোলের মধ্যবর্তী ৩৬ মিনিটে ইংল্যান্ড মাত্র ২০টি সফল পাস দিতে পেরেছিল এবং শট নিয়েছিল স্রেফ ৩টি। ঠিক একই সময়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা ২৫৫টি সফল পাস দেওয়ার পাশাপাশি ৯ বার শটের চেষ্টা করে, যার মধ্যে দুটি গোল পায় তারা।
Manual6 Ad Code
মজার ব্যাপার হলো, পুরো ম্যাচের মধ্যে ইংল্যান্ড কেবল শেষ ১০ মিনিটে আর্জেন্টিনার চেয়ে বেশি পাস আদান-প্রদান করতে পেরেছিল। যখন তারা এগিয়ে যাওয়ার পর ফের পিছিয়ে পড়েছিল। তবে সামান্য দাপট দেখানোর এই সময়েও টুখেলের দল একটি শটও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
এখানে আরও উল্লেখ্য যে, ইংল্যান্ড ম্যাচে এগিয়ে যাওয়ার পর কোচ টমাস টুখেল দ্বিতীয়ার্ধের ৭২ থেকে ৮২ মিনিটের মধ্যে তিনটি রক্ষণাত্মক পরিবর্তন করেন। তিনি উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন, মিডফিল্ডার ডেক্লান রাইস এবং রাইট-ব্যাক রিস জেমসকে তুলে নেন। মাঠে নামান সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার কোনসা, ফুল-ব্যাক নিকো ও‘রাইলি এবং ডিফেন্ডার ড্যানিয়েল বার্নকে।
আক্রমণ ও মাঝমাঠের দুজন এবং একজন ডিফেন্ডারকে তুলে নিয়ে মাঠে তিনজন নতুন ডিফেন্ডার নামান কোচ টুখেল। এরপর আর্জেন্টিনা যখন লিড পেয়ে যায়, তখন ম্যাচের ৯৬ মিনিটে তিনি তড়িঘড়ি করে দুই ডিফেন্ডার স্টোনস ও স্পেন্সকে তুলে নিয়ে দুই স্ট্রাইকার রাশফোর্ড ও ইভান টোনিকে নামান। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। আর্জেন্টিনার কাছে ১-২ ব্যবধানে হেরেই বিদায় নেয় থ্রি লায়ন্সরা।