আজ শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামে আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রমিত করে ১২-১৮ জনকে,করোনায় ২-৪ জন

editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ণ
হামে আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রমিত করে ১২-১৮ জনকে,করোনায় ২-৪ জন

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

  • বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম টিকার দুই ডোজ নেওয়ার পরও শিশুদের পুরোপুরি সুরক্ষিত বলার সুযোগ নেই

হাম পৃথিবীর সবচেয়ে সংক্রামক রোগগুলোর একটি। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি গড়ে ১২-১৮ জন সংবেদনশীল মানুষকে সংক্রমিত করতে পারে, যাকে বলা হয় “বেসিক রিপ্রোডাকশন নাম্বার”। তুলনামূলকভাবে, করোনাভাইরাসে এই সংখ্যা ছিল মাত্র ২ থেকে ৪.৬। ফলে খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকির কারণে হাম নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।

Manual2 Ad Code

বাংলাদেশে বর্তমানে শিশুদের সুরক্ষায় দেশব্যাপী হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি চলছে। অনেক অভিভাবকের প্রশ্ন যদি শিশু আগেই দুই ডোজ টিকা নিয়ে থাকে, তাহলে আবার কেন অতিরিক্ত ডোজ দেওয়া হচ্ছে?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর লুকিয়ে আছে “হার্ড ইমিউনিটি” বা সমষ্টিগত প্রতিরোধ ক্ষমতার মধ্যে। হাম ভাইরাস বাতাসে প্রায় ২ ঘণ্টা পর্যন্ত সক্রিয় থাকতে পারে, ফলে এটি অত্যন্ত সহজে ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণে হাম প্রতিরোধে একটি জনগোষ্ঠীর অন্তত ৯২-৯৫% মানুষের কার্যকর ইমিউনিটি থাকা প্রয়োজন।

যদিও হাম টিকার দুই ডোজ প্রায় ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা দেয়, তবুও সব শিশুর শরীরে সমানভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয় না। কিছু শিশু দুই ডোজ নেওয়ার পরও পুরোপুরি সুরক্ষিত হয় না। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এই সামান্য ঘাটতিই বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের কারণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু কতজন টিকা নিয়েছে তা নয় বরং কতজনের শরীরে কার্যকর প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়েছে, সেটিই হার্ড ইমিউনিটির মূল বিষয়। অতিরিক্ত ডোজ দেওয়া হলে যেসব শিশুর শরীরে আগে পর্যাপ্ত ইমিউনিটি তৈরি হয়নি, তারা সুরক্ষা পায়। একই সঙ্গে যাদের ইমিউনিটি কম ছিল, সেটিও আরও শক্তিশালী হয়।

Manual8 Ad Code

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফের মতে, গণটিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে দ্রুত উচ্চমাত্রার প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা সম্ভব, যা সংক্রমণের চেইন ভেঙে দেয়। ইন্ডিয়ান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসও অতিরিক্ত ডোজকে নিরাপদ ও কার্যকর হিসেবে সমর্থন করে।

Manual3 Ad Code

বাংলাদেশে ১৯৮৯ সাল থেকে হামের টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং ২০১২ সাল থেকে এটি হাম-রুবেলা টিকা হিসেবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ডোজ নেওয়ার ফলে কোনো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঘটনা পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, অতিরিক্ত ডোজ ব্যক্তিগতভাবে বাধ্যতামূলক না হলেও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, হার্ড ইমিউনিটি নিশ্চিত করতে হলে শুধু টিকা নেওয়া নয় কার্যকর ইমিউনিটির হার ৯৫ শতাংশ বা তার বেশি নিশ্চিত করা জরুরি।

তাই আগে টিকা নেওয়া থাকলেও শিশুদের আবার টিকা দেওয়ার মূল লক্ষ্য হলো যাদের সুরক্ষা তৈরি হয়নি তাদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং সামগ্রিকভাবে সমাজকে হাম থেকে নিরাপদ রাখা। তথ্য সুএঃ বাংলা ঢাকা ট্রিউবিউন

Manual5 Ad Code