আজ , ,

প্রধানমন্ত্রীকে ‘সতর্ক’ করে শিশির মনিরের ফেসবুক স্ট্যাটাস

editor
প্রকাশিত April 17, 2026, 02:40 PM
প্রধানমন্ত্রীকে ‘সতর্ক’ করে শিশির মনিরের ফেসবুক স্ট্যাটাস

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual1 Ad Code

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘অপ্রিয় সত্য’ জানিয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তালিকা আকারে একটি সতর্কতামূলক পোস্ট শেয়ার করেছেন।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে তিনি এই পোস্ট শেয়ার করেন।

Manual4 Ad Code

পোস্টে শিশির মনির লিখেন, আজ আমি আপনাকে কয়েকটি অপ্রিয় সত্য কথা বলব। আপনি এখন ক্ষমতায়। তাই আপনাকে অনেকেই এসব কথা বলতে চাইবে না। অনেকেই সংকোচবোধ করবে। কেউ কেউ ভয় পাবে।

মানা কিংবা না মানা আপনার একান্ত বিষয় উল্লেখ করে এই সিনিয়র আইনজীবী বলেন, অতীতে অতিরিক্ত তোষামোদির কারণে অনেকেই হেয়-প্রতিপন্ন হয়েছেন। ডিগ্রির পর ডিগ্রি, উপাধির পর উপাধি, কত কী? শেষ পর্যন্ত কোন কিছুই তাদের রক্ষা করতে পারে নাই। ইদানিং দেখছি আপনি এবং আপনার পরিবারকে নিয়ে একই কাজ করা হচ্ছে। কে করছে? কেন করছে? আপনিই ভাল বলতে পারবেন।

পোস্টে উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, যেমন: মহান জাতীয় সংসদে আপনাকে শিশু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা করার দাবি উত্থাপন, টাইম ম্যাগাজিনে আপনি ১০০ জন প্রভাবশালীদের একজন তাই সংসদে অভিনন্দন প্রস্তাব আনা (খবরে এসেছে, সবাই জেনেছে, আপনাকে সামনে রেখে অভিনন্দন প্রস্তাব কেন আবার), কোন সরকারি দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও আপনার মেয়ে জাইমা রহমানকে প্রোটোকল দেওয়া/হাইলাইট করা (শিক্ষামন্ত্রী), সংসদে আপনাকে সম্রাট বাবরের সাথে তুলনা করা, আপনার হাতে আপনার শাসনকালে [অন্যের মাধ্যমে দেয়া যেত] আপনার মেয়ের মাধ্যমে আপনার মাতা দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার দেয়া, ক্রিকেট বোর্ডে কেন্দ্রীয় নেতাদের সন্তানদের মিলনমেলা বানানো, আপনাকে পায়ে ধরে সালাম করা [যদিও একজনকে আপনি নিষেধ করেছেন] ইত্যাদি।

নিঃসন্দেহে আপনি বেশ কিছু সহজ সরল ব্যাতিক্রম উদাহরণ দেখিয়েছেন জানিয়ে শিশির মনির বলেন, যেমন: সাধারণ জামা কাপড় পরিধান করা, প্রোটোকল কম ব্যবহার করা, হেঁটে যাওয়া, বিদ্যুৎ কম ব্যবহার করা, সময় মত অফিসে যাওয়া, ছুটির দিন কাজ করা ইত্যাদি।

গণ-অভ্যুত্থানের পর সাধারণ মানুষ আর তোষামোদি দেখতে চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা চাই কাজ। যে যত বেশি কর্মক্ষম, সৎ তিনি ততবেশি গ্রহণযোগ্য হবেন। জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারলে এমনিতেই আপনি জনপ্রিয় হবেন। সমাধান করতে না পারলে এমনিতেই মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিবে।

অধিকন্তু পরিবার কেন্দ্রিক একনায়কতন্ত্রও নতুন প্রজন্ম পছন্দ করে না মন্তব্য করে শিশির মনির বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে যোগ্যতাই মূল বিবেচ্য বিষয়। আপনার বাবা-মা দুইজনই নিজ নিজ যোগ্যতায় মহিয়ান। কষ্ট করে সংগ্রাম করে জীবন দিয়ে চেষ্টা করে গেছেন। সেই বিচারের ভার জনগণ এবং ইতিহাসের উপর। আপনিও পরিবারের সদস্যদের সংগ্রাম করার জন্য উদ্বুদ্ধ করবেন। কৃত্রিম নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা না করা ভাল। এতে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, দেখুন আপনাকে এত কথা বলার আমার কোন ব্যক্তিগত প্রয়োজন নাই। যেহেতু আপনি আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং পাবলিক ফিগার সেহেতু আপনাকে সমালোচনা/আলোচনা করার অধিকার সকলেরই আছে। বিশেষ করে গণঅভ্যুত্থানের পর সকলেই নতুন কিছু আশা করে।

কথায় এবং কাজে মিল থাকা একটি বড় যোগ্যতা জানিয়ে শিশির মনির লিখেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আপনার সরকার প্রতিশ্রুত পদ্ধতি থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আপনাদের প্রস্তাবিত গণভোট আপনারাই অমান্য করছেন। এতে আপনার ব্যক্তিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।

Manual1 Ad Code

পোস্টে সবশেষ তিনি বলেন, আমরা সব সময় ভাল কাজের পক্ষে। জনবিরোধী কাজের বিপক্ষে। আপনি ভাল থাকুন; সুস্থ থাকুন। এই প্রত্যাশায়।

 

Manual7 Ad Code