আস্থা পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ-ভারত: একটি কৌশলগত বিশ্লেষণ
আস্থা পুনর্গঠনের পথে বাংলাদেশ-ভারত: একটি কৌশলগত বিশ্লেষণ
editor
প্রকাশিত এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৫:২৩ অপরাহ্ণ
Manual7 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার শীতল সম্পর্কের বরফ কি গলতে শুরু করেছে? পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক দিল্লি সফর এবং পানিবণ্টন ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের কোন নতুন মোড় নির্দেশ করছে?
Manual7 Ad Code
শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে চলে যায়। এই পটভূমিতে নির্বাচিত সরকারের প্রধান কর্তব্য হয়ে দাঁড়ায় প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ। তারই অংশ হিসেবে ৮ এপ্রিল বিএনপি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের প্রথম ভারত সফর ছিল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল কূটনৈতিক সৌজন্য নয়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের জটিল ইস্যুগুলো নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক স্বার্থ ও চাওয়া-পাওয়ার বিষয়গুলোকে বোঝাপড়ায় নিয়ে আসার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।
সফরের ফলাফল ও অর্জন
Manual3 Ad Code
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সফরে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। প্রথমত, ভারত বাংলাদেশকে জ্বালানি সহযোগিতার অনুরোধে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে; পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হারদিপ সিং পুরি বলেছেন, বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে। দ্বিতীয়ত, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ভারত সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তৃতীয়ত, বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষত চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা প্রক্রিয়া শিথিল করার আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এই সফরকে ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন এবং সপ্তাহখানেকের মধ্যে এর ইতিবাচক প্রভাব দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
আকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতার সমীক্ষা
ভারত সফর শেষে মরিশাসে এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খলিলুর রহমান গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তিকে ‘প্রথম পরীক্ষা’ হিসেবে চিহ্নিত করেন এবং জোর দেন যে, নতুন চুক্তি হতে হবে ন্যায্যতা ও জলবায়ু-সহনশীলতার ভিত্তিতে। একই সঙ্গে তিনি ভিসা সহজীকরণ এবং বাজারভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরেন।
১. আকাঙ্ক্ষার তাত্ত্বিক যৌক্তিকতা
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্থাপিত প্রত্যাশাসমূহ তাত্ত্বিকভাবে যৌক্তিক। পানিবণ্টন বাংলাদেশের জীবিকা, কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত; ভিসা সহজীকরণ সম্পর্ককে জনকেন্দ্রিক করে তোলে এবং চীন-ভারত ভারসাম্যের ‘non-zero-sum’ দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের কৌশলগত স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখে।
২. বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ
তবে বাস্তবে এই আকাঙ্ক্ষা অর্জন শর্তসাপেক্ষ ও কঠিন। গঙ্গা পানি ইস্যু নিজেই একটি দীর্ঘমেয়াদি ও জটিল বিরোধ; ১৯৭০-এর দশক থেকে শুরু করে বহুবার আলোচনা হলেও পানিবণ্টনে মতপার্থক্য পুরোপুরি মেটেনি এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির স্বল্পতা নিয়ে বাংলাদেশের অভিযোগ এখনো বিদ্যমান। উজান-ভাটির ক্ষমতার অসমতা এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ চাহিদা—যেমন ফারাক্কা ব্যারেজ ব্যবস্থাপনা—বড় কাঠামোগত বাধা হয়ে থাকে। এর ওপর জলবায়ু পরিবর্তন ও দূষণের কারণে গঙ্গার মোট প্রবাহও কমছে, ফলে ‘ন্যায্য বণ্টন’ আরও কঠিন হয়ে উঠছে। দক্ষিণ এশিয়ায় ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার তীব্রতা বাড়ায় চীন-ভারত ভারসাম্যের প্রশ্নেও বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান চাপের মুখে পড়তে পারে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ড. খলিলুরের আকাঙ্ক্ষা নীতিগতভাবে বাস্তবসম্মত কিন্তু বাস্তবায়নে কঠিন। সম্পর্ক পুনর্গঠন নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর: (১) রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠন, (২) পানিবণ্টনে বাস্তবসম্মত সমঝোতা এবং (৩) বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রণে রাখার সক্ষমতা।
মূল ইস্যুসমূহের বিশ্লেষণ
১. জ্বালানি নিরাপত্তা
বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একটি বড় অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ভারত বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রাখছে, যদিও এই নির্ভরশীলতা বাংলাদেশের জ্বালানি স্বাধীনতা সীমিত করে। তাই জ্বালানি সহযোগিতায় বহুমুখী অংশীদারত্ব গড়ে তোলা বাংলাদেশের জন্য কৌশলগতভাবে জরুরি।
২. পানিবণ্টন
গঙ্গা, তিস্তা ও অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত নদীর পানিবণ্টন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গেও যুক্ত। বিশেষ করে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধ দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যুগুলোর একটি।
৩. আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও ভূরাজনীতি
ভারতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ কেবল প্রতিবেশী নয়, বরং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের নিরাপত্তা স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বঙ্গোপসাগর এখন জ্বালানি, বাণিজ্য রুট ও সামুদ্রিক সম্পদের কারণে কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারত চায় এই অঞ্চলে বন্ধুত্বপূর্ণ ও স্থিতিশীল পরিবেশ। চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ভারতের জন্য একটি বড় কৌশলগত উদ্বেগ। বাংলাদেশে চীনের অবকাঠামোগত বিনিয়োগ ও ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগ ভারতের জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ। ফলে ভারত চায় বিএনপি সরকার পুরোপুরি চীনের প্রভাব বলয়ে না পড়ুক। একইভাবে, বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের উষ্ণতাও ভারতের উদ্বেগের কারণ—বিশেষত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তার প্রশ্নে।
৪. বাণিজ্যিক ভারসাম্য
বাংলাদেশ ভারতের বাজারে প্রবেশাধিকারের মাধ্যমে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে আগ্রহী। বাংলাদেশ ভারত থেকে আমদানি করে প্রায় ১২-১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য, পক্ষান্তরে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করে প্রায় দেড় থেকে ২ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ১০-১২ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ ৭ থেকে ৮ গুণ। এক্ষেত্রে ন্যায্যতা ও পারস্পরিক সুবিধার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।
Manual2 Ad Code
৫. জঙ্গিবাদ মোকাবিলা ও সীমান্ত নিরাপত্তা
ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদ ও জঙ্গি কার্যক্রম। শেখ হাসিনার সময়ে জঙ্গি দমন ও ভারতকে হস্তান্তরের নীতি ভারতের আস্থা বাড়িয়েছিল। রাজনৈতিক পরিবর্তনে এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ স্বাভাবিক। এর পাশাপাশি সীমান্তে চোরাচালান, মানবপাচার ও মাদক পাচারও নিয়মিত উদ্বেগের বিষয়।
৬. আওয়ামী লীগ ইস্যু
আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে এসেছে। দলটি নিষিদ্ধ হওয়ার পর ভারতের জন্য একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, যেখানে তাদের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হচ্ছে। ভারতের সরকারি অবস্থান এক্ষেত্রে সতর্ক ও কূটনৈতিক—প্রকাশ্যে না সমর্থন, না তীব্র বিরোধিতা। খলিলুর রহমানের ভারত সফর এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের মধ্যে সম্পর্কটি সরাসরি ‘কারণ-ফল’ নয়, বরং একটি পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রতিফলন।
ভারতের কৌশলগত পুনর্বিন্যাস
১. ‘এক ঝুড়ি’ নীতি থেকে বহুকেন্দ্রিকতায় উত্তরণ
ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ‘সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখার’ কৌশল অনুসরণ করেছে—অর্থাৎ আওয়ামী লীগকেন্দ্রিক একটি সম্পর্ক কাঠামো। এই কাঠামোয় নিরাপত্তা সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সন্ত্রাসবিরোধী পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক সংযোগে একটি স্থিতিশীল অংশীদারত্ব নিশ্চিত ছিল। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন ভারতকে এই কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। এখন ভারত শুধু একটি দলের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো, আমলাতন্ত্র, সামরিক ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বিস্তারের চেষ্টা করছে—অর্থাৎ ‘এক ঝুড়ি’ নীতি থেকে বহুকেন্দ্রিক নির্ভরতার দিকে ঝুঁকছে।
২. বিএনপি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের সমীকরণ
বিএনপি সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উন্নয়নের মূল সমীকরণ দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা সহযোগিতা, অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতা ও ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর। শর্ত হলো ভারতবিরোধী কার্যক্রম দমন, সংযোগ ও বাণিজ্যে সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এই বাস্তবতাই সম্পর্ককে আদর্শগত নয়, বরং স্বার্থভিত্তিক ও কার্যকর করে তুলেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষণে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের গতিপথ
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান তার দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষণে বলেন যে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন পুনর্গঠনের সন্ধিক্ষণে। তার মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তন ও পারস্পরিক অবিশ্বাস উত্তেজনা তৈরি করলেও কৌশলগত প্রয়োজনের কারণে সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে, হাসিনা পতনের পরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি অনিশ্চিত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে এবং সম্পর্ক খারাপ হলে সীমান্ত অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি বাড়তে পারে।
Manual2 Ad Code
দক্ষিণ এশিয়া মনিটরে প্রকাশিত গোলাম রসুলের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিবর্তন, জাতীয়তাবাদী অনুভূতি ও কূটনৈতিক সংবেদনশীলতা সম্পর্ককে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। সাময়িক উত্তেজনাকে প্রশমন না করা গেলে তা দীর্ঘমেয়াদি অবিশ্বাসে রূপ নিতে পারে।
খ্যাতিমান কূটনীতিক পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী তার ২০২৫ সালের গবেষণামূলক গ্রন্থ ‘Transformation: Emergence of Bangladesh and Evolution of India-Bangladesh Ties’-এ ৫০ বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে বলেন যে, হাসিনা সরকারের সময়ে গড়া নিরাপত্তা সহযোগিতার ভিত্তি দুর্বল হলে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পগুলো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তবে তিনি এটাও উল্লেখ করেন যে, উভয় দেশের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা ও অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা সম্পর্ক পুরোপুরি ভেঙে পড়তে দেবে না।
টেকসই কূটনীতির পথে
খলিলুর রহমানের ভারত সফর কেবল একটি কূটনৈতিক সৌজন্য সফর নয়—এটি পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি কৌশলগত উদ্যোগ। অনেক বিশ্লেষক এটিকে ‘আস্থা পুনর্গঠনের’ পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন, যার মাধ্যমে ভারতকে আশ্বস্ত করা যায় যে, সরকার পরিবর্তন হলেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।
সফরের ফলাফল ও বিশেষজ্ঞ বিশ্লেষণের সমন্বয়ে বলা যায়: ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা প্রয়োজনীয় হলেও একক নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক বহুস্তরীয়—একদিকে সহযোগিতা, অন্যদিকে স্বার্থসংঘাত। এই দুইয়ের মধ্যে সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারিত হবে তিনটি মূল উপাদান দ্বারা: রাজনৈতিক আস্থা পুনর্গঠন, পানিবণ্টনে বাস্তবসম্মত সমঝোতা এবং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় ভারসাম্য রক্ষার সক্ষমতা। সর্বোপরি, এই সম্পর্ক পুনর্গঠন সফল করতে হলে উভয় দেশকেই আদর্শগত নয়, বরং বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এগিয়ে যেতে হবে—যেখানে পারস্পরিক স্বার্থ, আঞ্চলিক ভারসাম্য এবং মানুষে-মানুষে সংযোগই হবে মূল ভিত্তি।