রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা যুগের বাইরে গিয়ে টেস্ট দলের নতুন স্পিন আক্রমণ সাজিয়েছিল ভারত।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সেই সুযোগ লুফে নিয়ে অভিষেকেই বল হাতে আলো ছড়ালেন তরুণ বাঁহাতি স্পিনার মানব সুথার। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নেমেই তিনি ভেঙে দিয়েছেন ৪৭ বছর পুরোনো এক ঐতিহাসিক রেকর্ড।
নিউ চণ্ডীগড় টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে মাত্র ৩৩ রান খরচায় ৬টি উইকেট শিকার করেন সুথার। ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে তিনটি এবং পরের দিন সকালে আরও তিনটি উইকেট তুলে নেন এই বাঁহাতি স্পিনার। এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সেই ভারতের বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে টেস্ট অভিষেকে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটি নিজের নামে করে নেন এই তরুণ।
Manual3 Ad Code
এতদিন ভারতের হয়ে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে টেস্ট অভিষেকে সেরা বোলিংয়ের এই রেকর্ডটি ছিল কিংবদন্তি দিলিপ দোশির দখলে। ১৯৭৯ সালে চেন্নাইয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১০৩ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর দিলিপের সেই কীর্তিকে পেছনে ফেলে তালিকায় শীর্ষে বসলেন সুথার। তবে উইকেট সংখ্যায় দিলিপকে ছাড়াতে না পারলেও রান দেওয়ার দিক থেকে ঢের এগিয়ে ছিলেন তিনি।
ভারতের হয়ে টেস্ট অভিষেকে সুথারের চেয়ে বড় বোলিং স্পেল বা রেকর্ড আছে কেবল একজনের। ১৯৮৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৬১ রানে ৮ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৭৫ রানে ৮ উইকেট নিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন নরেন্দ্রা হিরওয়ানি। ম্যাচে তার নেওয়া সেই ১৬ উইকেট আজও টেস্ট অভিষেকে বিশ্বরেকর্ড হিসেবে অক্ষুণ্ণ রয়েছে।
Manual7 Ad Code
বল হাতে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭টি উইকেট শিকারের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও কার্যকরী ২৮ রান অবদান রাখেন মানব সুথার। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের সুবাদে অভিষেক ম্যাচেই ম্যাচসেরা (ম্যান অব দ্য ম্যাচ) পুয়েছেন তিনি। এই অর্জনের মাধ্যমে অভিষেক ম্যাচে ভারতের নবম ক্রিকেটার এবং মাত্র তৃতীয় বোলার হিসেবে ম্যাচসেরা হওয়ার এলিট ক্লাবে জায়গা করে নিলেন সুথার। এর আগে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে কেবল রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও রুদ্রপ্রতাপ সিং (আরপি সিং) টেস্ট অভিষেকেই ম্যাচসেরার পুরস্কার পেয়েছিলেন।