গত ২০ জুন ২০২৬, কানাডার টরন্টোর Hungarian Performing Arts Centre-এ “আনন্দধারা পারফরমিং আর্টস” আয়োজিত এক মনোমুগ্ধকর রবীন্দ্রসংগীত সন্ধ্যায় উপমহাদেশের বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী লাইসা আহমেদ লিসা তাঁর সুরেলা পরিবেশনার মাধ্যমে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করেন।
মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরুর আগে আনন্দধারা পারফরমিং আর্টস কানাডার বাংলা সংস্কৃতি ও শিল্পচর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা চারজন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করে। সম্মানপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন ডঃ সঞ্জয় মুখার্জি, রুবী মুখার্জি, আলিয়া শরাফি এবং রনি প্রেন্টিস-রয়।
সম্মানপ্রাপ্তদের মধ্যে আলিয়া শরাফির উপস্থিতি অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে। তিনি বাংলাদেশের কিংবদন্তি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব এবং একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত কলিম শরাফীর কন্যা। আলিয়া শরাফি নিজেও একজন প্রতিষ্ঠিত সংগীতশিল্পী হিসেবে সুপরিচিত। শাস্ত্রীয় সংগীত, গজল এবং বাংলা গানের চর্চার পাশাপাশি তিনি প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। কলিম শরাফীর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার ধারণ করে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংগীত ও সংস্কৃতির মূল্যবোধ পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। কলিম শরাফী উপমহাদেশে রবীন্দ্রসংগীতকে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন এবং সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে আজও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
বিশেষভাবে কণ্ঠশিল্পী রনি প্রেন্টিস-রয়-কে এই সম্মাননা প্রদান করা হয় বাংলা গান, সংস্কৃতি এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সংগীতচর্চার মাধ্যমে প্রবাসে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির চর্চা এবং প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর কণ্ঠ, মঞ্চ-উপস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাঁকে টরন্টোর বাংলা সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটি পরিচিত ও সম্মানিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা রনি প্রেন্টিস-রয়ের সাংস্কৃতিক নিষ্ঠা, শিল্পসত্তা এবং প্রবাসে বাংলা সংগীতের বিকাশে তাঁর অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকেও উল্লেখ করা হয় যে, প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির ধারাবাহিক বিকাশ ও নতুন প্রজন্মের মাঝে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ পৌঁছে দিতে তাঁর মতো শিল্পীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Manual2 Ad Code
সম্মাননা গ্রহণের সময় রনি প্রেন্টিস-রয় আনন্দধারা পারফরমিং আর্টসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও বাংলা গান ও সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সন্ধ্যার পরবর্তী অংশে লাইসা আহমেদ লিসার হৃদয়ছোঁয়া রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। তাঁর পরিবেশিত রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী গানগুলো উপস্থিত দর্শকদের জন্য হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।
Manual3 Ad Code
প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির ধারক ও বাহকদের সম্মানিত করার মধ্য দিয়ে আনন্দধারা পারফরমিং আর্টস আবারও প্রমাণ করেছে যে, বাংলা ভাষা, সংগীত ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের বিকাশে প্রবাসী শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই আয়োজন ছিল বাংলা সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ঐতিহ্য পৌঁছে দেওয়ার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
Manual5 Ad Code
অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে উপস্থিত শিল্পী, অতিথি ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের পক্ষ থেকে আনন্দধারা পারফরমিং আর্টস-এর কর্ণধার শ্রীমতি শিপ্রা চৌধুরীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও আন্তরিক শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। প্রবাসের মাটিতে বাংলা সংস্কৃতি, সংগীত ও ঐতিহ্যের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে তাঁর নিরলস সাধনা, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং অসীম নিষ্ঠা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতি গভীর ভালোবাসার ফলেই টরন্টোর বুকে বারবার প্রাণ ফিরে পায় বাংলা গান, সাহিত্য ও শিল্পকলার সমৃদ্ধ ঐতিহ্য।
শুধু একজন সংগঠক হিসেবেই নয়, বাংলা সংস্কৃতির একজন নিবেদিতপ্রাণ অভিভাবক হিসেবে শ্রীমতি শিপ্রা চৌধুরী প্রবাসী বাঙালিদের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর আন্তরিক উদ্যোগে শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে গড়ে উঠছে সংস্কৃতির এক সুন্দর সেতুবন্ধন, যা বাংলা ঐতিহ্যকে ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এমন একটি স্মরণীয় ও হৃদয়ছোঁয়া আয়োজনের জন্য তাঁর প্রতি রইল আন্তরিক অভিনন্দন, অকুণ্ঠ কৃতজ্ঞতা এবং শুভকামনা।