৩২ থেকে ৪৮ দলের পর এবার ৬৪? ২০৩০ বিশ্বকাপেই দেখা যেতে পারে ৬৪ দলের আসর। ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’ আরও ১৬টি দেশ বাড়ানোর বিষয় খতিয়ে দেখার ঘোষণা দিয়েছেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই ৪৮ দলের ফরম্যাটে রূপান্তর করা হয়েছে। এর আগে ১৯৯৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হতো ৩২টি দল নিয়ে। ঐতিহাসিক ২০৩০ সালের আসরটি যৌথভাবে তিনটি মহাদেশের ছয়টি দেশে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
Manual3 Ad Code
বিশ্বকাপের শতবর্ষপূর্তি উপলক্ষে ১৯৩০ সালের প্রথম আয়োজক উরুগুয়ে, ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সদর দপ্তর থাকা প্যারাগুয়ে—এই তিন দেশ আসরের শুরুর দিকে একটি করে ম্যাচ আয়োজন করবে। আর টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলো (৪৮ দলের ফরম্যাট অনুযায়ী যা ১০১টি) ভাগাভাগি হবে মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যে।
Manual8 Ad Code
দক্ষিণ আমেরিকার প্রভাবশালী কয়েকজন নেতার কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পর, গত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরেই ২০৩০ বিশ্বকাপকে আরও বড় করার বিষয়ে আলোচনা করেছিল ফিফা।
Manual7 Ad Code
বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার সভাপতি ইনফান্তিনো নিশ্চিত করেছেন, এবারের বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর এই প্রস্তাবিত ফরম্যাট নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা করা হবে। সুইস সংবাদমাধ্যম ‘ব্লুইন’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো বলেন, ‘এই বিশ্বকাপের পর সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোতে ৬৪ দলের টুর্নামেন্টের বিষয়টি নিশ্চিতভাবেই খতিয়ে দেখা হবে এবং এটি নিয়ে আলোচনা করা হবে। ফিফা সভাপতি আবারও জোর দিয়ে বলেন যে, বিশ্বকাপ ফুটবল আসলে ‘পুরো বিশ্বের জন্য, কেবল ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার একচেটিয়া কোনো আসর নয়।’
ফিফা প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখার অধিকার প্রতিটি দেশেরই থাকা উচিত। আপনারা নিশ্চয়ই দেখছেন যে দলগুলোর মান এখন কতটা উঁচুতে—এবং পুরো বিশ্বজুড়েই এই মান দিন দিন আরও বাড়ছে। আপনি যদি ছোট দেশগুলোকে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগই না দেন, তবে নিজেদের ফুটবলকে আরও উন্নত করার কোনো আগ্রহ বা তাড়না তারা খুঁজে পাবে না।’
Manual4 Ad Code
ইনফান্তিনো আরও দাবি করেন, চলতি আসরে বিশ্বকাপকে ৪৮ দলে রূপান্তর করার সিদ্ধান্তটি ‘শতভাগ সফল’। যদিও দল বাড়ানোর এই সিদ্ধান্তটি অংশগ্রহণকারী বেশ কিছু দেশের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। যেমন ঘানার হেড কোচ কার্লোস কুইরোজ গ্রুপ পর্বের পর ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছিলেন যে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের গুরুত্ব যেমন কমেছে, তেমনি পুরো টুর্নামেন্টটি এখন ‘সস্তা ও সাধারণ’ এক আসরে পরিণত হয়েছে।
এর আগে চার বছরের বদলে প্রতি দুই বছর পর পর বিশ্বকাপ আয়োজন করা যায় কিনা—তা নিয়ে একটি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো ও ফিফা। তবে পরবর্তীতে সেই প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি তারা স্থগিত করে দেয়।