আজ রবিবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতেও বালু খেকোদের দৌরাত্ম্যে চরমে!

editor
প্রকাশিত আগস্ট ৩১, ২০২৫, ০১:৩৩ অপরাহ্ণ
শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতেও বালু খেকোদের দৌরাত্ম্যে চরমে!

Sharing is caring!

তিমির বনিক:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি অভিযানেও বন্ধ হচ্ছেনা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। কেউবা পেশী শক্তি, কেউ আবার প্রভাব খাটিয়ে, কেউ কেউ আবার প্রশাসনের চোখে ধূলো দিয়ে, কেউ বাড়ি ঘর, মসজিদ , মন্দিরের কাজের কথা বলে প্রতিনিয়তই বালু খেকোদের অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে যাচ্ছেন। এতে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পরিবেশের ওপর বিরুপ প্রতিক্রিয়াসহ ছড়ার পাড়ের বাড়ি ঘরে ভাঙ্গন, বালু পরিবহনে রাস্তাঘাটের ভাঙ্গনসহ নানাভাবে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ স্থানীয়রা।
শনিবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলের শান্তিবাগ এলাকায় ভুড়ভুরিয়া ছড়া থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠে শ্রীমঙ্গল পৌর বিএনপি’র আহবায়ক শামীম আহমদ ও রাশেদ মাস্টার নামক এদের বিরুদ্ধে। বালু উত্তোলনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় দলীয় পদবীর প্রভাব খাটিয়ে বালু উত্তোলন করছেন।
এ ব্যাপারে শ্রীমঙ্গল পৌর বিএনপি’র আহ্বায়ক  শামীম আহমদ জানান, আমি কখনো বালু ব্যবসা করিনি, ভবিষ্যতেও এই ব্যবসা করার ইচ্ছা নাই। তবে শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বালু উত্তোলনের একটি ভিডিও ভাইরালের বিষয়ে তিনি বলেন, তার বাসা ছড়ার পাড়ে অবস্থিত। পাহাড়ি বা ঘোলায় তার বাসা ও রাস্তা ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই তিনি ২জন শ্রমিক দিয়ে ছড়া থেকে বালু তুলে বস্তায় ভরে ছড়ার পাড়ে ও রাস্তা মেরামত করার কাজ করিয়েছি।
এ ব্যপারে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো: ইসলাম উদ্দিন বলেন, ইজারাবিহীন ঘাট বা ছড়া থেকে কারোরই বালু তুলার কোন সুযোগ নেই। এ ব্যাপারে প্রশাসনের কড়া নজরদারি রয়েছে। যারা এ কাজের সাথে জড়িত হবেন তাদেরকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, বিগত এক বছরে ইতিমধ্যে ১৬টি নিয়মিত মামলা, ৭টি মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালানা করা হয়েছে। এতে প্রচুর পরিমানে বালু ও পরিবহনে ব্যবহৃত যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে। জব্দকৃত বালু ইতিমধ্যে ৩ বার নিলাম ও করা হয়েছে যার আনুমানিক পরিমান ৭১২৮৫ ফুট বালু।
তিনি বলেন, খবর পেয়ে শনিবার শ্রীমঙ্গলের শান্তিবাগ এলাকায় অভিযানে যায় মোবাইল কোর্ট। সেখানে জনৈক শামীম আহমদ তার বাসার পাশে ছড়ার পাড় রক্ষার জন্য ছড়া থেকে বালু তুলে তা বস্তায় ভরছিলেন। তবে এটিও করা যাবেনা বলে জানান তিনি, তিনি স্থানীয় লোকজনদের ডেকে শামীম আহমদসহ সবাইকে বলেন, এরকম কাজ ভবিষ্যৎ এ না করার জন্য। তা না হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) মো: মহিবুল্লাহ আকন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় শান্তিবাগ এলাকায় অভিযানে যান। সেখানে কিছু লোক কর্তৃক অবানিজ্যিকভাবে বালু উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া যায়। এবং স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করে হুঁশিয়ারি বার্তা দেন। ইজারাবিহীন কোন ঘাট ও ছড়া থেকে বানিজ্যিক কিংবা অ-বানিজ্যিক কোনভাবেই বালু উত্তোলন করা যাবেনা। তিনি সদ্য নিযুক্ত শ্রীমঙ্গল ভূমি অফিসে একসাপ্তাহের মধ্যে তিনদিনই অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযান করতে হয়েছে।
তিনি বলেন,উপজেলায় ২৬টি বালু মহাল রয়েছে যার মধ্যে ইজারাকৃত ৬টি। ইজারা দেয়া ছড়াগুলো হচ্ছে জৈনকাছড়া, জাগছড়া (পশ্চিম অংশ), সুমইছড়া, নারায়নছড়া, বৌলাছড়া ও বড়ছড়া। বাকী ছড়াগুলো ইজারা বিহীন।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন ছড়া, ও জমির মাটি কেটে জমির নিচ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে একটি চক্র। এতে একদিকে নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হচ্ছে, অন্যদিকে সড়ক ও জনপদের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলেন, ইজারা নিয়ে নিয়ম মেনে বালু উত্তোলন করার সরকারি নিয়ম রয়েছে। শ্রীমঙ্গলের সবগুলো ছড়া যদি বৈধ ইজারার আওতায়ধীন হয় তাহলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সংখ্যা কমে আসবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন আরো বলেন, প্রতিটি ছড়ার দৈঘ্য ৮/১০ কিলোমিটার কোন টা তারও বেশি। এই ছড়াগুলোতে সিলিকাবালু উৎপন্ন হয়। দীর্ঘ এলাকাজুড়ে ছড়াগুলো নজরদারীতে রাখতে তাদের হিমসীম খেতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে জনগণের সচেতন হওয়া জরুরি নতুবা তা রক্ষা করা কষ্টকর হয়ে উঠবে। তবে কষ্ট হলেও আমরা অভিযান অব্যাহত রাখবো। যারাই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।