আজ বুধবার, ১০ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুমের দায় কোন বাহিনীর নয় : কমিশন

editor
প্রকাশিত মার্চ ৪, ২০২৫, ০৬:২৪ অপরাহ্ণ
গুমের দায় কোন বাহিনীর নয় : কমিশন

Manual1 Ad Code

কামরুজ্জামান হিমু 

গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত বিচারক মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, গুমের সঙ্গে জড়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ব্যক্তিগত ফৌজদারি দায় রয়েছে। এ দায় বাহিনীর ওপর বর্তায় না।

Manual3 Ad Code

মঙ্গলবার দুপুরে গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বলেন, অপরাধীরা অনেক সময় আইনের হাত থেকে বাঁচতে নিজেদের ধর্ম, সম্প্রদায় বা সামাজিক গোষ্ঠীর আড়ালে লুকানোর চেষ্টা করে। এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘আইডেন্টিটি বেজড ডিফেন্স’ বা ‘কমিউনিটি শিল্ডিং’। তবে ফৌজদারি অপরাধ সর্বদাই ব্যক্তিগত দায়ের মধ্যে পড়ে, এতে গোটা বাহিনীকে দায়ী করার সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যেসব সদস্য গুমের মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গুম কমিশনের সভাপতি বলেন, ‘গুমের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে এবং কালিমা মোচন হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার যেসব সদস্যের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ রয়েছে- তাদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কমিশন অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এই তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য।

গুম তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, ‘প্রতিটি গুমের ঘটনা তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে পরিচালিত হয়েছে। ২০০৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত গুমের ঘটনায় সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নির্দেশ ছিল। গুম তদন্ত কমিশনে এ পর্যন্ত ১৭৫২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০০টি অভিযোগের প্রাথমিক যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। ২৮০ জন অভিযোগকারীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রায় ৪৫ জন কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।’

Manual1 Ad Code

কমিশন জানায়, গত ৫ আগস্ট হাসিনার পতনের পর ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো ১৪০ জনের একটি তালিকা যাচাই করে সেখানে গুম হওয়ার কারো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশন সদস্য নাবিলা ইদ্রিস বলেন, ‘গুমের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আমাদের বলেছেন যে, তারা সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশ মেনেই কাজ করতেন। কিন্তু গুমের তদন্ত করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ম্যান্ডেট আছে এই সরকারের। সুতরাং এখন যারা জেনারেলদের পালাতে সাহায্য করছেন তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ করছেন না। এটি আপনাদের ব্যক্তিগত দায়।’

Manual6 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে এ সময় গুম সংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী এবং মানবাধিকার কর্মী সাজ্জাদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

Manual8 Ad Code