বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মঙ্গলবার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বসবে ভারত
বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মঙ্গলবার সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বসবে ভারত
editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৩:০২ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual2 Ad Code
বাংলাদেশের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার ভারতের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে ব্রিফ করবে মোদি সরকার। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্র বিষয়ক এই সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন দেশটির পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এই খবর দিয়েছে ইন্ডিয়া টুডে।
ইন্ডিয়া টুডের খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। ভারতের দীর্ঘদিনের মিত্র শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগকে ছাড়াই এবারের ভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় নতুন নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Manual4 Ad Code
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ঢাকার সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কের বর্তমান টানাপোড়েন এবং নির্বাচনের পর নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে পররাষ্ট্র বিষয়ক এই সংসদীয় স্থায়ী কমিটির এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে।
এতে আরও বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটার প্রেক্ষাপটে ভারত তার প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। বিশেষ করে দিল্লির দীর্ঘদিনের মিত্র শেখ হাসিনা এবং তার দল আওয়ামী লীগকে ছাড়াই যখন বাংলাদেশ এই নির্বাচনে যাচ্ছে।
Manual8 Ad Code
বৈঠকের এজেন্ডায় বাংলাদেশের পাশাপাশি গুরুত্ব পাচ্ছে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যে শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করায় ভারত আগামী ৫ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে এই চুক্তির বিনিময়ে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ভারত তেল কেনা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছেন, ভারত এখনো সব বিকল্প খোলা রাখছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এফটিএ বৈঠকে ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও আলোচনা হবে, যাকে কূটনীতিকরা ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বা সব চুক্তির জননী হিসেবে অভিহিত করছেন। ভারতের কৃষি খাত মার্কিন বা ইউরোপীয় পণ্যের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে ওঠা প্রশ্নেরও জবাব দিতে পারেন সরকারি কর্মকর্তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ একদিকে যেমন রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘদিনের জ্বালানি সম্পর্ক রক্ষার চ্যালেঞ্জ রয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশের নির্বাচনী ফলাফল ভারতের ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতির জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।