আজ শুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভারতকে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ড জয়

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০১:১৪ পূর্বাহ্ণ
ভারতকে হারিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার রেকর্ড জয়

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual2 Ad Code

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে দুর্দান্ত শুরু করল দক্ষিণ আফ্রিকা। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ৯০ হাজার ৯৫৪ দর্শকের সামনে ভারতকে ৭৬ রানে হারিয়েছে প্রোটিয়ারা। ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৭ রান করার পর ভারতকে গুটিয়ে দিয়েছে ১১১ রানে। রানের হিসাবে এটি বিশ্বকাপে ভারতের সবচেয়ে বড় হার।

রোববার আহমেদাবাদে সুপার এইট পর্বের গ্রুপ ওয়ানের ম্যাচে ৭৬ রানের বিশাল ব্যবধানে জিতেছে প্রোটিয়ারা। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ উইকেটে ১৮৭ রান স্কোরবোর্ডে জমা করার পর ভারতীয়দের ৭ বল বাকি থাকতে ১১১ রানে অলআউট করে দেয় তারা। দুই দল বিশ্বকাপের মঞ্চে শেষবার মুখোমুখি হয়েছিল সবশেষ অনুষ্ঠিত ২০২৪ সালের আসরের ফাইনালে। সেদিন দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। সেই ক্ষতে এবার কিছুটা হলেও প্রলেপ দিল এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন দল।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত এর আগে কখনোই ৫০ বা এর চেয়ে বেশি রানের ব্যবধানে হারেনি। ২০১০ সালের আসরে ব্রিজটাউনে তারা অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাস্ত হয়েছিল ৪৯ রানে। ১৬ বছর ধরে টিকে থাকা সেই রেকর্ড ভাঙা পড়ল ব্যাটে-বলে তাদের নাজুক পারফরম্যান্সে।

চতুর্থ ওভারের মধ্যে ২০ রান করতে টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। অন্যদিকে, পঞ্চম ওভারে ২৬ রান তুলতে সাজঘরে ফেরেন ভারতেরও তিন টপ অর্ডার ব্যাটার। শুরুর বিপর্যয়ের চিত্র একই রকম হলেও দুই দলের ইনিংসের বাকি অংশের চিত্রনাট্য ছিল একেবারে ভিন্ন। প্রোটিয়ারা ঘুরে দাঁড়ালেও ভারতীয়রা ব্যর্থতার বৃত্তেই ঘুরপাক খায়।

দক্ষিণ আফ্রিকার এই দুর্দান্ত জয়ের রূপকার মিলার। যখন দলের ওপর প্রবল চাপ, ঠিক তখনই পাঁচ নম্বরে নেমে পাল্টা আঘাত হানেন তিনি। মাত্র ৩৫ বলে ৬৩ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কারও জিতে নেন। তার ব্যাট থেকে আসে সাতটি চার ও তিনটি ছক্কা। গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন ব্রেভিস ও স্টাবস। চারে নেমে তিনটি করে চার ও ছক্কায় ২৯ বলে ৪৫ রান করেন ব্রেভিস। আর ছয়ে নামা স্টাবস শেষদিকে দলের পুঁজি দুইশর কাছাকাছি নিয়ে যান। ৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে ২৪ বল মোকাবিলায় তিনি মারেন তিনটি ছক্কা ও একটি চার।

মিলার ও ব্রেভিসের ৫১ বলে ৯৭ রানের চতুর্থ উইকেট জুটিতে চাপ এড়িয়ে শক্ত ভিত মেলে প্রোটিয়াদের। ব্রেভিসের বিদায়ের পর মিলার ২১ বলে ৩৫ রান যোগ করেন স্টাবসের সঙ্গে। মাঝের ওভারগুলোতে ভারতের বোলাররা ছিলেন নির্বিষ। বরুণ ও হার্দিকের পাশাপাশি ঝড় যায় ওয়াশিংটন সুন্দর ও শিবম দুবের ওপর দিয়ে।

বরুণ চক্রবর্তী ও হার্দিক পান্ডিয়া বেদম পিটুনি খেলেও ভারতের দুই পেসার জসপ্রিত বুমরাহ ও অর্শদীপ সিং ভালো বোলিং করেন। বিশেষ করে বুমরাহ দেখান অনবদ্য নৈপুণ্য। ৪ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচায় তিনি শিকার করেন ৩ উইকেট। ২ উইকেট নিতে অর্শদীপের খরচা হয় ২৮ রান।

Manual2 Ad Code


রান তাড়ায় ভারতের হয়ে ১৮ রান পার করতে পারেন কেবল দুবে। নবম ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে তিনি করেন ৪২ রান। ৩৭ বল খেলে তিনি মারেন একটি চার ও তিনটি ছক্কা। শূন্য রানে বিদায় নেন তিনজন— ইশান কিষাণ, রিঙ্কু সিং ও বুমরাহ। টানা তিনটি ডাকের পর বিশ্বকাপে রানের খাতা খুলতে পারলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি অভিষেক শর্মা। তিনি দুটি চার ও একটি ছক্কায় ১২ বলে ১৫ রানে থামেন।

Manual4 Ad Code

প্রথম ওভারেই ইশানকে বিদায় করে মার্করাম সুর বেঁধে দেওয়ার পর পেস বোলিং অলরাউন্ডার ইয়ানসেন জ্বলে ওঠেন। পাওয়ার প্লের মধ্যে তিলক বর্মা ও অভিষেককে আউট করার পর ম্যাচের শেষ দুই বলে নেন দুবে ও বুমরাহর উইকেট। ৪ উইকেট নিতে তার খরচা হয় ২২ রান। বাঁহাতি স্পিনার মহারাজ ২৪ রানে ৩ ও অলরাউন্ডার বশ ১২ রানে ২ উইকেট পান।

Manual3 Ad Code