আজ বৃহস্পতিবার, ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদায় পাকিস্তানের, সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড

editor
প্রকাশিত মার্চ ১, ২০২৬, ০৩:০১ পূর্বাহ্ণ
বিদায় পাকিস্তানের, সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড

Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
  • বিশ্বকাপে বিদায় প্রায় নিশ্চিত—তবু লড়াইটা শেষ বল পর্যন্ত। শেষ ওভারে ২৮ রান দরকার, হাতে দাসুন শানাকার ব্যাট। টানা ছক্কায় ম্যাচ জমিয়ে তুলেও শেষ দুই বলে ৬ রান তুলতে না পারায় শ্রীলঙ্কাকে ৫ রানে হারিয়ে সান্ত্বনার জয় পেল পাকিস্তান।

জিতেও বিদায় পাকিস্তানের, সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড
৬৫ রানের ব্যবধানে জিততে না পারলে জিতেও লাভ নেই পাকিস্তানের। এটা তো জানা ছিলোই৷ তাই তো ব্যাটিংয়ে দুই ওপেনার এমন তাণ্ডব চালান। কিন্তু শেষ ৩৪ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বিপদ ডেকে আনে তারা। নইলে ২১২ রানের সংগ্রহটা আরও বাড়তে পারতো।

Manual3 Ad Code

শ্রীলঙ্কাকে থামাতে হতো ১৪৮ রানে। সেটি পাকিস্তান পারেনি। তবে ম্যাচ জিতেছে। আর জিতলেও সেটি ছিল একেবারে কষ্টার্জিত জয়। শেষ ১২ বলে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য দরকার ছিল ৪৬ রান। দাসুন শানাকা তীব্র লড়াই চালিয়ে ৪০ রান সংগ্রহ করেন। এরপরও শেষ পর্যন্ত হারতে হলো ৫ রানে।

জিতলেও বিদায় নিশ্চিত হয়েছে পাকিস্তানের। সেমিফাইনালে চলে গেছে নিউজিল্যান্ড। ঘরের মাঠে সুপার এইটে একটি ম্যাচও জিততে পারলো না শ্রীলঙ্কা।

কলম্বোতে ২১৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৩ রান করে দলীয় ৮ রানে সাজঘরে ফেরেন শ্রীলঙ্কার পাথুম নিশাঙ্কা। উইকেট পান নাসিম শাহ। ৩৩ রানে পতন হয় দ্বিতীয় উইকেটের। আবরার আহমেদের বলে কামিল মিশারা ২৬ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন। ২৫ রান করা চারিত আসালাঙ্কাকেও ফেরান আবরার। ৭৫ রানে ৩ উইকেট তুলে নেয় পাকিস্তান। এরপরও ম্যাচ কঠিন হয়ে পড়ে।

সহজ করার দায়িত্ব নেন আবরারই। ৯৪ রানে কামিন্দু মেন্ডিসকেও পরাস্ত করেন। তিনি করেন মাত্র ৩ রান। আবরারের সঙ্গে উইকেট মিশনে যোগ দেন মোহাম্মদ নওয়াজ। ৫ রান করা জানিত লিয়ানেজকে ফিরিয়ে দিলে ১০১ রানে ৫ উইকেট হারায় লঙ্কানরা। শেষ ম্যাচে জয়ের দেখা পেতে মরিয়া শ্রীলঙ্কার হাল ধরেন পাভান রত্নায়েক ও অধিনায়ক দাসুন শানাকা ৬১ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিতেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায় পাকিস্তানের। শাহিন আফ্রিদির বলে ৩৭ বলে ৫৮ রান করা রত্মায়েক বিদায় নিলেও আনন্দের কিছুই ছিল না পাকিস্তানের।

দাসুন শানাকা সেখান থেকে আবারও লড়াই শুরু করেন। ৮ ছক্কা ও ২ চারে ৩১ বলে ৭৬ রান করে অপরাজিত ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জেতাতে পারেননি দলকে। মাঠ ছেড়েছেন ৫ রানে হেরে। লঙ্কানদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ২০৭। জিতলেও পরাজয়ের মতো কষ্ট নিয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলো পাকিস্তান।

আবরার আহমেদ সর্বোচ্চ ৩ উইকেট পেয়েছেন। একটি করে শাহিন, নাসিম ও নওয়াজ।

এর আগে, বাঁচা-মরার ম্যাচে কেমন ব্যাটিং করতে হয় তা দেখিয়ে দেন পাকিস্তানের দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান। দুজনে মিলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি গড়লেন ১৭৭ রানের। এরপর ফারহান করলেন হার না মানা শতক। তাতেও হয়েছে রেকর্ড। প্রথম ব্যাটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কোনো ব্যাটার দুট সেঞ্চুরি করলেন এক আসরে। আর তাতেই দুশো ছাড়িয়ে ৮ উইকেটে ২১২।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পাল্লেকেল্লেতে শ্রীলঙ্কার আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে স্বাগতিক বোলারদের তুলোধুনো করেছেন দুই ওপেনার। সেমিফাইনালে যেতে ৬৫ রানের বেশি ব্যবধানে জয়ের দেখা পেতেই হবে। ব্যাটিংও করলেন সেই মেজাজেই।

পাওয়ার প্লেতে ৬ ওভারে যোগ হয় ৬৪ রান। ওই ছয় ওভারেই নিশ্চিত হয়ে যায় আজ আর থামানো যাচ্ছে না পাকিস্তানের দুই ওপেনারকে। মাঠের চারদিকে চার-ছয়ের পসরা সাজিয়ে লঙ্কান গ্যালারিতে শোকের আবহ তৈরি করেন তারা দুজন।

Manual4 Ad Code

৯.৫ বলে দলীয় ১০০ রান পূর্ণ হয় পাকিস্তানের। ১০ ওভারের পর দুজনই পান অর্ধশতকের দেখা। লঙ্কান বোলাররা মোটেই সুবিধা করতে পারছিলেন না এই দুই ব্যাটারের সামনে।

১৪ ওভার শেষে ১৫০ রান যোগ হয় পাকিস্তানের বোর্ডে ফখর ও ফারহানের ঝড়ে। এরপর তারা টপকে যায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৭৬ রানের উদ্বোধনী জুটির রেকর্ড। এবারের আসরেই চেন্নাইতে টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেন সংযুক্ত আরব-আমিরাতের বিরুদ্ধে দুজনে মিলে গড়েন অপরাজিত ১৭৬ রানের জুটি।

পাকিস্তানের রেকর্ড ১৭৭ রানের জুটিটা ভাঙে দুশমন্থ চামিরার বলে। ৪২ বলেন ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে বোল্ড হন তিনি। ইনিংসটি সাজান ৯ চার ও ৪ ছক্কায়। কলম্বোর মাঠের চারপাশে চার-ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন তিনি।

তার বিদায়ের পর মাঠে নামা খাজা নাফেও আউট হয়ে গেছেন দ্রুতই। ৩ বলে ২ রান করেন তিনি মাদুশাঙ্কার বলে আউট হওয়ার আগে।

তবে থামানো যায়নি সাহিবজাদা ফারহানকে। ৫৯ বলে আদায় করে নিয়েছেন এই আসরে তার দ্বিতীয় শতক। এর আগে গ্রুপ পর্বে নামিবিয়ার বিপক্ষে ৫৮ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। প্রথমবার কোনো ব্যাটার এক আসরে করলেন দুটি সেঞ্চুরি। আউটও হয়েছেন বরাবর ১০০ রানেই মাদুশাঙ্কার বলে লিয়ানেজকে ক্যাচ দিয়ে। এই আসরে ৩৮৩ রান করে সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক এখন তিনি।

শাদাব খান ৭ করে আউট, মোহাম্মদ নওয়াজ ও অধিনায়ক সালমান আলি আগা ব্যর্থ হয়েছেন রানের খাতা খুলতে। ৪ রান করেছেন শাহিন আফ্রিদি। উসমান খান ৮ রান করে অপরাজিত ছিলেন।

Manual7 Ad Code

শ্রীলঙ্কার হয়ে তিনটি উইকেট পেয়েছেন মাদুশাঙ্কা। দুটি দাসুন শানাকা ও একটি দুশমন্থ চামিরা।

সুপার এইটে তিন ম্যাচেই হেরে বিশ্বকাপ শেষ করল শ্রীলঙ্কা। আর নাটকীয় জয়ে সান্ত্বনা পেলেও নেট রানরেটের ব্যবধানে বিদায় নিতে হলো পাকিস্তানকে। শেষ ওভারের দুই ডট বল—এই ম্যাচের, এমনকি পুরো অভিযানের গল্পটাই বদলে দিল।

Manual1 Ad Code