আজ বৃহস্পতিবার, ১২ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি বন্ধে কী প্রভাব বাংলাদেশে?

editor
প্রকাশিত মার্চ ৩, ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ণ
হরমুজ প্রণালি বন্ধে কী প্রভাব বাংলাদেশে?

Manual8 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

  • যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সতর্ক সরকার জ্বালানির উৎসের বিকল্প ভাবনা ভাবতে শুরু করেছে।

ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে নানামুখী সংকট কতটা মাথা চাড়া দিতে পারে সেই দুশ্চিন্তার মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধের তাৎক্ষণিক প্রভাব বেশি ভাবাচ্ছে বাংলাদেশকে।

পণ্য পরিবহনের বৈশ্বিক এ গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলতে না পারলে কতটা ভুগতে হবে, জ্বালানি সরবরাহের শঙ্কাইবা কতটুকু আর অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়বে সেই আলোচনা সামনে এসেছে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে।

এ কারণে যুদ্ধের গতি প্রকৃতির ওপর নজর রাখার পাশাপাশি বিকল্প নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে সরকার। জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ ঠিক রাখতে সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন আর করণীয় ঠিক করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের দ্বিতীয় দিনেই পারস্য উপসাগরে ঢোকার একমাত্র এ প্রবেশপথ বন্ধে জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখার বার্তা দিয়েছে ইরান। যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার মধ্যে এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের বাজারে।

একদিনেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ১০ শতাংশের বেশি। সামনে যুদ্ধ কোনদিকে মোড় নেবে সেই শঙ্কার মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) পাইপলাইনে থাকা জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে শুরু করেছে। এটি ভাবাচ্ছে ব্যবসায়ী, শিল্প উদ্যোক্তা ও শিপিং লাইনগুলোকেও।

বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি ও অন্য পণ্য আমদানিতে তেমন একটা ব্যবহার না হওয়ায় জ্বালানি পণ্য পরিবহন ছাড়া আপাতত তেমন জটিলতা না থাকার কথা বলছেন সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও শিপিং খাতের কর্তা ব্যক্তিরা।

তবে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে দেখা দেবে অনিশ্চয়তা। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কিছু দেশে তৈরি পোশাক, খাদ্যপণ্য ও ওষুধ রপ্তানি হয়ে থাকে বাংলাদেশ থেকে।

জ্বালানি সরবরাহের প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এখন যে পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও এলএনজি মজুত রয়েছে তাতে ‘অচিরে সংকট’ দেখার শঙ্কা নেই। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি হতে পারে সংকটময়, যেটির প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতির সব সূচকে।

Manual8 Ad Code

জ্বালানির দেশি বিকল্প না থাকায় এমন সংকটময় পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে সব সময় বিকল্প রাখার পরামর্শ এসেছে অর্থনীতিবিদ কে এ এস মুরশিদের তরফে।

তিনি বলেন, “একটা অস্থিরতা এরইমধ্যে আমরা লক্ষ্য করছি বিশ্ববাজারে। তেলটাই সবচাইতে বড় ফ্যাক্টর এখানে। জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে যাবে। এর সাথে অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এটা কতদিন চলবে সেটির ওপর নির্ভর করছে সবকিছু।”

বিআইডিসের সাবেক এই মহাপরিচালক বলেন, এ থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য জ্বালানি মজুতের বিষয় খুবই জরুরি।

Manual5 Ad Code

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধের বিষয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের জ্বালানি চাহিদার সিংহভাগ মেটে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা তেল ও এলএনজিতে। সেখানকার সঙ্গে বাণিজ্য যোগাযোগ বন্ধ হলে স্বাভাবিকভাবেই পণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে। উৎপাদন খরচ বেড়ে মূল্যস্ফীতি উস্কে দেওয়ার সঙ্গে রপ্তানির বাজারও সংকুচিত হবে।

তারা বলছেন, তাৎক্ষণিকভাবে যে সংকট তৈরি হবে তা এখনই বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে না দিলেও নির্বাচিত নতুন সরকারের হাত ধরে অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা কাটানোর যে আশা করা হচ্ছিল তা হোঁচট খাবে।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে এলএনজির উৎস থাকলেও বিশ্বের সব দেশ ওইমুখী হলে তখন যেমন দাম বাড়বে, যোগানেরও স্বল্পতা দেখা দেবে। যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির প্রতিষ্ঠান এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে চুক্তি থাকলেও তারাও কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ করায় শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এলএনজি যেটা আছে এটা আমরা কয়েক পিরিওডিক্যালি নিয়ে আসি। এ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে নয়টা আমাদের আসার কথা, সাতটা ইতিমধ্যে সেই পথ পেরিয়ে চলে আসছে। দুইটা নিয়ে হয়তো কিছুটা সংশয় আছে।

“এটা হয়তো এক-দুই দিন গেলে এটা আরও বোঝা যাবে যে সেই দুইটা আনতে পারছি কি না। না হলে, বিকল্প উৎস দেখতে হবে আরকি, অন্য কোনো উৎস থেকে আমরা এটা জমাব।”

এলএনজি সরবরাহকারীদের ভিন্ন উৎস থেকে সরবরাহের জন্য চিঠি চালাচালি শুরুর কথাও তুলে ধরেন তিনি।

দেশের তেল আমদানির মূল প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রায়ত্ত বিপিসির কর্মকর্তারাও এখন পর্যন্ত নিরাপদ মজুত থাকার কথা বলেছেন। এতে করে আগামী আড়াই থেকে তিন মাস পর্যন্ত সংকট হবার কথা নয় বলে তাদের ভাষ্য।

বিপিসির পরিচালক (বাণিজ্য) একেএম আজাদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলেও এখনই জ্বালানি সংকট হবার কোনো সম্ভাবনা নেই।

“আমরা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে অপরিশোধিত তেল আনি। এর বাইরে কয়েকটি দেশ থেকে অন্য পথে পরিশোধিত তেল আনা হয়। তাদের সঙ্গে আগামী জুন পর্যন্ত তেল সরবরাহ করার চুক্তি রয়েছে।”

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও এখনই কোনো শঙ্কা দেখছেন না। “আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি এসব দিক দিয়ে শঙ্কার কোনোই কারণ নাই।”

সোমবার সচিবালয়ে তিনি বলেন, “আজকের দিনে এই মুহূতে আমি এত আশঙ্কার মধ্যে যাব না। কারণ যদি দেখা যায় আগামী দুই-তিনদিন বা দুই-চারদিনের মধ্যে যদি সমাপ্তি ঘটে তাহলে তো আমরা আবার স্বাভাবিকতার মধ্যে ফেরত আসব। আমরা দেখি আসলে পরিস্থিতিটার কীভাবে বিকাশ হয়। সামনের দিকে এগিয়ে যায়।”

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব কোথায়

যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজে জাহাজ না চালাতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের বার্তার পর বিশ্বজুড়ে আবার আলোচনায় এসে এ প্রণালি।

বিশ্লেষকরা আগে থেকেই সতর্ক করে আসছেন, এ পথে জাহাজ চলা বন্ধ হলে বৈশ্বিক তেলের বাজার অস্থির হয়ে পড়তে পারে।

কেননা বিশ্বের জাহাজ চলাচলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোর অন্যতম এ প্রণালি। প্রণালিটির ভৌগলিক অবস্থানের কারণেই এটি গুরুত্বপূর্ণ।

এটির উত্তর পাশে ইরান এবং দক্ষিণপাশে ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। দু’য়ের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া এই করিডোরের প্রবেশ এবং প্রস্থানপথ প্রায় ৫০ কিলোমিটার প্রশস্ত। সবচেয়ে সরু অংশ প্রায় ৩৩ কিলোমিটার প্রশস্ত।

এ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রধান তেল ও গ্যাস উৎপাদক এবং তাদের ক্রেতারা এ প্রণালি দিয়েই তেল-গ্যাস আনা নেওয়া করে।

বিশ্বের তেলের বাজারের ২০ শতাংশ তেল এ পথে পরিবহন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসন (ইআইএ) এর হিসাবে, ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল তেল এই প্রণালি দিয়ে যেত; যা প্রতিবছর সমুদ্রপথে পরিবহন করা প্রায় ৬০ হাজার কোটি ডলার মূল্যের জ্বালানি বাণিজ্যের সমতুল্য।

ইরান ছাড়াও অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ ইরাক, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এ পথে সরবরাহ করা হয়।

অতীতের অনেক সংঘাতের ক্ষেত্রে ইরান বারবার হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়ে এসেছে। কিন্তু কখনও তারা সেটি করেনি। তবে এবারের যুদ্ধ পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিচ্ছে।

বাংলাদেশে জ্বালানি মজুত কতটা?

দেশে বছরে জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রায় ৭৫ লাখ টন। মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল এবং সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, চীন, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল এনে এ চাহিদা মেটানো হয়।

বিপিসি কর্মকর্তারা বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হওয়া ডিজেলের মজুত আছে ১৫ দিনের। অপরিশোধিত তেলবাহী দুটি জাহাজ দেশের পথে থাকায় ডিজেলের মজুত আরও বাড়বে।

রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিটির কর্মকর্তা আজাদুর রহমান বলেন, এর বাইরে দেশে কেরোসিন মুজত আছে ১০০ দিনের। যে পরিমাণ অকটেন আছে তা দিয়ে চলবে ২০ থেকে ২৫ দিন। ফারনেস অয়েলের চাহিদা মেটানো যাবে ৯০ দিন। মোটা দাগে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এটা শুধু বাংলাদেশের একার সমস্যা না, বিশ্বব্যাপীই এর প্রভাব পড়বে।

যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল না পেলেও পরিশোধিত তেল সরবরাহে কয়েকটি দেশের সঙ্গে চুক্তি থাকায় সেখান থেকে সরবরাহ আসার কারণে অচিরেই সংকট হবে মনে করছেন না তিনি।

এলএনজি আমদানিতেও একই রকম চুক্তির কথা তুলে ধরে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান এরফানুল হক বলেন, “এখন ইউএসএর কোম্পানি যে এক্সেলারেট আছে, এক্সেলারেটের সাথে কিন্তু আমাদের একটা চুক্তি আছে এলএনজি আনার জন্য। ওরা বছরে আমাদেরকে ১৪টি কার্গো দেবে।

“তবে এখানে একটু পার্থক্য হচ্ছে এরকমের যে বা যারা আমাদের সাথে চুক্তি করে- তারা যে নিজের দেশ থেকেই দেয় এলএনজি, বিষয়টা কিন্তু এরকম না। উনি যেখানে পান সেখান থেকে দেন। যেমন এক্সেলারেট ইউএস কোম্পানি, বাট তারা কিন্তু এলএনজি দিচ্ছে আবার কাতার থেকে।”

এর বাইরে অস্ট্রেলিয়া, অ্যাঙ্গোলা আছে, মালয়েশিয়ার মত বিকল্প উৎস থাকার কথা বলেন তিনি।

তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকলে তখন সব দেশ ওইদিকে ঝুঁকলে দাম বেড়ে যাওয়ার শঙ্কার কথা তুলে ধরেন তিনি।

এ মুহূর্তে সংকট মোকাবেলায় তারা কী করছেন জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান বলেন, “সাপ্লাইয়ারদেরকে সেনসিটাইজ করার চেষ্টা করছি যে তোমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছ, আমাদের সাথে যে চুক্তি আছে এটা তোমরা পালন করবা–এইটুকুই।”

এলপিজি আমদানির চিত্রও প্রায় একই রকম। দেশে প্রতিবছর ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন এলপিজির চাহিদার ৭০ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বিশেষ করে কাতার, কুয়েন, ওমান থেকে।

এলপিজি অপারেটরস অব বাংলাদেশের সভাপতি আমিরুল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বেশিরভাগ জ্বালানি হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদে হলে এর প্রভাব পড়বেই। তবে আপাতত সংকট হবার সম্ভাবনা কম।

হরমুজ বন্ধের প্রভাব অন্য খাতে পড়বে?

Manual8 Ad Code

দেশের রপ্তানির প্রধান খাত পোশাকের উদ্যোক্তারা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলেও সরাসরি পণ্য পাঠাতে তারা সমস্যায় পড়বেন না। তবে পরোক্ষ প্রভাব পড়বে এ খাতে। জ্বালানি খাত অস্থিতিশীল হলে তা বিভিন্নভাবে এ খাতে সংকট তৈরি করবে। উৎপাদন খরচা বেড়ে রপ্তানি কমার শঙ্কা রয়েছে তাদের মধ্যে।

প্রতিদিন তিন লাখ থেকে সাড়ে তিন লাখ পিস পোশাক উৎপাদন করা কোম্পানি টিএডি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশিকুর রহমান তুহিন বলেন, তারা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে চলছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজে হুতিদের হামলার কারণে তারা আফ্রিকার সমুদ্রপথ ব্যবহার করছেন।

তবে হরমুজ বন্ধ থাকার প্রভাবে তেলের দাম বাড়লে পোশাকের কাঁচামাল কৃত্রিম তন্তুর মত কাপড়সহ অন্যকিছুর দাম বাড়লে এ খাতে চাপ তৈরির শঙ্কার কথা তুলে ধরেন তিনি।

আগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতার কেনা কমিয়ে দেবেন। তখন প্রভাব পড়বে রপ্তানিতে।

খাত সংশ্লিষ্টরা কী বলছেন?

জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খায়রুল আলম সুজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তেলের বাজার অস্থির হলে জাহাজ ভাড়া বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের শিল্প ও কৃষি খাত, পরিবহন, বিদ্যুৎ খাতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে এবং উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

“হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনকারী জাহাজই বেশিরভাগ আসে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে হাতে গোনা কয়েকটি ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়ে থাকে। যদি এ পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হলে দেশে জ্বালানির সংকট হবে, দাম বাড়বে। এতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর ভাড়াও বাড়বে। এর সামগ্রিক প্রভাব দেশের সাধারণ মানুষের ওপর গিয়ে পড়বে পড়বে।“

এজন্য জ্বালানি তেলের বিকল্প বাজার খোঁজার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব শিবির বিচিত্র বড়ুয়া বলেন, “আমরা এখনই কোনো শঙ্কা দেখছি না। তবে জোরেশোরে যুদ্ধ চলতে থাকলে শঙ্কা তো থাকবেই।”

সেক্ষেত্রে আমদানি নির্ভর কোন পণ্য বা বাজারে প্রথমেই ধাক্কা লাগতে পারে এমন প্রশ্নে এখনও মন্ত্রণালয় মূল্যায়ন করছে বলে তুলে ধরেন তিনি।

ভবিষ্যতের শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ

মধ্যপ্রাচ্য কিছু হলেই জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হওয়ার এমন প্রেক্ষাপট থেকে ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ কে এ এস মুরশিদ।

Manual8 Ad Code

তার ভাষ্য, “এখন ডে-টু-ডে বেসিস বাজারের উপরে নির্ভর করাটা এটা বোকামি মনে হয়। কারণ খাদ্যের জন্য যেমন সত্য এবং এনার্জির জন্য সমানভাবে সত্য। কাজেই এখান থেকে এই শিক্ষাটা নিতে হবে। তবে এই মুহূর্তে আর তেমন কিছু করার নেই, অপেক্ষা করা ছাড়া।

“এবং আশা করব যে আমাদের যথেষ্ট তেল আছে অন্তত মাসখানেক কাভার করার জন্য।”

সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিআইডিএসর সাবেক এই মহাপরিচালক হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে খাদ্যপণ্য ও ওষুধ রপ্তানির পুরোটাই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কাও দেখছেন। ভিন্ন পথে সরবরাহে বাড়তি খরচার মুখে পড়তে হবে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের।

দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ চালু থাকলে তা মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে বলেও শঙ্কা তার। বলেন, “এমনিতেই তো একটু সংকটের মধ্যে আছি। এটা থেকে পুনরুদ্ধারের আগেই আবার সেটার মধ্যে পড়ে গেলাম আরকি।“

 

 

তথ্য সুএঃ বিডিনিউজ ২৪