আজ রবিবার, ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েল আর হামলা চালাবে না: ট্রাম্প

editor
প্রকাশিত মার্চ ১৯, ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ণ
ইরানের গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েল আর হামলা চালাবে না: ট্রাম্প

Manual2 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual4 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ক্রুদ্ধ ইসরায়েল ‘হিংস্রভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে’ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসক্ষেত্রে আক্রমণ চালিয়েছে, তবে ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা না চালালে ইসরায়েলও আর এ ধরনের কাজ আর করবে না।

বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ইসরায়েলের হামলার পর তেলের দাম আরও বেড়ে গেছে আর পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে তেল, গ্যাস স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে তেহরান। ইতোমধ্যে তারা কাতার ও সৌদি আরব ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

যুদ্ধের এই তীব্রতা বৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে নজিরবিহীন বিঘ্ন তৈরি করেছে আর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে, যিনি প্রায় চার সপ্তাহ আগে ইরানে হামলা চালাতে ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দেন।

বুধবার (১৮ মার্চ) বিকালে ইরান কাতারের রাস লাফান জ্বালানি শিল্প এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই হামলায় ‘ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত বৃহৎ তেল কোম্পানি কাতারএনার্জি জানিয়েছে। রাস লাফান জ্বালানি শিল্প এলাকা বিশ্বজুড়ে সরবরাহকৃত জ্বালানির ২০ শতাংশের যোগান দেয়।

সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা রিয়াদের দিকে ছোড়া চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বাধা দিয়ে ধ্বংস করেছে, পাশাপাশি দেশের পূর্বাঞ্চলের এক গ্যাস স্থাপনায় ড্রোন হামলার চেষ্টা প্রতিরোধ করেছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান বৃহস্পতিবার আবার কাতারের গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে আর সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্যস্থল করেছে।

কাতারএনার্জি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তাদের বেশ কয়েকটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) স্থাপনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্নিকাণ্ড’ ঘটেছে আর তাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েলের এই হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আগেভাগে ‘কিছুই জানত না’ আর কাতার এর সঙ্গে জড়িত না।

Manual1 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার রাতে ট্রুথ সোশালে একটি দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ থেকেই ইসরায়েলি ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালিয়ে ‘সহিংস’ প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

“দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইরান এটি অথবা সাউথ পার্স আক্রমণ সম্পর্কিত কোনো প্রাসঙ্গিক তথ্য জানতো না, তাই তারা কাতারের রাস লাফানে অযৌক্তিক ও অন্যায়ভাবে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে।”

এরপর তিনি বড় অক্ষরে লিখেছেন, “ইসরায়েল আর ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে হামলা করবে না—যদি না ইরান আবার কোনো নিরীহ দেশের ওপর হামলা করে, যেমন এই ক্ষেত্রে কাতার।”

Manual7 Ad Code

এরপর হুমকি দিয়ে বলেছেন, “যদি ইরান আবার কাতারে হামলা চালায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে সম্মতি বা সাহায্য নিয়ে বা ছাড়াই এমন শক্তি দিয়ে দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে, যা ইরান আগে কখনো দেখেনি বা স্বাক্ষী হয়নি।”

এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই গ্যাস ক্ষেত্রে ইসরায়েলি হামলার পরিকল্পনা আগে থেকেই জানতেন আর এতে সমর্থন দিয়েছিলেন।

দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক গ্যাস ভান্ডারের ইরানি অংশ। এর আরেক অংশ কাতারের মালিকানাধীন, যার নাম নর্থ ডোম।

পুরো গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় ১,৮০০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট ব্যবহারযোগ্য গ্যাস রয়েছে, যা পুরো বিশ্বের প্রায় ১৩ বছরের চাহিদা মেটাতে পারে।

ইরান এই ক্ষেত্র থেকে যে গ্যাস উৎপাদন করে, তার বেশিরভাগই নিজেদের দেশের ভেতরে ব্যবহার করে।

ইসরায়েল এই গ্যাসক্ষেত্রে হামলা চালানোর পর উপসাগরীয় দেশগুলো—যেমন কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হামলার নিন্দা জানিয়েছে।

 

Manual2 Ad Code