বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের অসাধারণ প্রদর্শনী মেলে ধরলেন রাজাত পাতিদার। অধিনায়কের দুর্দান্ত ইনিংসে রেকর্ড সংগ্রহ গড়ল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তাদের পেসারদের তোপে মুখ থুবড়ে পড়ল গুজরাট টাইটান্সের ব্যাটিং। বিশাল জয়ে আইপিএলের শিরোপা ধরে রাখার শেষ ধাপে পৌঁছে গেল বেঙ্গালুরু।
প্রথম কোয়ালিফায়ারে ৯২ রানের জয়ে ফাইনালে উঠেছে পাতিদারের দল।
ধারামসালায় মঙ্গলবার ২০ ওভারে বেঙ্গালুরু করে ৫ উইকেটে ২৫৪ রান। আইপিএলের প্লে-অফে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটি। ২০২৩ সালে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে গুজরাটের ২৩৩ ছিল আগের সর্বোচ্চ।
Manual8 Ad Code
বড় লক্ষ্য তাড়ায় ৮৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে একশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে যায় গুজরাট। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে রাহুল তেওয়াতিয়ার পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসে কোনোমতে দেড়শ ছাড়াতে পারে শুবমান গিলের দল। শেষ ওভারে অলআউট হয় তারা ১৬২ রানে।
৯ ছক্কা ও ৫ চারে ৩৩ বলে অপরাজিত ৯৩ রানের ইনিংস খেলে বেঙ্গালুরুর নায়ক পাতিদার। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন তিনিই।
ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হেইজেলউড ও রাসিখ সালাম, এই পেসত্রয়ীর সামর্থ্যে আস্থা রাখার কথা জানিয়ে ম্যাচের আগের দিন পাতিদার বলেছিলেন, পেস আক্রমণ দিয়েই গুজরাটকে গুঁড়িয়ে দিতে চান তারা।
Manual3 Ad Code
ওই তিন জন যথারীতি জ্বলে উঠলেন এই ম্যাচেও। রাসিখ সালাম ২৪ রানে ও ভুবনেশ্বর ২৮ রানে নেন ২টি করে উইকেট। ৩৯ রানে একটি উইকেট নেন হেইজেলউড।
যদিও ৩৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার আরেক পেসার জ্যাকব ডাফি।
২৮ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলার পর, হাত ঘুরিয়ে ২টি উইকেট নেন ক্রুনাল পান্ডিয়া।
এ দিন রোহিত শার্মাকে (২৮১) ছাড়িয়ে আইপিএলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড আবার নিজের করে নেন ভিরাট কোহলি (২৮২)।
Manual8 Ad Code
টানা দ্বিতীয় আইপিএল শিরোপা থেকে একটি জয় দূরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। ছবি: রয়টার্স
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বেঙ্গালুরু। ঝড়ো শুরু করে ইনিংস বড় করতে পারেননি ভেঙ্কাটেশ আইয়ার (৭ বলে ১৯)। দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন কোহলি ও দেবদুত পাডিক্কাল।
প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলের টানা চার আসরে ৬০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন কোহলি। সেখানেই থামে তার ইনিংস (২৫ বলে ৪৩)। জেসন হোল্ডারের ওই ওভারে বিদায় নেন পাডিক্কালও (১৯ বলে ৩০)।
এরপর শুরু হয় পাদিতার ও পান্ডিয়ার তাণ্ডব। চার-ছক্কার ঝড় বইয়ে ৪৭ বলে ৯৫ রানের জুটি গড়েন দুজন।
যদিও জুটি ভাঙতে পারত অনেক আগেই, পাতিদার আউট হতে পারতেন ২০ রানে, কিন্তু তার ক্যাচ ফেলেন কাগিসো রাবাদা।
৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪৩ রান করে ফেরেন পান্ডিয়া। টিম ডেভিড টিকতে পারেননি। তবে অন্য প্রান্তে পাতিদারের ঝড় থামেনি।
শেষ ওভারে প্রাসিধ কৃষ্ণার প্রথম ও চতুর্থ বলে ছক্কা মেরে ৯২ রানে পৌঁছে যান পাতিদার। সেঞ্চুরির জন্য শেষ দুই বলে প্রয়োজন ছিল তার ৮ রান। কিন্তু পঞ্চম বলে এক রানের বেশি তিনি নিতে পারেননি।
শেষ ৬ ওভারে আসে ১১৪ রান!
বেঙ্গালুরুর ইনিংসে বাউন্ডারি হয় ৩৮টি, এটিও প্লে-অফে এক ইনিংসে রেকর্ড। ২০১২ সালে দিল্লির বিপক্ষে চেন্নাই সুপার কিংসের ৩৩টি ছিল আগের সর্বোচ্চ।
রান তাড়ায় শুরু থেকে নিয়মিত উইকেট হারায় গুজরাট। যার শুরুটা হয় সাই সুদার্শানের হিট উইকেট আউট দিয়ে। পাওয়ার প্লেতে ৫১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে যায় তারা।
সাত নম্বরে নেমে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৩ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে পরাজয়ের ব্যবধান কমান তেওয়াতিয়া। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান করতে পারেন জস বাটলার।
এই ম্যাচে হারলেও গুজরাটের ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বুধবার এলিমিনেটরে রাজস্থান রয়্যালস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্য জয়ী দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলবে তারা।