আজ মঙ্গলবার, ২০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফেনী-কুমিল্লায় আজ রাতেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা

editor
প্রকাশিত জুলাই ৯, ২০২৫, ০৩:১৪ অপরাহ্ণ
ফেনী-কুমিল্লায় আজ রাতেই বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা

Oplus_16908288

Manual2 Ad Code
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাডার এবং জাপানের ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে বুধবার (৯ জুলাই) বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর ওপরে মাঝারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।
এ অবস্থায় রাতেই কুমিল্লা এবং ফেনীর বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার শঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন এই আবহাওয়াবিদ।
বুধবার (৯ জুলাই) বিকেলে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এই শঙ্কার কথা জানান। পোস্টে তিনি লিখেছেন, ফেনী ও কুমিল্লা জেলার উপরে বৃষ্টি ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ফেনীর মুহুরী এবং চট্টগ্রামের হালদা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া শুরু হয়েছে।
ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা ঢলের বিষয়ে সতর্ক করে তিনি লিখেছেন, বিকেল ৪টা ৩২ মিনিটের সময় ভারতীয় আবহাওয়া অধিদফতর কর্তৃক পরিচালিত ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা শহরে অবস্থিত রাডার থেকে প্রাপ্ত চিত্র হতে দেখে যায়, আবারও ফেনী ও চট্টগ্রাম জেলাসহ বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের উত্তর দিকের সব জেলার ওপরে মাঝারি থেকে ভারি মানের বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এই বৃষ্টি আজ সারা রাত অব্যাহত থাকার শঙ্কা রয়েছে।
একই সময়ে মাঝারি থেকে ভারি মানের বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের উত্তর ও দক্ষিণ দিকের জেলাগুলোতেও। ফলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে রাতে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, লক্ষ্মীপুর জেলার সব নদীর পানির উচ্চতা দ্রুত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এর সঙ্গে ত্রিপুরা রাজ্যের পাহাড়ি এলাকা থেকে ঢল নদী-নালায় যোগ হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, জাপানের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত মেঘের চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে দুপুর আড়াইটায় খুলনা ও বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় জেলা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার ও বান্দরবন জেলার ওপরে মাঝারি থেকে ভারি মানের বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
 বিকেল ৪টার পর থেকে আবারও ফেনী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলায় মাঝারি থেকে ভারি মানের বৃষ্টি শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর ওপরে এবং ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে বিকেল ৫টার পর থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার মধ্যে নতুন করে ১০০ থেকে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টির প্রবল আশঙ্কাও রয়েছে।
এ অবস্থায় একটানা অতিবৃষ্টির কারণে ফেনী এবং কুমিল্লার বন্যা পরিস্থিতির অবনতির প্রবল আশঙ্কা করা যাচ্ছে।
এদিকে ভারি বৃষ্টিপাত নিয়ে সতর্ক বার্তায় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু জায়গায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ অবস্থায় চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধ্বসের আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া ভারি বৃষ্টির ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা মহানগরের কিছু এলাকায় অস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
আগামী ১২ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে উল্লেখ করে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ পলাশ।