নির্বাচনে অনিয়ম রোধে ভিজিল্যান্স টিম ও মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশ ইসির
নির্বাচনে অনিয়ম রোধে ভিজিল্যান্স টিম ও মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশ ইসির
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৭:২৭ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
ঢাকা, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ (বুধবার ): আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কঠোরভাবে আচরণবিধি প্রতিপালন ও অনিয়ম রোধে মাঠ পর্যায়ে ‘ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’, ‘নির্বাচন মনিটরিং টিম’ এবং ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল’ গঠনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সম্প্রতি ইসি সচিবালয়ের উপসচিব (নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা) মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক আজ বুধবার বাসসকে জানান, ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে রিটার্নিং অফিসাররা ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছেন।
ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করতেই পরিপত্র জারি করা হয়েছে। নির্দেশনার আলোকে রিটার্নিং অফিসাররা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছেন।
পরিপত্রে বলা হয়, নির্বাচন-পূর্ব অনিয়ম রোধে বিভিন্ন কমিটি গঠন ও তাদের কার্যপরিধি নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন। আইন, বিধিমালা ও প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করে এসব কমিটি দায়িত্ব পালন করবে, যাতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয়।
Manual5 Ad Code
নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে রিটার্নিং অফিসারদের জন্য কয়েকটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-
(ক) বিশেষ কোন মহলের কোন প্রকার প্রভাব বা হস্তক্ষেপে নির্বাচনের নিরপেক্ষতা যাতে ক্ষুণ্ন না হয় তা আইন, বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালার আলোকে নিশ্চিত করতে হবে।
(খ) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে তারা কর্তৃপক্ষ বা জনগণের কাছে হেয় প্রতিপন্ন হন।
Manual4 Ad Code
(গ) জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে এলাকার জনগণের যৌথ সভা করে ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে হবে।
(ঘ) ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে আসা ও নিরাপদে বাড়ি ফেরার নিশ্চয়তা দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভ্রাম্যমাণ ইউনিটকে নিবিড় টহল দিতে হবে।
(ঙ) ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং যে কোন প্রকার অশুভ কার্যকলাপ প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে সদা সতর্ক থাকবার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ প্রদান করতে হবে।
(চ) ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর কেন্দ্রগুলোর অবস্থান সম্পর্কে নির্বাচনের পূর্বে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে।
ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম গঠন ও কাজ:
সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় রিটার্নিং অফিসার এবং উপজেলা পর্যায়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে এই টিম গঠন করা হবে। এতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং বেসরকারি পর্যায়ের নির্দলীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সদস্য হিসেবে থাকবেন।
এই টিমের প্রধান কাজ হবে:
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ যথাযথভাবে মেনে চলা হচ্ছে কি না তা সরেজমিনে দেখা।
Manual6 Ad Code
নির্বাচনি ব্যয় নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করছে কি না তা তদারকি করা।
আচরণবিধি ভঙ্গের ঘটনা নজরে আসলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বা সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি তদন্ত কমিটিকে জানানো।
নির্বাচনি বিধি-নিষেধ ভঙ্গের ক্ষেত্রে মামলা দায়ের ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ।
নির্বাচনি এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিদিনের প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো।
আচরণবিধি অবহিতকরণ:
সব প্রার্থী, রাজনৈতিক দল ও তাদের এজেন্টকে আচরণবিধি সম্পর্কে অবহিত করতে হবে। বিধি ভঙ্গের শাস্তি, বিশেষ করে প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানাতে হবে।
নির্বাচন মনিটরিং টিম:
তফসিল ঘোষণার পর রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করতে হবে।
Manual2 Ad Code
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন:
নির্বাচনি এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল গঠন হবে। এতে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা, জেলা নির্বাচন অফিসার, পুলিশ সুপার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের প্রতিনিধি, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর মনোনীত কর্মকর্তা থাকবেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলের কার্যপরিধি:
এই সেল নির্বাচনি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে অবহিত করবে।
অন্যান্য ব্যবস্থা:
ভোটাররা যাতে অবাধে ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করে সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
নারী ভোটারসহ সব শ্রেণির ভোটারকে নিরাপদে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদার করার পাশাপাশি চিহ্নিত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাস্তানদের গ্রেপ্তারের নির্দেশও রয়েছে।
গোলযোগপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
আচরণবিধি ভঙ্গ, উসকানিমূলক বক্তব্য বা অর্থ ও পেশিশক্তি দিয়ে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
কর্মপরিকল্পনা:
নির্বাচনের সার্বিক কার্যক্রম শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ সুপার বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। ভোটকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভ্রাম্যমাণ টিম মোতায়েন করে ভোটারদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভোটদানের নিশ্চয়তা দিতে হবে। এ কর্মপরিকল্পনা নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে জানাতে হবে।বাসস