আজ বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন যে ১৩ উপদেষ্টা

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ০১:৪৭ পূর্বাহ্ণ
কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন যে ১৩ উপদেষ্টা

Manual2 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

ভোট ঘিরে একদিকে সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে যেমন উৎসবের আমেজ, অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে বিদায়ের সুর। কেউ কেউ এরই মধ্যে চলে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন। কেউ কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা তাদের সরকারি বাসভবন ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত দেওয়া শুরু করেছেন।

ইতিমধ্যে দুজন উপদেষ্টা তাদের সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। বাসাটি বুঝে নেওয়ার জন্য তারা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন। অন্যদিকে অন্তত ১৩ জন উপদেষ্টা ও চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন।
উপদেষ্টাদের কেউ কেউ বলছেন, ‘যত দিন সরকারের দায়িত্বে থাকব তত দিন লাল পাসপোর্ট কাছেই রাখব।

Manual6 Ad Code

বিদায়বেলায় সরকারি সব জিনিসপত্রের সঙ্গে লাল পাসপোর্টও জমা দেব।’

আবার অনেক উপদেষ্টা স্টাফদের মাধ্যমে ব্যক্তিগত নথি ও জিনিসপত্র এরই মধ্যে সরকারি দপ্তর থেকে বাসায় নিয়ে গেছেন। অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথিও সই হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে। তারা বলছেন, নতুন সরকার এলে যাতে দায়িত্ব হস্তান্তর সহজ হয় এবং সহজে সরকারের সবকিছু বুঝিয়ে দেওয়া যায়, এ জন্য সব প্রস্তুত করে রাখা হচ্ছে।

এমনকি নতুন সরকার এলে কোনো রকম কালক্ষেপণ না করেই দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সরকারি বাসা ছাড়ার বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন। আরো কয়েকজন উপদেষ্টাও আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারি বাসা ছেড়ে দেবেন এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন।

Manual7 Ad Code

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, লাল পাসপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি হলো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনাপত্তিপত্র নিয়ে নতুন পাসপোর্টের আবেদন করা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নতুন পাসপোর্ট হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কূটনৈতিক বা লাল পাসপোর্ট অকাযর্কর হয়।

এরই মধ্যে নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন বা আবেদন করেছেন অন্তত ১৩ জন উপদেষ্টা। তারা হলেন—অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, মুক্তিযুদ্ধ ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, বাণিজ্য, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

এ ছাড়া লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা শারমীন এস মুরশিদ, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এ ছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমও তাঁর লাল পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

একাধিক উপদেষ্টার পিএস কালের কণ্ঠকে জানান, কোনো কোনো উপদেষ্টা এরই মধ্যে নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়েছেন। পাসপোর্ট পাওয়ার ‘হ্যাসল’ থেকে রক্ষা পেতেই মূলত তারা নতুন পাসপোর্টের আবেদন করেন।

 

Manual7 Ad Code

তথ্য সুএঃ কালের কন্ঠ

Manual7 Ad Code