আজ মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৪শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন, কারা আলোচনায়

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০১:২৫ পূর্বাহ্ণ
মন্ত্রিসভায় কারা আসছেন, কারা আলোচনায়

Manual4 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সরকার গঠনের প্রস্তুতিও চলছে তড়িৎ গতিতে। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান, এমনটা এক প্রকার নিশ্চিত।

আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ। কারা থাকবেন সেখানে, কাদের নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেটা এখন সকলের আগ্রহের বিষয়।

কেমন হবে মন্ত্রিসভা এ প্রশ্নের জবাবে বিএনপির সিনিয়র নেতারা বলেছেন, নবীন-প্রবীণের মিশেলে হবে এবারের মন্ত্রিসভা। যেভাবে সারাদেশে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেই ছাপ দেখা যাবে মন্ত্রিসভাতেও।

Manual1 Ad Code

বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ত্যাগী, পরীক্ষিত ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন নেতাদের ঠাই হবে মন্ত্রিসভায়। ‘চমক’ থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা। এছাড়াও বিএনপির জোটসঙ্গী কয়েকজনও স্থান পাবে মন্ত্রিসভায়। বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামে যারা হাল ধরে ছিলেন তাদেরকে বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হবে সে নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ও ডা. এ জেড এম জাহিদের মতো পরীক্ষিতরা পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন।

এছাড়া শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, লুৎফুজ্জামান বাবর, শামা ওবায়েদ, অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, ওসমান ফারুক, আলী আজগর লবি, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, মো. বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, জয়নাল আবদিন ফারুক, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এবিএম আশরাফ উদ্দিন (নিজান), নওশাদ জমির, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ (অপু), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, নিতাই রায় চৌধুরী, আজিজুল বারী হেলাল, ব্যারিস্টার মীর হেলাল, মিজানুর রহমান মিনু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওশাদ জমির, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, হুম্মাম কাদের চৌধুরী ও এস এম জিলানী নিয়েও চলছে আলোচনা।

জোটসঙ্গীদের মধ্যে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুর মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার জোর আলোচনায় রয়েছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আসার জোর গুঞ্জন রয়েছে। সর্বশেষ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রেস কনফারেন্সে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবের সময় এ বিষয়টি লক্ষ্য করা গেছে। উল্লেখ্য তিনি ২০০১ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন। ওই সময় শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নকল দমনে তিনি অনেক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। নতুন মন্ত্রিসভায় তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদের। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন বলে অনেকে ধারণা করছেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে, জোর গুঞ্জন রয়েছে, বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ হতে পারেন রাষ্ট্রপতি।

Manual5 Ad Code

অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাবার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়ার। আইএমএফে কাজ করা এ অর্থনীতিবিদ নিয়ে দলের মধ্যেও আলোচনা হচ্ছে। এছাড়া স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এর আগেও তিনি একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মির্জা আব্বাসকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার জোর গুঞ্জন রয়েছে।

টেকনোক্র্যাট কোটায় যারা আলোচনায় রয়েছেন

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে টেকনোক্র্যাট কোটায় তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী করা হতে পারে বলে দলীয় অভ্যন্তরে আলোচনা রয়েছে। এছাড়া তারেক রহমানের উপদেষ্টা ড. মাহাদী আমিনকেও এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দেখা যাওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ আলমগীর পাভেলও আলোচনায় আছেন।

টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। এছাড়া অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস ও ঢাকা জেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু আশফাককেও যেকোনও দায়িত্বে দেখা যেতে পারে।

Manual1 Ad Code

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে কে কোন মন্ত্রণালয় ভালো করবেন তা নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। চেয়ারম্যান মহোদয় পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। তবে, এ মুহূর্তে কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন তা নিশ্চিতভাবে বলা মুশকিল।”

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিউর রহমান বলেন, “চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ও বাণিজ্যিক নগরী। এবার নির্বাচনে ১৬টি সংসদীয় আসন থেকে ১৪টি আসনেই বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করেছে। এটা অবশ্যই বিএনপির জন্য বড় প্রাপ্তি। চট্টগ্রামের অনেক উন্নয়ন প্রয়োজন। যাদের মাধ্যমে চট্টগ্রামের উন্নয়ন হবে সে রকম নেতৃত্বকে মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া প্রয়োজন।”

Manual5 Ad Code

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন শনিবার সাংবাদিকদের বলেন, “ক্যাবিনেটে কারা জায়গা পাবে এটা কিন্তু নির্ণয় করা যায়। সারাদেশে নির্বাচনে বিএনপি যে প্রার্থী দিয়েছে এখানে আমাদের মতো বৃদ্ধ ছিল, মধ্যবয়সী ছিল, তরুণ ছিল, অভিজ্ঞ ছিল, তারুণ্যের বিকাশ ছিল। এখন সেই কম্বিনেশনইতো নির্বাচিত হয়েছে। আমি মনে করি, সেভাবেই বয়োবৃদ্ধ, যোগ্য তারুণ্যের ধ্যান ধারণা বহনকারী ব্যক্তিদের নিয়েই ক্যাবিনেট হবে।”

 

 

তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিবিউন