শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট সফরে শায়েস্তাগঞ্জ, শ্রীমঙ্গল, ভানুগাছ, কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন শেষে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, স্টেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং বহুল আলোচিত সিলেট-জাফলং রেললাইন প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) সকালে সিলেটগামী আন্তনগর পারাবত এক্সপ্রেসে করে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে মন্ত্রী স্টেশনের বিশ্রামাগার, টয়লেট, বাথরুম ও যাত্রীসেবামূলক বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন। পরে শ্রীমঙ্গল ও ভানুগাছ রেলস্টেশনেও তিনি সরেজমিনে অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে যাত্রীরা ট্রেনের সময়সূচি, স্টেশন সুবিধা, পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরলে মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, রেলস্টেশনগুলোকে আরও পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে সেবার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।
একই দিনে বিকেলে মন্ত্রী রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে সিলেট-জাফলং রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্য রুট সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রকল্পের কারিগরি সক্ষমতা, ভূমি পরিস্থিতি, অবকাঠামোগত সম্ভাবনা এবং বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী জানান, সিলেট-জাফলং রেললাইন প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। তিনি বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র জাফলংয়ের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে, যা পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার ঢাকা-সিলেট রেলপথের আধুনিকায়নের পাশাপাশি সিলেট অঞ্চলের রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। জনগণের চাহিদা ও ভবিষ্যৎ যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে সিলেট পর্যন্ত বিভিন্ন স্টেশন ও রেলপথের অবস্থা পর্যালোচনার পাশাপাশি প্রস্তাবিত সিলেট-জাফলং রেললাইন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক প্রস্তুতির কাজও এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চলের রেল যোগাযোগ ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।