জ্বালানি সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর লাগতে পারে: উপদেষ্টা জাহেদ
জ্বালানি সংকট কাটাতে অন্তত দুই বছর লাগতে পারে: উপদেষ্টা জাহেদ
editor
প্রকাশিত আগস্ট ১৮, ২০২৬, ০৮:৫৪ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দেশের চলমান জ্বালানি সংকট দ্রুত সমাধান করা সম্ভব নয়। এই সংকট দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার ফল। পরিস্থিতির উন্নতি ঘটিয়ে জ্বালানির ক্ষেত্রে ভালো অবস্থানে যেতে অন্তত দুই বছর সময় লাগতে পারে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ময়মনসিংহের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে দেশব্যাপী প্রাথমিক, কারিগরি ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভাগীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ বর্তমানে যথেষ্ট কষ্টের মধ্যে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি সত্য; তবে এ সংকটের জন্য বর্তমান সরকারকে এককভাবে দায়ী করা সঠিক নয়। দীর্ঘদিনের ঘাটতি ও পুঞ্জীভূত সমস্যার কারণেই বর্তমান জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে দেশের গ্যাসের চাহিদার তুলনায় সরবরাহে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার কারণে সংকট আরও প্রকট হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণে বন্ধ থাকা দুটি প্ল্যান্ট চালু হলেও এ ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ হবে না। এটি এক বছরের বা স্বল্পমেয়াদি কোনো সমস্যা নয়; বছরের পর বছর ধরে এ ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
Manual8 Ad Code
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দ্রুত সংকট মোকাবিলায় গ্যাসিফিকেশন প্ল্যান্টের দুর্ঘটনার পর একটি প্ল্যান্টের অর্ডার দেওয়া হয়েছে। ব্যাকআপ হিসেবে আরও দুটি প্ল্যান্ট আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নেও কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।
Manual5 Ad Code
তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভোলায় থাকা গ্যাস মূল ভূখণ্ডে আনার সম্ভাবনা নিয়েও কাজ চলছে। পাশাপাশি এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মধ্যমেয়াদে স্থলভাগে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজও শুরু হয়েছে।
Manual2 Ad Code
তিনি আরও বলেন, সরকারের কাছে থাকা তথ্য ও জরিপের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, দেশের স্থলভাগে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ বর্তমানে বছরে দেশের প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। এতদিন স্থলভাগে সম্ভাব্য গ্যাসের মজুত অনুসন্ধানের কাজ তেমনভাবে করা হয়নি। এখন সেই কাজ শুরু হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ইতোমধ্যে নতুন করে দুটি রিগ কেনা হয়েছে এবং বিদ্যমান রিগগুলোও সক্রিয় রাখার চেষ্টা চলছে। কয়লার বিষয়েও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে সময় লাগবে।
জ্বালানি সংকটের সময়সীমা সম্পর্কে তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী একটি মোটামুটি সময়সীমা দিয়েছেন। অন্তত দুই বছর লাগতে পারে জ্বালানির ক্ষেত্রে ভালো বা অনেকটা ভালো অবস্থায় যেতে।
Manual4 Ad Code
আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এলএনজির আন্তর্জাতিক বাজার বর্তমানে অত্যন্ত অনিশ্চিত। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে, যা যেকোনো সময় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি এর আগে হুতিদের সঙ্গে সংকটের সময় বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতেও জ্বালানি পরিবহনে সংকট তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতিগুলো একসঙ্গে জটিল হলে জ্বালানি সরবরাহ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে।
সরকার রাতারাতি সব সমস্যার সমাধান করে ফেলবে— এমন দাবি করছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই বছরের এই সময়ের মধ্যেও মানুষের জীবনযাত্রা যাতে সহনীয় রাখা যায়, সে চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো অন্যতম। ইতোমধ্যে সরকারি প্রতিটি স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বর্তমান সংকটকে অতীতের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার ফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে তৈরি হওয়া বিভিন্ন সমস্যার প্রভাব অনেক সময় পরবর্তী সরকারের ওপর এসে পড়ে। বর্তমান জ্বালানি সংকটের ক্ষেত্রেও দীর্ঘদিনের ঘাটতির প্রভাব এখন মোকাবিলা করতে হচ্ছে।তথ্য সুএঃ ইত্তেফাক