র্যাব থেকে এসআরবি: ক্ষমতা ও জবাবদিহি নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ
র্যাব থেকে এসআরবি: ক্ষমতা ও জবাবদিহি নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ
editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ণ
Manual1 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
Manual4 Ad Code
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন নামে বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনের উদ্যোগকে ‘নতুন মোড়কে অধিকতর ক্ষমতাপ্রাপ্ত ও জবাবদিহিহীন র্যাব’ তৈরির ঝুঁকি হিসেবে দেখছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটির মতে, সংসদে উত্থাপিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’-এ এসআরবিকে ব্যাপক ও অস্পষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র ও বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষা, সন্দেহের ভিত্তিতে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের সুযোগ এবং স্বাধীন অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা না থাকায় উদ্বেগের কারণ রয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ উদ্বেগের কথা জানায় টিআইবি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘র্যাব বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও শুধু বাহিনীর নাম পরিবর্তন করলেই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হবে না। র্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নতুন বাহিনীর কাঠামো, ক্ষমতা, জনবল ও জবাবদিহির ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।’
র্যাবের সদস্যদের যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া এসআরবিতে স্থানান্তরের ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে টিআইবি। অতীতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত বা জড়িত সদস্যদের নতুন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তি ঠেকাতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ‘ভেটিং’ প্রক্রিয়া চালুর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।
Manual6 Ad Code
একই সঙ্গে সশস্ত্র বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণে এসআরবিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। তাদের মতে, অভ্যন্তরীণ পুলিশিংয়ে সামরিক কৌশল ব্যবহারের ঝুঁকি এতে থেকে যায়।
Manual2 Ad Code
বিলের ২২ ধারায় প্রস্তাবিত ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’রও সমালোচনা করেছে টিআইবি। পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি নিরপেক্ষভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে না বলে মনে করে সংস্থাটি। এর পরিবর্তে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত তদারকি কর্তৃপক্ষ গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
টিআইবি বলছে, নতুন বাহিনীর ক্ষমতার সুস্পষ্ট সীমারেখা, স্বাধীন তদারকি, স্বচ্ছ সদস্য যাচাই, বিচারিক সুরক্ষা ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত না হলে র্যাব বিলুপ্তির মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।
এদিকে, বিলটির ধারা-ওয়ারি বিশ্লেষণ ও সুপারিশসহ একটি পলিসি ব্রিফ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছে টিআইবি। বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনদের মতামত নিয়ে সুপারিশগুলো বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।