আজ মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দাম বৃদ্ধি নিয়ে আ.লীগ আমলে প্রতিবাদ করেছিলেন, এখন কেন নয়’—প্রশ্নে যা বললেন জাহেদুর

editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬, ০৬:০২ অপরাহ্ণ
দাম বৃদ্ধি নিয়ে আ.লীগ আমলে প্রতিবাদ করেছিলেন, এখন কেন নয়’—প্রশ্নে যা বললেন জাহেদুর

Manual2 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিবাদ করলেও এখন কেন তা করা হচ্ছে না, এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো বৈধতা ছিল না। বর্তমান বিএনপি সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার।

Manual7 Ad Code

সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রতিবাদ করছে। জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি যদি সরকারে না থেকে অ্যাক্টিভিস্ট হতাম, তাহলে এর প্রতিবাদ করতাম, হাসিনার সময় হলে শুধু প্রতিবাদ নয়, হাসিনার পদত্যাগ চাইতাম। এখন চাওয়া উচিত হবে না।

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, কারণ ওই সরকারকে আমরা ওন করতাম না, ওই সরকারের লেজিটিমেসি ছিল না। কিন্তু এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। এটা আমাদের সবার সরকার।

আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেল কিনে দেশে কম দামে বিক্রি করায় বিপিসি বড় লোকসান গুনছে বলে জানান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, ডিজেলে প্রতি লিটারে প্রায় ৮৯ টাকা লোকসান হচ্ছে। দৈনিক লোকসান প্রায় ১০৯ কোটি টাকা। শুধু ডিজেলেই বছরে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতে পারে। লিটারপ্রতি ২০ টাকা দাম বাড়ালে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা লোকসান কমানো সম্ভব হবে।

মূল্য সমন্বয়ের পরও ডিজেলে সরকারের উল্লেখযোগ্য ভর্তুকি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কিছুটা কমলেও সামগ্রিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির চাপ থাকছে।

জ্বালানির দাম বাড়িয়ে সরকার জনপ্রিয়তা হারানোর ঝুঁকি নিচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, জনগণের কষ্ট হচ্ছে এবং আরও হতে পারে, সরকার তা স্বীকার করছে। তবে জনগণকে অসন্তুষ্ট করতে ইচ্ছা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন থাকায় জনগণকে কষ্ট দিয়ে সরকার রাজনৈতিক ক্ষতি করতে চাইবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে জ্বালানি খাতে সরকার কতটা ভর্তুকি দিতে পারবে, সেটিও বিবেচনার বিষয় বলে জানান।

জাহেদ উর রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি রাখা হয়েছিল। অর্থবছরের আড়াই মাসেই এর প্রায় অর্ধেক ব্যয় হয়েছে।

এই ধারা অব্যাহত থাকলে বছর শেষে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি সোয়া এক লাখ কোটি থেকে দেড় লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। জ্বালানি তেলসহ অন্যান্য ভর্তুকি যোগ হলে চাপ আরও বাড়বে।

ভর্তুকির পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতেও সরকার ব্যয় করতে চায়। তাই সীমিত সম্পদের মধ্যে বরাদ্দে ভারসাম্য করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জ্বালানি খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় গ্রিডে আরও ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হয়েছে। আগস্টের গ্যাস সংকট এখন অনেকটাই কেটেছে।

২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে দেশীয় কোম্পানির সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি গ্যাস আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস-২৮ কূপ থেকে গ্যাস উৎপাদন শুরু হয়েছে। নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ানোর কাজ চলছে।

নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে হবিগঞ্জ ও সংলগ্ন এলাকায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা ফিল্ড এলাকায় ৫৭৫ বর্গকিলোমিটারসহ মোট ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক ভূকম্পন জরিপ চলছে। তিতাস ও নরসিংদী ফিল্ডের সংশ্লিষ্ট এলাকায় আরও ৬৩২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় দ্বিমাত্রিক ও ত্রিমাত্রিক জরিপ চলছে।

Manual1 Ad Code

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অন্যতম উদ্যোগ ফ্যামিলি কার্ড আগামী অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হবে বলে জানান জাহেদ উর রহমান।

Manual6 Ad Code

তিনি বলেন, ১ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রকৃত দরিদ্র পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ কাজে প্রায় ৬০ হাজার ৭৬১ জন তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োজিত ছিলেন। সুএঃ যুগান্তর