আজ মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেধা আছে, প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও মানসম্মত শিক্ষা: বাণিজ্যমন্ত্রী

editor
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬, ০২:২৩ পূর্বাহ্ণ
মেধা আছে, প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা  ও মানসম্মত শিক্ষা: বাণিজ্যমন্ত্রী

Manual5 Ad Code
উৎফল বড়ুয়া,সিলেট

সিলেট বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে মানসম্মত শিক্ষার প্রচার ও প্রসারের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সিলেটের মানুষের মেধা ও যোগ্যতার অভাব নেই। প্রবাসে যুক্তরাজ্য বা উত্তর আমেরিকায় সিলেটের সন্তানরা নিজেদের যোগ্যতায় শীর্ষে অবস্থান করছেন।তবে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা সূচকে পিছিয়ে থাকার বর্তমান চিত্র পরিবর্তনের জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

Manual6 Ad Code

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জালালাবাদ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে শহরাঞ্চলের গড় সাক্ষরতার হার ৮২ শতাংশ হলেও সিলেট শহরে তা ৭৬ শতাংশ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে সাক্ষরতার জাতীয় গড় ৭০.৩ শতাংশ হলেও সিলেটে তা মাত্র ৬৬ শতাংশ। সার্বিক বিবেচনায় দেশে গড় সাক্ষরতার হার ৭৪ শতাংশ হলেও সিলেট বিভাগে এই হার ৬৯.৪ শতাংশ, যা দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্নে।

Manual2 Ad Code

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর সিলেট বিভাগে ছেলেদের তুলনায় মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল। তবে মূল স্কুলের সংখ্যাসহ অন্যান্য শিক্ষাগত অবকাঠামোর দিক থেকেও ৮টি বিভাগের মধ্যে সিলেট বিভাগ অষ্টম স্থানে রয়েছে।

Manual8 Ad Code

প্রশাসনে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “আজ থেকে ২০ বছর আগেও প্রশাসনে সিলেট অঞ্চলের সচিব, মেজর জেনারেলসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের যে উপস্থিতি ছিল, তা এখন অনেক কমে এসেছে। ১০-১৫ জনের দলে আমাদের খুব অল্পসংখ্যক প্রতিনিধি পাওয়া যায়। সিলেটবাসীর মেধার অভাব নেই, প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা।”

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সবলতায় রূপান্তরের তাগিদ দেন প্রধান অতিথি। সারাদেশে শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা (রিডিং এবিলিটি) ও গাণিতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার ডিপিপি প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।

Manual1 Ad Code

মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শুধু ইট-কাঠ-পাথরের অবকাঠামো তৈরি করলেই শিক্ষার মান বাড়ে না। শিক্ষার প্রকৃত মান অর্জনে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষার কয়েকটি প্রধান কাঠামোগত সংকট যেমন—নারী শিক্ষকদের দূরবর্তী পদায়ন জটিলতা নিরসন, শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন কাঠামো নিশ্চিতকরণ এবং শ্রেণিকক্ষে শিশুদের ক্ষুধা মেটাতে ‘মিড-ডে মিল’ বা পুষ্টিকর খাবার চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।