আজ শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গাপূজায় অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা-উচ্চ শব্দে মাইক নিষিদ্ধ করতে নির্দেশনা

editor
প্রকাশিত অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০৩:৪৮ অপরাহ্ণ
দুর্গাপূজায় অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা-উচ্চ শব্দে মাইক নিষিদ্ধ করতে নির্দেশনা

Manual2 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পরিবেশে উদ্‌যাপনের লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পূজা উদ্‌যাপন কমিটিগুলোর জন্য ২৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ।

Manual2 Ad Code

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেওয়া এসব নির্দেশনায় পূজামণ্ডপে প্লাস্টিকের ব্যবহার পরিহার, বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা রাখা, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ, উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার না করা এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

Manual8 Ad Code

পরিষদের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পূজা আয়োজনের প্রতিটি পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। প্লাস্টিকের পরিবর্তে পরিবেশসম্মত উপকরণ ব্যবহার করতে হবে। বিদ্যুতের অপচয় রোধে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার পাশাপাশি নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময় জরুরি সেবা সচল রাখতে জেনারেটর, ইউপিএস, সোলার প্যানেল, চার্জার লাইট বা অনুরূপ বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যুৎ-সংযোগের ক্ষেত্রে উন্নত মানের তার ও নিরাপদ সংযোগব্যবস্থা ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

Manual8 Ad Code

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে উচ্চ শব্দে মাইক ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার, আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। ধর্মীয় ও ভক্তিমূলক সংগীতের বাইরে অন্য কোনো গান বাজানো থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপে উচ্চ স্বরে ডিজে বাজানো নিষিদ্ধ করে এর পরিবর্তে ধর্মীয় গান বাজানোর নির্দেশনা দিয়েছে পরিষদ। পূজার পরিবেশ যেন আশপাশের মানুষের অসুবিধা বা শব্দদূষণের কারণ না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্দির ও পূজামণ্ডপে নিজস্ব উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রবেশপথে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম রাখার কথাও বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় প্রতিমা নির্মাণ থেকে শুরু করে পূজা সমাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ সুরক্ষায় নজর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রতিমা নিরঞ্জন ও বিসর্জনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত তারিখ ও স্থান অনুসরণ করতে হবে। বিসর্জন শোভাযাত্রায় সর্বোচ্চ সতর্কতা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি সম্ভব হলে সন্ধ্যার মধ্যেই বিসর্জন সম্পন্ন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে পরিষদ।

Manual6 Ad Code

পূজামণ্ডপে নারী ও পুরুষ দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক যাতায়াত বা প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা এবং শৃঙ্খলা রক্ষায় পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের নাম, ঠিকানা ও মুঠোফোন নম্বর সংরক্ষণ করে তালিকা সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশ ফাঁড়িতে জমা দিতে হবে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান পরিচয়পত্র ব্যবহারের কথাও বলা হয়েছে।

দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে গুজব না ছড়িয়ে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেলকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে হবে। ইভ টিজিং, ছিনতাই বা অন্য কোনো অপরাধে কাউকে জড়িত পাওয়া গেলে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি শান্তি, সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধারও প্রতীক। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দুর্গাপূজা ২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সম্প্রীতিময় ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার আহ্বান জানিয়েছে পরিষদ।