টিকার ঘাটতি নিয়ে ইউনূস সরকারকে ‘বহুবার’ সতর্ক করা হয়েছে: ইউনিসেফ
টিকার ঘাটতি নিয়ে ইউনূস সরকারকে ‘বহুবার’ সতর্ক করা হয়েছে: ইউনিসেফ
editor
প্রকাশিত মে ১৮, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
Manual1 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
“টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, সময়মতো কেনাকাটা এবং নিরবচ্ছিন্ন টিকা সরবরাহের গুরুত্বের কথা ধারাবাহিকভাবে বলা হয়েছে,” ভাষ্য সংস্থাটির।
টিকার ঘাটতি এবং এই ঘাটতির কারণে রোগ ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারকে ‘বহুবার’ সতর্ক করে দেওয়ার কথা বলেছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ঠিক আগে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে চিঠি পাঠানোর কথাও বলেছে সংস্থাটি।
Manual4 Ad Code
বাংলাদেশে টিকার ‘আসন্ন ঘাটতির’ কথা জানিয়ে ১০ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে চিঠিটি পাঠান ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।
ওই চিঠির আগে হামের টিকার সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল কিনা, এমন প্রশ্নে রোববার ইউনিসেফ বাংলাদেশ বলেছে, “হ্যাঁ। অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের সঙ্গে ইউনিসেফ বহুবার আলোচনায় যুক্ত হয়েছিল।
“এবং মজুদ শেষের ঝুঁকি, রোগ বিস্তার, জটিলতা ও শিশু মৃত্যুর আশঙ্কা জানিয়ে সতর্ক করে দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে ওই বৈঠকগুলোর ফলো-আপ করা হয়েছিল।”
২০২৪ সাল পর্যন্ত ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় টিকা আনত সরকার। এতে অর্থায়ানের মূল উৎস ছিল দাতাদের সহায়তা। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে এটাকে রাজস্ব বাজেটের খরচের আওতায় এনে উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার পথে এগোয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন অন্তবর্তী সরকার।
এছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার বিরূপ পরিস্থিতি এবং টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কারণেও টিকা কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
ঢাকায় ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।
গেল জানুয়ারিতে যখন অন্তর্বর্তী সরকার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখনই মূলত দেশে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়। মার্চ মাসে গিয়ে হামের রোগী বাড়ার ফলে টিকা কার্যক্রম ঠিকমত না চলার বিষয় সামনে আসে।
টিকা কেনার প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে দেশে যে টিকার ঘাটতি আসন্ন, সে বিষয়টি তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে লেখা চিঠিতে তুলে ধরেন রানা ফ্লাওয়ার্স।
চিঠিতে তিনি লেখেন, হাম-রুবেলার এমআর৫ টিকার সময়সীমা ৫ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে গেছে। পোলিওর ‘বিওপিভি’, টিটেনাস ও ডিপথেরিয়া (টিডি) এবং যক্ষ্মার বিসিজি টিকার সময়মীমা যথাক্রমে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২৮ ফেব্রুয়ারি শেষ হতে যাচ্ছে।
Manual4 Ad Code
“সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে তা নিয়মিত টিকা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়। ফলে শিশুদের নির্দিষ্ট সময়ে টিকা নেওয়া ব্যাহত হয়। এছাড়া টিকায় প্রতিরোধ করা যায়, এমন রোগ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।”
হামে চার শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকার ও স্বাস্থ্য প্রশাসনের দায় এড়ানোর সুযোগ না দেখার কথা বলেছে চিকিৎসকদের সংগঠন ‘ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’।
গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত হাম ও হামের লক্ষণ নিয়ে দেশে ৪৫১ জনের মৃত্যুর তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরমধ্যে হামে মৃত্যু হয় ৭৪ জনের।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে পাঠানো চিঠি, টিকার সংকট এবং বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের লিখিত প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।
তাতে টিকার ঘাটতি সংকট নিয়ে বহুবার সতর্ক করার কথা তুলে ধরে ইউনিসেফ বলেছে, রাজস্ব বাজেটে যাওয়া এবং উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়াসহ ক্রয় পদ্ধতির দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তনের কারণে টিকা পেতে দেরি হয়েছে। আর এটা যে টিকার সময়সীমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ ও অন্য অংশীদাররা।
চিঠি পাওয়ার পর সরকার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, এমন প্রশ্নে ইউনিসেফ বাংলাদেশ বলেছে, রোগ ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং অন্য অংশীদারদের সহযোগিতায় জরুরি ভিত্তিতে উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার।
“৩০টি উচ্চ-ঝুঁকির উপজেলায় ৫ এপ্রিল জরুরি টিকা অভিযান শুরু হয় এবং যেটাকে পরে জাতীয় হাম কর্মসূচি হিসেবে বাড়ানো হয়। ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম গত ১০ মে শতভাগের কাছে পৌঁছতে পেরেছে।”
ইউনিসেফ বলছে, আগামীতে সময়মত টিকা পেতে ইউনিসেফের মাধ্যমে কেনার প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়াকে সমর্থন করেছে বর্তমান সরকার।
Manual7 Ad Code
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হাম ছড়িয়ে পড়ার আগে সরকারকে সতর্ক করা হয়েছিল কিনা, এমন প্রশ্নে ইউনিসেফ বলেছে, “উচ্চমাত্রায় টিকা কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া, সময়মত কেনাকাটা এবং নিরবচ্ছিন্ন টিকা সরবরাহ বজায় রাখার গুরুত্বের কথা ইউনিসেফ ধারাবাহিকভাবে বলে এসেছে। দেশীয় অর্থায়নের সিদ্ধান্ত ইতিবাচক হলেও এই রূপান্তরের কারণে বিলম্ব হয়েছে।”
টিকা কেনার ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্র নিয়ে ইউনিসেফের তরফে শুরু থেকে প্রশ্নে তোলা হয়েছে দাবি করে সংস্থাটি বলেছে, “পরিমাণ বেশি হওয়ায় ইউনিসেফ সম্ভাব্য সর্বনিম্ন দামে সরকারকে টিকা সরবরাহ করতে পারে এবং আমাদের একমাত্র লক্ষ্যই হলো শিশুদের সুরক্ষা।
“ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা কেনার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকও। কারণ, উন্মুক্ত দরপত্রের কেনাকাটায় দীর্ঘ সময় লাগে (আট থেকে ১১ মাস) এবং সময়মত টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি থেকে যায়।”
Manual6 Ad Code
সরাসরি ক্রয়প্রক্রিয়ায় ফিরে যাওয়াসহ বিভিন্ন পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়ে ইউনিসেফ বলেছে, “২০২৬ সালের মার্চের শুরু থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। যার মধ্যে রয়েছে, জরুরি হাম-রুবেলা টিকা অভিযান এবং ইউনিসেফের ক্রয়-প্রক্রিয়ায় মাধ্যমে টিকা কেনা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত।”
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এবং প্রধান উপদেষ্টার স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমানকে ফোনে পাওয়া যায়নি।ফোনে এসএমএস পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।সুএঃ ইত্তেফাক