আজ সোমবার, ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শ্রীমঙ্গলে ডা. জুবায়ের সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণে অভিযোগ,তদন্ত কমিটি গঠন

editor
প্রকাশিত মে ২৪, ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ণ
শ্রীমঙ্গলে ডা. জুবায়ের সাংবাদিকের সাথে অসদাচরণে অভিযোগ,তদন্ত কমিটি গঠন

Manual8 Ad Code

তিমির বনিক,মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দন্ত চিকিৎসা নিতে গিয়ে চিকিৎসকের অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হাসপাতালের সেবাব্যবস্থার অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে কর্তৃপক্ষ।

Manual8 Ad Code

অভিযোগকারী সত্যজিৎ দাস,যিনি একজন গণমাধ্যমকর্মী। তিনি জানান,”রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দাঁতের তীব্র ব্যথা নিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। দীর্ঘ ১০ থেকে ১২ দিন ধরে দাঁতের সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তিনি চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

Manual8 Ad Code

সত্যজিৎ দাসের অভিযোগ,হাসপাতালে পৌঁছে তিনি দেখতে পান দাঁতের চিকিৎসকের ২০ নম্বর কক্ষ তালাবদ্ধ। পরে তিন টাকার টিকিট সংগ্রহ করলে কাউন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারী তাকে ১৭ নম্বর কক্ষে যেতে বলেন। কিন্তু সেখানে গিয়েও সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে হাসপাতালের এক কর্মচারীর পরামর্শে তিনি ২০ নম্বর কক্ষে যান।

অভিযোগে বলা হয়, সকাল প্রায় ৯টা ৩৮ মিনিটে দন্ত চিকিৎসক ডা. জুবায়ের খান (৩৯ বিসিএস) সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়। এ সময় দাঁতের সমস্যা দেখানোর পর চিকিৎসক তার সঙ্গে রুক্ষ ও অপেশাদার আচরণ করেন। সত্যজিৎ দাসের ভাষ্য অনুযায়ী, চিকিৎসক তাকে বলেন,“মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন কেন? রুট ক্যানেল করতে হবে,নতুবা ভবিষ্যতে দাঁত ফেলতে হবে। এখানে কোন চিকিৎসা নেই ওসমানীতে যান, সেখানে ফ্রি করে দেবে।”

Manual4 Ad Code

তিনি আরও অভিযোগ করেন,চিকিৎসক প্রেসক্রিপশনে ওষুধ না লিখে প্রথমে সাদা কাগজে কয়েকটি ওষুধের নাম লিখে দেন। পরে তিনি নিজের পেশাগত পরিচয় দেওয়ার পর প্রেসক্রিপশনে ওষুধ লিখে দেন।

এ ঘটনায় নিজেকে মানসিকভাবে অপমানিত ও হয়রানির শিকার দাবি করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এবং জেলা সিভিল সার্জনের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, বাংলা এফএম ও দৈনিক প্রভাকর পত্রিকার সাংবাদাতা হিসেবে কাজ করেন সত্যজিৎ দাস।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন,“অভিযোগের হার্ড কপি অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে। ঈদের ছুটির পর বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রীমঙ্গল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।”

এদিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সিভিল সার্জন স্যারের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Manual1 Ad Code

উল্লেখ্য,অভিযোগকারী সত্যজিৎ দাস ২০১০ সাল থেকে জাতীয় গণমাধ্যমে কাজ করছেন। স্বাস্থ্য খাত নিয়ে নিয়মিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য বিষয়ক সমস্যা তুলে ধরেন প্রতিনিয়ত।