আদ্-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, আসামি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
আদ্-দ্বীনে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা, আসামি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ
editor
প্রকাশিত মে ২৮, ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ণ
Manual8 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অবহেলার কারণে শিশুদের মৃত্যুর অভিযোগ আনা হয়েছে এবং আসামি করা হয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
বুধবার (২৭ মে) রাতে হাবিবুর রহমান নামে এক নবজাতকের বাবা রাজধানীর রমনা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।
Manual8 Ad Code
রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিক ইকবাল জানান, এজাহারে কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আসামি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
Manual5 Ad Code
বুধবার (২৭ মে) সকালে হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। শিশুদের বয়স ছিল এক থেকে তিন দিনের মধ্যে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার তদন্তে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৬ মে) গভীর রাতে কক্ষটিতে থাকা বাচ্চারা হঠাৎ করে কান্নাকাটি শুরু করে। অল্প সময়ের ব্যবধানেই সব কটি বাচ্চা কান্না শুরু করে। এর মধ্যে একটি বাচ্চা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে এনআইসিইউতে (নিউনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) নেওয়া হয়। তারপর ভোরের দিকে একে একে সব কটি বাচ্চা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদেরও এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরে এনআইসিইউতে থাকা অবস্থায় তাদের জানানো হয়, বাচ্চারা মারা গেছে। মারা যাওয়ার সময় কয়েকটি নবজাতকের শরীর নীল রং ধারণ করে।
Manual5 Ad Code
হাসপাতালের মহাপরিচালক অধ্যাপক নাহিদ ইয়াসমিন জানান, ওই ওয়ার্ডে ১১ জন মা ও ৬টি নবজাতক ছিল। মায়েদের অনুরোধে রাতে এসি বন্ধ করা হয়েছিল। পরে কয়েকটি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত শিশুদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত ও গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করে। পরে কক্ষটি সিলগালা করা হয়।
স্বজনদের অনিচ্ছার কারণে ময়নাতদন্ত ছাড়াই শিশুদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।