ফরেন পলিসিতে মাইকেল কুগেলম্যান; ঢাকা-দিল্লি উত্তেজনা তুঙ্গে, ভারতের নতুন বার্তা
ফরেন পলিসিতে মাইকেল কুগেলম্যান; ঢাকা-দিল্লি উত্তেজনা তুঙ্গে, ভারতের নতুন বার্তা
editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ৮, ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ণ
Manual4 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক:
Manual3 Ad Code
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান চরম কূটনৈতিক উত্তেজনার মাঝেও আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সম্পর্কের পুনর্গঠনে একটি নতুন ‘সমঝোতার পথ’ খুলে দিতে পারে বলে মনে করছেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান।
Manual4 Ad Code
অনলাইন ফরেন পলিসিতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে আটলান্টিক কাউন্সিলের এই সিনিয়র ফেলো উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘদিনের তিক্ততা ঝেড়ে ফেলে ভারত এখন বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য সরকারের প্রতি নতুন ধরনের ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
Manual1 Ad Code
বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা এবং ঢাকায় জানাজায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতি দিল্লির এই কৌশলগত পরিবর্তনের স্পষ্ট ইঙ্গিত। কুগেলম্যানের মতে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের জোট ভেঙে বেরিয়ে আসায় বিএনপি এখন দিল্লির কাছে তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়, যা বর্তমানে ক্রিকেটের ময়দান পর্যন্ত গড়িয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে এবং বাংলাদেশ জাতীয় দল ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
কুগেলম্যান তার বিশ্লেষণে দেখিয়েছেন, একদিকে বাংলাদেশিরা বিশ্বাস করেন ভারত দীর্ঘদিন ধরে তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে, অন্যদিকে ভারতীয়দের ধারণা হাসিনাবিহীন বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের উত্থান ঘটছে। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানানো ঢাকার অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে, বিশেষ করে যখন বাংলাদেশি আদালত তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে।
দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতা এই সম্পর্কের উন্নয়নের পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশে প্রভাবশালী ইসলামপন্থী দলগুলো ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরোধী, যা নতুন সরকারের রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত করতে পারে।
অন্যদিকে, ভারতে সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ ও বাংলাদেশে কিছু মানবাধিকার কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা দিল্লির দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও কঠোর করেছে। তবে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের জাতীয় ঐক্যের ডাক এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার পরোক্ষ ইঙ্গিত ভারতকে আশাবাদী করছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও স্পষ্ট করেছেন, ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক হবে কেবল ‘সমঅধিকারভিত্তিক’।
পরিশেষে কুগেলম্যান মনে করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দুই দেশের জন্য সম্পর্কের বরফ গলানোর এক বড় সুযোগ। তবে এই পথ তখনই সুগম হবে যখন উভয় পক্ষ রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আপস করতে সম্মত হবে।
ভারত ইতিমধ্যে জানিয়েছে তারা বাংলাদেশে নির্বাচিত যেকোনো সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তাই সম্পর্কের এই পুনর্গঠন নির্ভর করছে দিল্লি ও ঢাকার আগামী দিনের নেতৃত্বের সাহসিকতা ও বাস্তবমুখী কূটনীতির ওপর। দুই দেশের সাধারণ মানুষের আবেগ ও রাজনৈতিক বাস্তবতাকে সমন্বয় করে একটি স্থিতিশীল ও মর্যাদাশীল সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।