বাবা-মায়েদের খুব পরিচিত একটি অভিযোগ শিশুরা হোমওয়ার্ক করতে চায় না। তাই হোমওয়ার্ক নিয়ে অভিভাবকদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও কৌশলে সহজে এবং সময়মতো হোমওয়ার্ক শেষ করা সম্ভব।
Manual6 Ad Code
নিয়মিত হোমওয়ার্ক করার অভ্যাস শিশুর জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাদের মধ্য গুছিয়ে কাজ করার অভ্যাস গড়ে ওঠে, নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলাবোধ বাড়ে। এছাড়া হোমওয়ার্ক শিশুর আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সমস্যা সমাধানের কৌশল শেখায়।
চলুন, প্রতিদিনের হোমওয়ার্ক সামলাতে সাহায্য করবে এমন কয়েকটি কার্যকর উপায় জেনে নিই।
অ্যাসাইনমেন্টে ভারসাম্য রাখা
শিশুকে যে অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। অনেকটা একটি ভালো খাবারের মতো, যার শুরুতে হালকা কিছু, তারপর মূল খাবার, শেষে সহজ ও মজাদার অংশ থাকে।
হোমওয়ার্কের ক্ষেত্রেও একইভাবে শিশুকে প্রথমে করণীয় কাজগুলোর তালিকা করতে শেখান। তারপর তালিকা থেকে তুলনামূলক সহজ কাজ আগে করতে দিন। এতে কাজের গতি তৈরি হবে।
এরপর সবচেয়ে কঠিন কাজটি করতে উৎসাহ দিন। কারণ তখন মনোবল ও মনোযোগ বেশি থাকে। আর সবচেয়ে সহজ কাজগুলো রাখুন শেষে। দেরি হয়ে গেলে, পর দিন সকালে করার সুযোগ রাখতে পারেন।
আপনার সন্তান যদি একাই হোমওয়ার্ক করে, তাহলে তাকে বলে দিন—কোনো কিছু শুরুর আগে পরিকল্পনা করলে অনেক সহজ হয়ে যায়।
নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করুন
পরিকল্পনার পর সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো সঠিক পরিবেশ তৈরি এবং নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করা। প্রতিদিন একই সময়ে, একই জায়গায় হোমওয়ার্ক করার রুটিন তৈরি করুন। সেটা ডাইনিং টেবিল, পড়ার টেবিল বা নির্দিষ্ট যেকোনো জায়গা হতে পারে।
হোমওয়ার্কের সময় প্রয়োজনীয় বই–খাতা, পেন্সিল, রাবার, এক গ্লাস পানি হাতের কাছে রাখুন। এতে ‘শুরু করতে পারছি না’ এ ধরনের অজুহাতের প্রবণতা কমে যায়।
বিরতি নিন, আগ্রহ তৈরি করুন
স্কুল থেকে ফেরার সঙ্গে সঙ্গে হোমওয়ার্ক করাবেন না। বরং তাকে আধা ঘণ্টা বাইরে খেলাধুলার সুযোগ দিন, দৌড়ঝাঁপ বা হালকা বিশ্রাম নিতে বলুন। এছাড়া হালকা ঘুমও ভালো উপকারী হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সামান্য শারীরিক কসরত বা ব্যায়ামের পর শিশুরা পড়ালেখায় ভালো মনোযোগ দিতে পারে। আর সামান্য ঘুম স্মৃতিশক্তি বাড়ায়।
Manual2 Ad Code
তবে সময়সীমা ঠিক করে দিন। এক্ষেত্রে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টাই যথেষ্ট। এরপর স্বাস্থ্যকর কিন্তু মজার নাস্তা দিয়ে আবার পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনুন।
Manual4 Ad Code
মনোযোগ দিয়ে কাজ করা
সন্তানের হোমওয়ার্কের সময় কোনো ধরনের বিরক্তি তৈরি করতে পারে এমন ব্যাপারগুলো এড়িয়ে চলুন। এছাড়া আপনি নিজের কাজগুলোও মনোযোগ দিয়ে করুন। কারণ শিশুরা দেখে শেখে। ওরা যদি দেখে আপনি রান্নার সময় টিভি দেখেন ও মোবাইলে কথা বলেন, তাহলে ভিন্ন কিছু শিখবে। মনে করবে, কম মনোযোগ দিয়ে সব কাজ করা যায়।
তাই আগে নিজে মনোযোগ দিয়ে কাজ করে ভালো উদাহরণ তৈরি করুন। হোমওয়ার্কের সময় টিভি বন্ধ, ভিডিও গেম বন্ধ ও মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকুন। পুরো পরিবার এসব থেকে দূরে থাকলে আরও ভালো।
প্রশংসা করুন
কোনো কিছু শুরু করা যেমন কঠিন, একইভাবে শেষ পর্যন্ত আগ্রহ ধরে রাখাও কঠিন। তাই সন্তান হোমওয়ার্ক শেষ করলে প্রশংসা করুন। কোনো ভুল করলে সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনা করার দরকার নেই। বরং আপনি বলতে পারেন, ‘দেখো, তোমার হাতের লেখা কত সুন্দর হয়েছে।’ ‘এবার তুমি নিজেই উত্তর বের করতে পেরেছ।’ কিংবা বলতে পারেন, ‘আগের পড়াগুলো তুমি ভালোভাবে মনে রাখতে পেরেছ।’
Manual1 Ad Code
গড়পড়তা ‘ভালো করেছ’ না বলে, নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে কথা বলুন। তাতে শিশু বুঝবে, সাফল্য মানে নিজের ছোট ছোট উন্নতি।
ঝামেলার জন্য প্রস্তুত থাকা
সব সময় সব কাজ সহজে করা যায় না। তাই ভুল হবে, ভুল থেকে হতাশা আসবে এবং শিশু এ নিয়ে ঝামেলা করবে—এটা খুব স্বাভাবিক। এ সময় শিশু জিদ করে ও হঠাৎ রেগে যায়। তখন হোমওয়ার্ক হয়ে ওঠে ভয়ংকর এক দায়িত্ব। সুতরাং এ ধরনের ঝামেলার জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত থাকুন। তাহলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হবে।