আজ শুক্রবার, ১৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বগি লাইনচ্যুত: ১২ ঘণ্টা বন্ধ চট্টগ্রাম–সিলেট রুট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

editor
প্রকাশিত জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ণ
বগি লাইনচ্যুত: ১২ ঘণ্টা বন্ধ চট্টগ্রাম–সিলেট রুট, চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা

Manual4 Ad Code
স্বপন কুমার সিং :
কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার জংশনের অদূরে দৌলতকান্দি ও ভৈরব স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় ঢাকাগামী চিটাগাং মেইল ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রাম–সিলেট রুটে প্রায় ১২ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দুই রুটেই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ভৈরব বাজার জংশন থেকে প্রায় ১৫০ মিটার দূরে দুর্ঘটনাটি ঘটে। চিটাগাং মেইল ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ইঞ্জিনের পর চতুর্থ কোচের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। ফলে ওই অংশের আপ ও ডাউন—উভয় লাইনই বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সকাল ৭টার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া রেলস্টেশন থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ উদ্ধার কার্যক্রম শেষে দুপুরের দিকে ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
একের পর এক ট্রেনে বিলম্ব লাইনচ্যুতির সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া ও ঢাকাগামী একাধিক ট্রেনে।
ঢাকা থেকে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে আসা পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটির সিলেটে পৌঁছানোর নির্ধারিত সময় ছিল দুপুর ১টা। তবে দুর্ঘটনা ও পরবর্তী জটিলতায় ট্রেনটি রাত সাড়ে ১০টায় সিলেটে পৌঁছায়, ফলে প্রায় ৯ ঘণ্টা বিলম্ব হয়।
এছাড়া পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভৈরব অতিক্রম করার পর আবারও ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। পরে শায়েস্তাগঞ্জ স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার পর বাহুবল উপজেলার রশিদপুর পাহাড় এলাকায় ফের ইঞ্জিন বিকল হয়। প্রায় এক ঘণ্টা আটকে থাকার পর ইঞ্জিন সচল হলে ট্রেনটি পুনরায় সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এতে পারাবত ট্রেনটি দু’দফা বিলম্বের শিকার হয়।
অন্যদিকে, ঢাকা থেকে বিকেল ৩টায় ছাড়ার কথা থাকা কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৭টায়। ট্রেনটির সিলেটে পৌঁছানোর নির্ধারিত সময় ছিল রাত ৯টা ৩০ মিনিট, তবে তা পৌঁছাবে রাত ২টার দিকে, অর্থাৎ প্রায় ৫ ঘণ্টা বিলম্বে।
যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে শায়েস্তাগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার লিটন চন্দ্র দে জানান, লাইনচ্যুতির কারণে সিলেট ও চট্টগ্রাম রুটে একাধিক ট্রেন দীর্ঘ সময় আটকে পড়ে। এতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে।
দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রী স্টেশনেই অপেক্ষা করেন, আবার কেউ কেউ গভীর রাতে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাধ্য হন। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও নারী যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল সবচেয়ে বেশি।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার কাজ শেষে আপাতত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।