আজ বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি সই,পাল্টা শুল্ক কমলো

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি সই,পাল্টা শুল্ক কমলো

Manual2 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

Manual1 Ad Code

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্কহার ১ শতাংশ কমে ১৯ শতাংশে নেমে এসেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক দেশটিতে রপ্তানি করলে কোনো পাল্টা শুল্ক দিতে হবে না।

Manual5 Ad Code

বাংলাদেশ সময় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারী) রাত ১০টায় চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

Manual4 Ad Code

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার স্বাক্ষর করেন। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের পরপরই এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামীকাল মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তির সার্বিক দিক নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিফিং করা হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, সার্বিকভাবে পাল্টা শুল্ক ১ শতাংশ কমার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা তুলা ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি পোশাক যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে কোনো পাল্টা শুল্ক আরোপ হবে না।

Manual4 Ad Code

চুক্তির এই সুবিধাকে বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ রপ্তানিকারকেরা। যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হা–মীম গ্রুপ।

চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে হা–মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ বলেন, ‘এই চুক্তির ফলে পাওয়া সুবিধা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক। আমরা যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তুলা আমদানি করি। এখন যুক্তরাষ্ট্রের তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে পাল্টা শুল্ক না থাকায় সেই আমদানি আরও বাড়বে বলে আশা করছি। এতে যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের রপ্তানিও বাড়বে।’

ওয়াশিংটন ডিসিতে স্বাক্ষর হওয়া এ চুক্তি উপলক্ষে শুরুতে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা সেখানে যাননি। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বাংলাদেশ থেকে ভার্চুয়ালি চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ সহকারী লুৎফে সিদ্দিকীও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডব্লিউটিও অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। দলের অন্য সদস্যরা হলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দুই যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র সহকারী সচিব শেখ শামসুল আরেফীন এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কমিশনার রইছ উদ্দিন খান।

চুক্তি নিয়ে সতর্ক মত দিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, চুক্তিতে কী কী শর্ত যুক্ত রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে এসে এমন চুক্তি করা কতটা যৌক্তিক, তা পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাপ্ত সুবিধার বিপরীতে বাংলাদেশকে কী ধরনের অঙ্গীকার বা শর্ত পূরণ করতে হবে, তা না জানা গেলে এই চুক্তিতে দেশ কতটা লাভবান হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল ১০০টি দেশের ওপর বিভিন্ন হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। শুরুতে বাংলাদেশের জন্য পাল্টা শুল্কহার নির্ধারণ করা হয় ৩৭ শতাংশ। পরে শুল্ক কার্যকর তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।

২০২৫ সালের ৭ জুলাই এই হার কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। এরপর আরও দর-কষাকষির পর গত বছরের ২ আগস্ট পাল্টা শুল্কহার কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়, যা ৭ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়। পাল্টা শুল্ক আরোপের আগে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক কার্যকর ছিল। ফলে এক পর্যায়ে মোট শুল্কের বোঝা দাঁড়িয়েছিল ৩৫ শতাংশে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ রপ্তানি করে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য, আর আমদানি করে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। বাণিজ্য ঘাটতি বাংলাদেশের অনুকূলে থাকলেও তা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম, সয়াবিন তেল, ভুট্টা, তুলাসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য, উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি বাড়ানো হয়েছে।