আজ শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১লা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলায় যুবলীগের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

editor
প্রকাশিত ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ণ
ভোলায় যুবলীগের নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক:

ভোলার চরফ্যাশনে আবদুর রহিম নামে যুবলীগের এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার রাত ১০টার দিকে শশীভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কলেরহাট রাস্তার মাথায় এ ঘটনা ঘটে।

Manual5 Ad Code

নিহত আবদুর রহিম (৪৫) রসুলপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত আখতারুজ্জামানের ছেলে এবং ওই ওয়ার্ডের যুবলীগের আহ্বায়ক। তাকে হত্যার আগের দিন তার ছেলেকে পিটিয়ে আহত করা হয়। এ ঘটনায় জড়িতরা ভোলা-৪ আসনে (মনপুরা ও চরফ্যাশন উপজেলা) বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম নয়নের অনুসারী বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

শশীভূষণ থানা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. ফারুক হোসেন বলেন, ‌‌‌‘আবদুর রহিম ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের আহ্বায়ক। হত্যার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। কারা হত্যা করেছে, তা সবারই জানা আছে।’

পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, আবদুর রহিমের পরিবারের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তারা সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা নাজিম উদ্দিন আলমের অনুসারী। কিন্তু ভোলা-৪ আসনে এবারের নির্বাচনে তিনি দলের মনোনয়ন চেয়েও পাননি। বিএনপির প্রার্থী হয়ে আসনটিতে জয় পেয়েছেন নুরুল ইসলাম। স্থানীয় বিএনপিতে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে দীর্ঘদিন।

আবদুর রহিমের ভাই মফিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বাড়ির সবাই বিএনপির অনুসারী। আমার বিরুদ্ধে ১৭টি মামলা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। তবে আমার ছোট ভাই আবদুর রহিম আওয়ামী লীগকে পছন্দ করতো, কিন্তু সক্রিয় না। সে মাটি কাটার কাজ করে, গাইগিরস্থি করে আর ছাগল পালন করে সংসার চালাতো।’

স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের আগের দুই রাতে জোর করে আবদুর রহিমের দুটি খাসি জবাই করে খেয়ে ফেলেন আমজাদ হোসেন, বিল্লাল হোসেন, সম্রাটসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন। তারা ভোলা-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলামের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। খাসি খাওয়ার প্রতিবাদ করলে প্রথমে আবদুর রহিমের ছেলে আমির হোসেনকে গত শুক্রবার রাতে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তার মুখের হাড় ও চোয়াল ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা ঢাকায় পাঠানোর পরামর্শ দেন। ছেলেকে নিয়ে বর্তমানে ঢাকায় আছেন আমির হোসেনের স্ত্রী। এ ঘটনায় গতকাল আবদুর ‘ছাগলখেকোদের’ গালাগাল করলে রাতের বেলা তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

আবদুর রহিমের মেয়ে বিবি রহিমা সাংবাদিকদের জানান, গতকাল রাতে তার বাবা কলঘাটা রাস্তার মাথার দোকানে চা পান করতে যান। চা পান করে ১০টার দিকে ফিরছিলেন। এ সময় কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

Manual3 Ad Code

বিবি রহিমা বলেন, ‘বাড়ির উত্তরে আসার পর সন্ত্রাসীরা আমার বাবার ডান ও বাঁ কাঁধ বরাবর গলায় দুটি এবং মাথায় কপাল বরাবর আরেকটি কোপ দেয়। বাবা আল্লাগো বলে চিৎকার দেয়। আমরা সবাই দৌড়ে এসেছি বাড়ি থেকে। আইসা দেখি বিল্লাল হোসেন নতুন রাস্তা দিয়ে দৌড়াচ্ছে। আমার বাবাকে রাস্তার কিনারে কচুরিপানার মধ্যে ফেলে চলে যাচ্ছে। আমি গায়ের ওড়না দিয়ে বাবার গলা পেঁচিয়ে চিৎকার করতে থাকি, আমার বাবারে উদ্ধার করেন, আমার বাবারে হাসপাতাল নিতে হবে। কেউ আসেনি। পরে আমার চাচাতো ভাইবোনেরা মিলে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে নিলে ডাক্তার বলেন মারা গেছেন।’

Manual8 Ad Code

এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক কামাল গোলজার বলেন, ‘এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপি আওয়ামী লীগের কোনও যোগসাজশ নেই। মাদক বিক্রি নিয়ে কোন্দলের জেরে এটি ঘটেছে।’

শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আবদুর রহিম একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতেন। খাসি খাওয়া ও মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিউবিউন

Manual5 Ad Code