দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রাঘাতে এক দিনে প্রাণ গেল ৯ জনের
দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রাঘাতে এক দিনে প্রাণ গেল ৯ জনের
editor
প্রকাশিত মে ২৩, ২০২৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ণ
Manual7 Ad Code
অনলাইন ডেস্ক
দেশের বিভিন্ন জেলায় শুক্রবার (২২ মে) বিচ্ছিন্ন বজ্রবৃষ্টি হয়েছে। এসময় বজ্রাঘাতে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
একই সময়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্যাপসা গরমে অস্বস্তি বেড়েছে জনজীবনে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী আরও চার থেকে পাঁচ দিন এমন গরম ও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টির পরিস্থিতি থাকতে পারে।
রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কিছু এলাকায় শুক্রবার বজ্রসহ বৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
আম কুড়াতে গিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গিধনিপাড়া (গোরস্থানপাড়া) গ্রামের মো. বিশুর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৫১), শাহজাহানপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাকিমপুর গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে নির্মাণ শ্রমিক আনারুল ইসলাম (৩৬) ও শিবগঞ্জের পাঁকা ইউনিয়নের বাবুপুর চালকিপাড়া গ্রামের মোহবুল ইসলামের ছেলে কৃষক আব্দুল মালেক (৪০) জমিতে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মারা যান।
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে নিহত হন কৃষক ইদ্রিস আলী ফকির (৬৫)। ভোলার লালমোহনে বজ্রপাতে প্রাণ হারায় পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ইয়ামিন (১১)।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে চা শ্রমিক স্বপন মুণ্ডা (২৩) এবং রাজনগরে হাওরে ধান কাটতে থাকা কৃষক তালেব মিয়া (৪০) বজ্রপাতে মারা যান।
Manual6 Ad Code
নেত্রকোনার আটপাড়ায় নিহত হন সোলায়মান মিয়া (২২)। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে বজ্রপাতে মারা যান ফয়সাল বেপারী (৩৫)। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় বিদ্যুৎস্পর্শে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন হৃদয় হোসেন (২২) ও আশরাফ আলী (২৭)।
এদিকে তাপপ্রবাহের বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, শুক্রবার দেশের ১৩ জেলায় মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে।
Manual2 Ad Code
এর মধ্যে রাজশাহী ও বাগেরহাটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সাতক্ষীরায় ৩৬ দশমিক ৮, পটুয়াখালীতে ৩৬ দশমিক ৭, যশোর, ফেনী ও বান্দরবানে ৩৬ দশমিক ৬, নোয়াখালীতে ৩৬ দশমিক ৫ এবং মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় বাগেরহাটের মোংলা ও লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
Manual8 Ad Code
রাজধানীতেও গরমের তীব্রতা ছিল বেশি। সকাল থেকে আকাশ মেঘলা থাকলেও দুপুরের পর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাবে, ঢাকায় ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। তবে বৃষ্টির পরও কমেনি ভ্যাপসা গরম। বৃহস্পতিবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, শুক্রবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে।
Manual3 Ad Code
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে। আগামী চার থেকে পাঁচ দিন এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী বৃহস্পতিবারের পর থেকে তাপমাত্রা কমতে শুরু করতে পারে। তাপপ্রবাহের পাশাপাশি আগামী দুদিন প্রায় সব বিভাগেই বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। যার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের প্রায় ৭৫ শতাংশ এলাকাজুড়ে বৃষ্টি হতে পারে। তিনি আরও জানান, বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। তাই বিশেষ করে খোলা মাঠ, জলাশয় বা উঁচু স্থানে অবস্থানকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।