“আইভী জামিনে থাকাবস্থায় তাঁর স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন কিন্তু নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কোনো দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।”
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীর মুক্তির পর তার বাড়ির সামনে নজরদারি বাড়িয়েছে পুলিশ। স্থাপন করা হয়েছে আধুনিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাও। এ ছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশের টহলও রয়েছে সেখানে।
পুলিশ বলছে, তিনবারের সাবেক এই সিটি মেয়রের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন কি-না সে বিষয়ে খোঁজখবর রাখতেই এই বাড়তি নজরদারি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যা ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে করা ১২টি মামলায় প্রায় ১৩ মাস কারাভোগের পর বুধবার রাত ১০টার দিকে মুক্তি পান আইভীর। গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে রাত সাড়ে ১২টায় নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে নিজ পৈতৃক বাড়ি ‘চুনকা কুটিরে’ ফেরেন। ফেরার পথে তিনি নগরীর মাসদাইরে কেন্দ্রীয় সিটি কবরস্থানে বাবা, মা ও ভাইয়ের খবর জিয়ারত করেন।
তারা মুক্তি ও বাড়ি ফেরাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ শহরের কয়েকটি পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিপুল পুলিশ রাতভর বাড়ির সামনেও অবস্থান নেয়। রাতেই পুলিশের তত্ত্বাবধানে আইভীর বাড়ির সামনে ও আশেপাশের সড়কে সিসি ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয় বলে জানান স্থানীয়রা।
Manual2 Ad Code
Manual6 Ad Code
সাবেক এ মেয়রের বাড়ির পাশের চা দোকানি মো. সুজন বলেন, এসব ক্যামেরা এ এলাকায় আগে ছিল না। রাতে এগুলো স্থাপন করা হয়েছে।
জানতে চাইলে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী বৃহস্পতিবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী। তিনি জামিনে মুক্তি পেয়ে তার বাড়িতে ফিরেছেন।
“যেহেতু তিনি একজন সাবেক মেয়র তার নিরাপত্তার ব্যবস্থার বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি। তাছাড়া, উনি নিজে নিষিদ্ধ সংগঠনের (কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ) কোনও কার্যক্রমে যাতে জড়িয়ে না পড়েন কিংবা তার পক্ষে কেউ যাতে উসকে না দেয় সেটিও আমাদের নজরদারিতে আছে।”
Manual7 Ad Code
এজন্য সাদা পোশাকে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “আইভী জামিনে থাকাবস্থায় তার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারবেন কিন্তু নিষিদ্ধ সংগঠনের ব্যানারে কোনো দলীয় কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না। সেক্ষেত্রে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সার্বিক বিষয়েই আমাদের নজরদারি থাকবে।”
আইভীর বাড়ির সামনের সড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করার কথাও নিশ্চিত করে তিনি বলেন, “তার বাড়িকে কেন্দ্র করেই করেছি ব্যাপারটা এমন নয়। নারায়ণগঞ্জকে অপরাধমুক্ত করতে অলিগলিতে সিসি ক্যামেরার আওতায়ভুক্ত করার প্ল্যান আমাদের আছে। পুরো নারায়ণগঞ্জে ২০০০ ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।”
আইভীর মুক্তির পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে তার আত্মীয় ও ঘনিষ্ঠ জনরা চুনকা কুটিরে আসতে শুরু করেন। তবে আইভীর পরিবারের সদস্যরা বলছেন, প্রশাসনিক চাপ ও নিরাপত্তার কারণে বাড়িতে আসা লোকজনের সংখ্যা সীমিত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এরপরও বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা আইভীর খোঁজখবর নিতে আসছেন।
সেলিনা হায়াৎ আইভী ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সেবার তিনি ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থীকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। পরে ২০১১ সালে পৌরসভা নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে উন্নীত হলে প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০১৬ ও ২০২২ সালেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পান আইভী।
২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১৮ অগাস্ট সারাদেশের সিটি করপোরেশনের মেয়রদের সঙ্গে আইভীকেও দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।