আজ মঙ্গলবার, ১৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিয়েছে পুলিশ

editor
প্রকাশিত জুলাই ২৯, ২০২৬, ০৬:১৪ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিয়েছে পুলিশ

Manual7 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে জেলার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা। ছাত্রদলের হামলার প্রতিবাদে ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই হবিগঞ্জে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। তবে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যাখ্যাত এলাকায় তাদের গাড়িবহর ট্রাক দিয়ে আটকে দিয়েছে পুলিশ।

বুধবার (২৯ জুলাই) বিকাল পৌনে ৪টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর হবিগঞ্জের পথে রওনা হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে চা-কন্যা এলাকায় একটি ট্রাক সড়কের ওপর আড়াআড়ি করে দিয়ে তাদের গাড়িবহর আটকে দেয় পুলিশ।

সেখানে এনসিপি আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু রয়েছেন।

হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে ট্রাক দিয়ে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিয়েছে পুলিশ

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, এনসিপি নেতাদের বহরে প্রায় ১০টি মাইক্রোবাস রয়েছে। অপরদিকে চা-কন্যা এলাকায় শতাধিক পুলিশ মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে আটকে রেখেছেন। এরপর গাড়ি থেকে নেমে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন এনসিপি নেতারা। তবে ১৪৪ ধারার মধ্যে পুলিশ এনসিপি নেতাদের হবিগঞ্জে যেতে নিষেধ করেছেন। অপরদিকে এনসিপি নেতারা পুলিশের বাধা তুলে নেওয়ার কথা বলছেন।

এনসিপির মিডিয়া উপকমিটির সদস্য ইয়াসির আরাফাত বলেন, ‘মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ যাওয়ার পথে এনসিপি নেতৃবৃন্দের গাড়িবহর একটি ব্রিজের ওপর ট্রাক দিয়ে আটকে দিয়েছে পুলিশ। সেখানে অবস্থান করছেন দলের নেতাকর্মীরা।’

এর আগে মঙ্গলবার কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ শহরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ঘটনা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে টান টান উত্তেজনার মধ্যে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।

Manual8 Ad Code

Manual6 Ad Code

এনসিপি নেতৃবৃন্দের গাড়িবহর একটি ব্রিজের ওপর ট্রাক দিয়ে আটকে দিয়েছে পুলিশ। সেখানে অবস্থান করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

হবিগঞ্জের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেছেন, তারা সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় পুলিশ রয়েছেন। তারা সতর্ক রয়েছেন।

Manual5 Ad Code

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে এনসিপির নেতাদের বহনকারী গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় আহত হন দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হামলা থেকে বাঁচতে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। রাতে তারা মৌলভীবাজারে অবস্থান করেন। এর মধ্যে বুধবার এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলায় দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িক স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শহরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।

Manual5 Ad Code

হবিগঞ্জে এনসিপি ও ছাত্রদল-যুবদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণাহবিগঞ্জে এনসিপি ও ছাত্রদল-যুবদলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘোষণা তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিবিউন