সড়কে চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পুলিশি বাধার কারণে হবিগঞ্জে প্রবেশ করতে পারেননি এনসিপির নেতাকর্মীরা। পরে হামলার ঘটনায় মামলার অভিযোগ দিয়ে তারা ফের মৌলভীবাজারে চলে যান।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকাল ৫টা থেকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়ি বহর বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির পাশে মুছাই এলাকায় আটকে রাখে পুলিশ। এ সময় এনসিপি নেতারা হবিগঞ্জের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন।
কিন্তু পুলিশ হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি থাকার কারণে তাদের শহরে প্রবেশ করতে দেয়নি।
Manual3 Ad Code
এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, “নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাতে তারা কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় মামলার অভিযোগ দিয়েছেন।”
অভিযোগে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম বলা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অভিযোগে বাদী হয়েছেন জেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তানভীর রুয়েল।
Manual6 Ad Code
পরে তারা গাড়ি বহর নিয়ে মৌলভীবাজারে পথে রওনা দেন।
মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খালেদ হাসান বলেন, “রাতে এনসিপি নেতারা মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে অবস্থান করবেন। কাল সিলেটে কর্মসূচি রয়েছে। সকালে তারা সিলেটে রওনা হবেন।”
Manual7 Ad Code
মঙ্গলবার কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ শহরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপি নেতারা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।
এ ঘটনা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে টান টান উত্তেজনার মধ্যে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন।
পুলিশ জানায়, হবিগঞ্জে হামলার সময় সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় আহত হন দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় দলটির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী হামলা থেকে বাঁচতে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। রাতে তারা মৌলভীবাজারে অবস্থান করেন।
এর মধ্যে বুধবার এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজার জেলায় দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িক স্থগিত করে হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। অন্যদিকে জেলা ছাত্রদল ও বিএনপির পৃথক কর্মসূচির ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শহরে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বুধবার বিকাল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ থেকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়ির বহর হবিগঞ্জের পথে রওনা হয়। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তাদের শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় আটকে দেওয়া হয়।
প্রায় আধাঘণ্টা সেখানে আটকে থাকার পর বিকাল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে এনসিপি নেতাদের গাড়িবহর ফের হবিগঞ্জের পথে রওনা দেয়।
বহরে এনসিপি আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতু ছিলেন।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, “বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে আমাদের গাড়িবহর পুলিশ আটকে রাখে। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টায় শুধু মামলা দায়ের করতে হবিগঞ্জ থানায় যেতে চাইলেও পুলিশ বাধা দেয়।
“এক পর্যায়ে রাত ৮টায় বাহুবলের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে মামলা দিতে বাধ্য হই। পুলিশ, বিএনপি সরকার ও তাদের নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করতে আমাদের শান্তিপুর্ণ কর্মসূচি পালনে বাধা দিয়েছে।”
Manual8 Ad Code
এদিকে, কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির সামনেই বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
এ ছাড়া বিকালে হবিগঞ্জ শহরে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা করে জেলা যুবদল।
সার্বিক বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ বলেন, “এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। এনসিপি নেতারা হবিগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে সভা করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাদের নিরাপত্তা ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কামাইছড়ায় অবস্থান নেয়।”