আজ শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক

editor
প্রকাশিত জুন ২৪, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা পোশাক কারখানা, একসঙ্গে বেকার ১৮০০ শ্রমিক

Manual5 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণ দেখিয়ে গাজীপুরের বোর্ডবাজার এলাকার ‘ইউনিক ডিজাইনার্স অ্যান্ড ইউনিক ওয়াশিং লিমিটেড’ নামের একটি পোশাক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে কারখানাটির ১ হাজার ৮০০ শ্রমিক-কর্মচারী হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়ায় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে গাজীপুর শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ খলিলুর রহমান কারখানাটি বন্ধ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত ১৬ জুন থেকে মালিকপক্ষ আর্থিক সংকটের কারণে কারখানাটি স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। তবে শ্রমিক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন এবং সার্ভিস বেনিফিটসহ অন্যান্য পাওনা বিধি মোতাবেক পরিশোধ করা হবে।

Manual5 Ad Code

এদিকে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে একটি ত্রিপক্ষীয় আপস-মীমাংসা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রবিবার (২১ জুন) সকালে গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন। বৈঠকে মালিকপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে শিল্প পুলিশ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর (ডাইফ) এবং শ্রম অধিদফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মালিকপক্ষের পক্ষে অংশ নেন প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদ আহমেদ। এ ছাড়া বিভিন্ন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শ্রমিকদের এপ্রিল মাসের বাকি ১৫ দিনের এবং মে মাসের ১৮ দিনের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। একইসঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও সব বকেয়া বেতন দেওয়া হবে। চাকরি না থাকায় শ্রমিকদের ৩০ দিনের বেসিক (মূল) বেতনের সমপরিমাণ অর্থ নোটিশ-পে হিসেবে দেওয়া হবে। চাকরির প্রতি বছরের জন্য ২০ দিনের বেসিক বেতন হারে সার্ভিস বেনিফিট দেওয়া হবে। এ ছাড়া প্রমাণ সাপেক্ষে মাতৃত্বকালীন সুবিধা, অর্জিত ছুটির অর্থ, পদত্যাগকারী শ্রমিকদের চাকরি থেকে অব্যাহতি বেনিফিট এবং বিভিন্ন তহবিলে জমাকৃত অর্থ পরিশোধ করা হবে। এসব পাওনা আগামী ২৭ জুলাই শ্রমিকদের একসঙ্গে পরিশোধ করার কথা রয়েছে।

Manual3 Ad Code

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের গাজীপুর মহানগর সভাপতি শফিউল আলম এই চুক্তি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘২১ জুনের এই চুক্তিটি মোটেও শ্রমিকবান্ধব হয়নি। শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ এখানে পুরোপুরি নিশ্চিত করা হয়নি। যার ফলে শত শত শ্রমিক তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের আগে বেতন-ভাতা ও বোনাস নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছিল, তা ত্রিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হয়। এরপরও মালিকপক্ষ কারখানা চালু না করে স্থায়ীভাবে বন্ধের পথ বেছে নিলো। এতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা শত শত শ্রমিক একসঙ্গে বেকার হয়ে পড়লেন। তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেলো।’

Manual7 Ad Code

এ অবস্থায় হঠাৎ চাকরি হারিয়ে সাধারণ শ্রমিকরা এখন দিশেহারা। গ্রামের বাড়িতে তাদের মা ও বোন রয়েছেন। তারাও তাদের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। হঠাৎ করে কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছেন তারা। শ্রমিকরা বলছেন, আগামী ২৭ জুলাই সব পাওনা পরিশোধ করার কথা আছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, ‘ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তের কথা জানান মালিকপক্ষ। তবে দেশের প্রচলিত বিধি মোতাবেক শ্রমিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব আইনগত পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া হবে বলে আমাদের এবং শ্রমিকদের আশ্বস্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।’

তথ্য সুএঃ বাংলা ট্রিবিউন

 

Manual2 Ad Code