দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের পর আবারও চালু হলো সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসানের পর আবারও চালু হলো সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট
editor
প্রকাশিত জুলাই ৬, ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ণ
Manual2 Ad Code
উৎফল বড়ুয়া, সিলেট
সিলেট-ম্যানচেস্টার সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালুর পর সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। সোমবার (৬ জুলাই) সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই রুট চালু থাকা নিশ্চিত করাসহ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী আফরোজা খান রিতা বলেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নির্দেশে আজকে এই ফ্লাইট এখানে এসে পৌঁছেছে। সিলেটবাসীর প্রতি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটা আলাদা সফট কর্নার আছে, এবং আমরাও সেই সফট কর্নারের মধ্যে চলে এসেছি।
তিনি জানান, প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য শুরু হওয়া এই সেবা ধারাবাহিকভাবে চালু থাকবে এবং যাত্রীসেবা আরও নিশ্চিত ও নির্ভরযোগ্য করার দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে।
সিলেট-ম্যানচেস্টার রুট ভবিষ্যতে আবার বন্ধ হয়ে যাবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে দৃঢ়তার সঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আমরা কোনো আন্দোলনও চাই না। আমরা চাই যে রুটটা চালু করেছি, সেটা চালুই থাকবে। আর সে ব্যাপারে আপনাদের সবার সহযোগিতাও লাগবে। আপনারা জানেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এটা চালু হয়েছে। সুতরাং এটা বন্ধ হওয়ার কোনো অবকাশ নেই।
ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে বিমান লিজ নিচ্ছি। এয়ারক্রাফট চলে এলে এটা বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আর থাকবে না।”
সিলেট-ম্যানচেস্টার ফ্লাইট চালুর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি ছিল একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টা—প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা এবং একজন উপদেষ্টা ও বাণিজ্যমন্ত্রীর সহযোগিতায় এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে।
হিথ্রো থেকে ঢাকা ও সিলেটের ভাড়ার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য (৭০০-৮০০ পাউন্ডের বিপরীতে ১২০০ পাউন্ড) নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা আমি যখন লন্ডনে গিয়েছিলাম, তখনও শুনেছি। এটা নিয়ে ইতিমধ্যে আমরা কাজ করছি। বিশেষ করে আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা যারা আছেন, তাদের একটু বেশি প্রায়োরিটি দিয়ে ভাড়া আরও কমানো যায় কিনা, সেদিকে কাজ করছি।
সিলেট-ঢাকা রুটে টিকিটের দাম ১০-১২ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়া এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “বিমান ভাড়া নিয়ে আমরা কাজ করছি। দীর্ঘদিনের একটা অব্যবস্থাপনা থেকে বের হয়ে আসতে আমাদের একটু সময় লাগবে। মধ্যবিত্তরা যাতে স্বস্তিতে ভ্রমণ করতে পারেন, আমরা সেদিকেও কাজ করছি।”
সিলেট-কক্সবাজার রুট বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মাননীয় বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যে আলাপ হয়েছে, এটা নিয়ে আমরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছি। আমরা চাচ্ছি যত দ্রুত সম্ভব এটা চালু করার চেষ্টা করব।
সিলেট বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্প (এক্সটেনশন ফেজ) কবে নাগাদ শেষ হবে এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এক্সটেনশনের কাজ চলছে, আপনারা ধরে নিতে পারেন ২০২৭ সালের দিকে আমরা হয়তো এটা হাতে পেয়ে যাব। এটা আন্তর্জাতিকভাবে আরও ফোকাসড হয়ে যাবে। আমাদের লক্ষ্য এটাকে বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া, কারণ এখানে আমাদের প্রবাসী ভাইয়েরা অনেক বেশি আসতে চান।
সিলেটে পর্যটন খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, আমরা শুধু বিমান যাত্রী আনা-নেওয়াই নয়, আমরা চাই টুরিজমটাও সিলেটে একটা ভালো পর্যায়ে নিয়ে যেতে। এখানে অনেক জায়গা আছে, যেটাকে টুরিজম হাব হিসেবে তৈরি করা যায়। আমরা সেভাবেই কাজ করছি।