আজ রবিবার, ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬–২০২৭’ উদযাপনের সমাপনী

editor
প্রকাশিত জুলাই ৫, ২০২৬, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
হবিগঞ্জে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬–২০২৭’ উদযাপনের সমাপনী

Manual3 Ad Code
স্বপন কুমার সিং, নিজস্ব প্রতিবেদক  :
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য, সংগীত ও মানবতাবাদী দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে হবিগঞ্জে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬–২০২৭’ উদযাপন কর্মসূচি শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জেলা প্রশাসন, হবিগঞ্জ ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির যৌথ আয়োজনে ২ থেকে ৪ জুলাই পর্যন্ত এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। তিন দিনজুড়ে আলোচনা সভা, নজরুলসংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য, রচনা, উপস্থিত বক্তৃতা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণ।
উদ্বোধনী দিনে (২ জুলাই) সচিবালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে একযোগে ‘নজরুল বর্ষ ২০২৬–২০২৭’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান, এমপি। এ সময় তিনি ‘নজরুল বর্ষ’-এর লোগো ও স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।
হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি. এম. সরফরাজ। তাঁর সঙ্গে জেলার নজরুল গবেষক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিল্পী ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চায় আত্মনিয়োগের আহ্বান জানান।
উৎসবের দ্বিতীয় দিনে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নজরুলসংগীত, আবৃত্তি, নৃত্য, রচনা, উপস্থিত বক্তৃতা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এসব প্রতিযোগিতার বিভিন্ন বিভাগে মোট ৪৬ জন শিক্ষার্থী বিজয়ী হয়।
দ্বিতীয় দিনের সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ, এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা, আদর্শ ও অসাম্প্রদায়িক মানবিক মূল্যবোধ আগামী প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। তাঁর সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন তরুণ সমাজকে দেশপ্রেম, সাম্য, মানবতা ও ন্যায়ের পথে অনুপ্রাণিত করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. জি. এম. সরফরাজ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা রফিক, অধ্যাপক জাহান আরা খাতুন, নজরুল একাডেমির সভাপতি তাহমিনা বেগম গিনি এবং জেলা জাসাসের সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাশ গুপ্ত।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপনায়ও ছিল বৈচিত্র্য। উদ্বোধনী দিনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রিয়াঙ্কা বর্মণ ও আফজল আহমেদ। দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সোহেলী শারমিন রনি ও তোফাজ্জল ইসলাম শাকিল। আর সমাপনী দিন (৪ জুলাই) অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী ফরিদা আক্তার চৌধুরী ও অজয় রায়।
সমাপনী দিনে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, নজরুলসংগীত, আবৃত্তি এবং অংশগ্রহণকারী শিল্পী ও অতিথিদের উপস্থিতিতে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরা এবং তাঁর সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া।