আজ শুক্রবার, ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৭শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থিয়াগো মেসিতে স্বপ্ন আর্জেন্টিনার

editor
প্রকাশিত জুলাই ২৪, ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ণ
থিয়াগো মেসিতে স্বপ্ন আর্জেন্টিনার

Manual1 Ad Code

অনলাইন ডেস্ক

Manual7 Ad Code

চার বছর আগে আর্জেন্টিনা যখন কাতার বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল, তখন সবাই ধরে নিয়েছিল সেটিই লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু বয়সকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে ৩৯ বছর বয়সেও উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলেন মেসি। স্পেনের কাছে হেরে রানার্সআপ হলেও সবুজগালিচায় মেসি ছিলেন ফুটবলের শিল্পী। ২০৩০ বিশ্বকাপে মেসির বয়স হবে ৪৩। এই বয়সে বিশ্বমঞ্চে তাঁকে না দেখার সম্ভাবনাই বেশি। তবে কিংবদন্তি মেসিকে না পেলেও আগামী বিশ্বকাপে তাঁর ছেলে থিয়াগোকে আকাশি-নীল জার্সিতে পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন আর্জেন্টাইনরা।

মেসির বড় ছেলে থিয়াগোর বর্তমান বয়স ১৩। তার এই বয়সের কারণেই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মধ্যে একটা গাণিতিক হিসাব বেশ নজর কেড়েছে, যা ভক্তদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ২০৩০ সালের আসরটি বিশ্বকাপের শতবর্ষপূর্তির আসর। ততদিনে রোজারিওতে জন্ম নেওয়া ফুটবলের মহাতারকা মেসির জ্যেষ্ঠ পুত্র থিয়াগো প্রাপ্তবয়স্ক হবে। ২০৩০ সালের নভেম্বরে পা দেবে ১৮ বছরে। তাই থিয়াগো মেসিকে নিয়ে স্বপ্নটা দেখছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীরা।

সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলা একটি গাণিতিক হিসাব নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে। সবচেয়ে আশাবাদী সমর্থকরা বলছেন, থিয়াগো যদি তার নৈপুণ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে খুব দ্রুত পেশাদার ফুটবলে পা রাখতে পারে, তবে জাতীয় দলে বাবার সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম বা মাঠ ভাগ করে নেওয়ার স্বপ্নের বাস্তবায়ন অসম্ভব কিছু নয়। ১৩ বছর বয়সী এই তরুণ ফুটবলার বর্তমানে ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমি থেকে ফুটবলের প্রথম পাঠ নিচ্ছে। ফ্লোরিডার এই একাডেমিতে তার পারফরম্যান্স অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছেন ভক্তরা, যারা এই মেসি পরিবারের রাজত্বকে আরও এগিয়ে যেতে দেখতে চান।

যদিও বার্সেলোনায় লিওনেল মেসির বর্ণিল সময়ের মধ্যেই থিয়াগোর জন্ম, তবুও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণ এই ফুটবলার নিজের স্পষ্ট অবস্থান বেশ কয়েকবার প্রকাশ করেছে। চাইলে স্পেনের জার্সিতে খেলতে পারে। তবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে একাধিক সাক্ষাৎকারে থিয়াগো নিজেই জোর দিয়ে বলেছে, বাবার পথ অনুসরণ করে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়াই তার একমাত্র লক্ষ্য। এককথায় বলা যায়, জাতীয় দলের হয়ে বাবার সঙ্গে একই দল বা মাঠে খেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে, যা ২০৩০ আসরকে কেন্দ্র করে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের সবচেয়ে বড় আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Manual1 Ad Code

মেসি পরিবারে ফুটবলের পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতি অগাধ ভালোবাসা দেখা যায়। তিন ভাই থিয়াগো, মাতেও ও চিরো– তিনজনেই তাদের শৈশবে ফুটবলের প্রাথমিক স্তরে খেলছে এবং অল্প বয়সেই নিজেদের প্রতিভার ঝলক দেখাচ্ছে।

Manual2 Ad Code

বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে থিয়াগো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকার (এমএলএস) ক্লাব ইন্টার মায়ামির যুব একাডেমিতে ফুটবল খেলছে এবং দলটির অনূর্ধ্ব-১৪ দলের হয়ে শিরোপাও জিতেছে। তবে ভক্ত থেকে শুরু করে ফুটবল বিশ্লেষকরা সবাই উচ্চপর্যায়ের ফুটবলের কঠিন বাস্তবতা সম্পর্কে সচেতন। তারা মানেন, তাদের বাবার অর্জিত কিংবদন্তিতুল্য উচ্চতায় পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন এক পরীক্ষা। সমর্থকদের উদ্দেশে কেবল একটি চমৎকার সম্ভাবনা উপভোগ করা, তরুণ থিয়াগোর ওপর তার ক্যারিয়ারের শুরুতেই কোনো অতিরিক্ত চাপ বা দায়িত্বের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া নয়। আপাতত সময়ই বলে দেবে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে আলবিসেলেস্তে সমর্থকদের এই রঙিন স্বপ্ন সত্যি হবে কিনা।

Manual7 Ad Code